পোস্টগুলি

জুন, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যদি কিছু দিতে চাও সুখ স্মৃতি দিয়ে যাও - রূপবালা সিংহ রায় // সেরা নতুন বাংলা গল্প‌ // নতুন বাংলা গল্প // মন ভালো করা বাংলা গল্প // মন ভালো করার গল্প।

ছবি
যদি কিছু দিতে চাও সুখ স্মৃতি দিয়ে যাও  রূপবালা সিংহ রায়...✍🏻 প্রত্যেকদিনের মত আজও জয়ী ছেলেকে নিয়ে পার্কে গিয়েছে । সারাদিনের সকল ক্লান্তি যেন দূর হয়ে যায় পার্কে এলে । মাথার উপর খোলা আকাশ আর মুক্ত বাতাস যেন মনটাকে শান্ত করে দেয়। ছেলে খেলছে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে। দু পাক হেঁটে এসে জয়ী বসলো একটা বেঞ্চে। হঠাৎই পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো কেমন আছো ? জয়ী উত্তর দিল- "ভালো আছি । আপনি কেমন আছেন মাসীমা?" ভালো আছি বলে বছর ষাটের ভদ্রমহিলা তার স্বামীর হাত ধরে হেঁটে চলে গেলন । বয়স বাড়ার কারণে মাসিমার কোমরে প্রচন্ড ব্যথা। একটু কুঁজো হয়েই হাঁটেন । পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত বেল্ট লাগানো । স্বামী-স্ত্রীর প্রতিদিনের মতো গল্প করতে করতে হাঁটছেন। দুজনের মুখেই হাসি আর অনর্গল কথা বলে চলেছেন তাঁরা । তাঁদের কথার যেন শেষই নেই ।যতক্ষণ পার্কে থাকেন কথা বলেই চলেন.... বর্তমানকে অতীত করে দিয়ে জয়ী চলে গেল ভবিষ্যতে। মাসিমার জায়গায় সে আর মেসোমশায়ের জায়গায় তার হাজবেন্ড অনিমেষ । অনিমেষ কি তাকে নিয়ে আসবে পার্কে হাঁটাতে ? যদিও বা আনে তারা গল্প করে একে অপরকে কি মাতিয়ে রাখতে পারবে ? দেখাশোনা করে বিয়ে তা...

কদর - রূপবালা সিংহ রায় // সেরা নতুন বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // মন ভালো করা বাংলা গল্প // মন ভালো করার গল্প।

কদর রূপবালা সিংহ রায়   "শুভ জন্মদিন সৌনক" - গোটা গোটা অক্ষরে লেখা হাতের লেখাটা চিনতে ভুল হল না সৌনকের। বড়ো চেনা যে এই হাতের লেখাটা। কিছুতেই ভুল হতে পারে না তার। ক্লাস এইটে প্রথম পরিচয় হয়েছিল এই হাতের লেখাটার সঙ্গে। বাবার কাজের সূত্রে কলকাতায় পোস্টিং হওয়ার পর ভুবেনশ্বর থেকে এখানে আসা তার। তারপর ভর্তি হওয়া কলকাতার নামকরা এক স্কুলে। ও যখন ভর্তি হলো তখন ইতিমধ্যে সেশনের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেছে। আর মাস দেড়েক পর  হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষা। অর্ধেকের বেশি সিলেবাস শেষ। তখন মাথায় হাত সৌনকের। একে নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ তার ওপর এখানকার কেউ আগের পড়া ঠিকঠাক দিতেই চায় না। কি করে পাশ করবে সে? যেখানে ভুবনেশ্বরে যে স্কুলে পড়তো সেখানে সে প্রতি বছর প্রথম হতো। শেষমেশ তার মা গিয়ে কথা বলেন ক্লাস টিচারের সঙ্গে। তারপর ম্যাম পুরো বিষয়টা জানতে পেরে পৃথাকেই বলেন সৌনককে আগের পড়াগুলো দিয়ে সাহায্য করার জন্য। যদিও পৃথা হাবে ভাবে বুঝিয়ে দিত সে দিতে নারাজ তবুও বাধ্য হচ্ছে দিতে। এমনি করে দিন যেতে যেতে দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর তা পরিণত হয় ভালোবাসায়। সবই ঠিকঠাক চল...

আমি হয়তো মানুষ নই __নির্মলেন্দু গুণ // Ami Hoyto Manush Noi ।

ছবি
  আমি হয়তো মানুষ নই __নির্মলেন্দু গুণ আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম, হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়, মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায় । আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি, গাছের মতো দাঁড়িয়ে থাকি। সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না, অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না । কী করে তাও বেঁচে থাকছি, ছবি আঁকছি, সকালবেলা, দুপুরবেলা অবাক করে সারাটা দিন বেঁচেই আছি আমার মতে । অবাক লাগে । আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষ হলে জুতো থাকতো, বাড়ি থাকতো, ঘর থাকতো, রাত্রিবেলায় ঘরের মধ্যে নারী থাকতো, পেটের পটে আমার কালো শিশু আঁকতো । আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষ হলে আকাশ দেখে হাসবো কেন ? মানুষগুলো অন্যরকম, হাত থাকবে,নাক থাকবে, তোমার মতো চোখ থাকবে, নিকেলমাখা কী সুন্দর চোখ থাকবে ভালোবাসার কথা দিলেই কথা রাখবে । মানুষ হলে উরুর মধ্যে দাগ থাকতো , বাবা থাকতো, বোন থাকতো, ভালোবাসার লোক থাকতো, হঠাৎ করে মরে যাবার ভয় থাকতো । আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষ হলে তোমাকে নিয়ে কবিতা লেখা আর হতো না, তোমাকে ছাড়া সারাটা রাত বেঁচে থাকাটা আর হতো না । মানুষগুলো সাপে কা"টলে দৌড়ে পালায় ; অ...

জয় জগন্নাথ - রূপবালা সিংহ রায় // নতুন বাংলা গল্প // Bengali Story ।

ছবি
জয় জগন্নাথ  রূপবালা সিংহ রায়  জমিদারিটা এখন না থাকলেও জমিদার বাড়ির খ্যাতিটা এখনো বর্তমান আছে শাস্ত্রী বাড়িতে। বসন্ত বাবুকে দেখলেই বোঝা যায় তাঁর গায়ে জমিদার বংশের রক্তই বইছে। তাঁর পোশাক-আশাক, আচার-ব্যবহার, চাল-চলনে তা স্পষ্ট। সেইসঙ্গে রয়েছে প্রচুর অর্থ ও জমিজমা। যা দিয়ে তাঁর পরবর্তী তিন পুরুষ হামেশাই বসে খেতে পারে। জমিদারিটা চলে যাওয়ার পর তাঁর দাদামশাই একটা ব্যবসা শুরু করেন। তারপর বাবামশাই সেটা দেখভাল করেন । এখন তাঁর পালা। তবুও তো কম বছর হলো না একাই সামলাচ্ছেন সবটা । আজকাল আর শরীরটাও সাথ দেয় না। ছেলে নেই তাঁর যে সে ব্যবসাটার হাল ধরবে। এত বড় বাড়ি, এত জমিজমা, ব্যবসা তাঁর অবর্তমানে কে সামলাবে? সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উধাও তাঁর। সন্তান বলতে রয়েছে একটা মেয়ে নাম ভার্গবী। তার আবার এসবের প্রতি আকর্ষণ খুব কম। সে এ বছর এম.এ. পরীক্ষা দিল। সে চায় চাকরি করতে। বারবার বলার সত্ত্বেও মেয়েকে বসাতে পারেননি ব্যবসার কাজে। তাঁর এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের এত কষ্টের অর্জিত ধন সম্পদ হেলায় নষ্ট হতে দিতে চান না তিনি। তাই একজন যোগ্য পাত্র খুঁজছেন যে তাঁর মেয়ের সাথে সাথে বিষয়-আসয়েরও খেয়াল র...

দিনের হিসাব - সুকুমার রায় // সুকুমার রায়ের কবিতা // সুকুমার রায়ের ছড়া // Sukumar Roy Poetry // Sukumar Roy Chora ।

ছবি
দিনের হিসাব  সুকুমার রায়   ভোর না হতে পাখিরা জোটে গানের চোটে ঘুমটি ছোটে- চোখ্‌টি খোলো, গাত্র তোলো আরে মোলো সকাল হলো। হায় কি দশা পড়্‌তে বসা অঙ্ক কষা, কলম ঘষা। দশটা হলে হট্টগোলে দৌড়ে চলে বই বগলে! স্কুলের পড়া বিষম তাড়া, কানটি নাড়া বেঞ্চে দাঁড়া মরে কি বাঁচে! সমুখে পাছে বেত্র নাচে নাকের কাচে।। খেলতে যে চায় খেল্‌বে কি ছাই বৈকেলে হায় সময় কি পায়? খেলাটি ক্রমে যেম্‌নি জমে দখিনে বামে সন্ধ্যা নামে; ভাঙ্‌ল মেলা সাধের খেলা- আবার ঠেলা সন্ধ্যাবেলা- মুখ্‌টি হাঁড়ি তাড়াতাড়ি দিচ্ছে পাড়ি যে যার বাড়ি। ঘুমের ঝোঁকে ঝাপ্‌সা চোখে ক্ষীণ আলোকে অঙ্ক টোকে ; ছুটি পাবার সুযোগ আবার আয় রবিবার হপ্তা কাবার! দিনের হিসাব সুকুমার রায় ,সুকুমার রায়ের কবিতা আবৃত্তি ,sukumar Roy Poetry Recitation ,abol tabol, Abol Tabol Sukumar Ray, আবোল তাবোল সুকুমার রায়, আবোল তাবোল।                        আবৃত্তি : রূপবালা সিংহ রায় 

দিব্যি আছি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় // Dibbi Achi Sunil Gangopadhyay // Bangla Kobita ।

ছবি
 দিব্যি আছি ____ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বুকের মধ্যে একটু আধটু দুঃখ পোষা কিন্তু খুবই ভালো আছি এই তো বেশ ঘুরছি ফিরছি লম্ফঝম্পে দিন পেরুচ্ছি একটু খোঁচা, একটু ব্যথার টনটনানি তবু বলবো দিব্যি আছি! উল্টোপাল্টা ঝড়ের ধাক্কা খেয়েছি ঢের সে সব হলো আগের জন্মে  যখন তখন আয়ুর খর্চা আগুন হাতে ফুলের চর্চা  এই সবই তো খালিপেটের দুনিয়াদারি দু’বার কি হয় মানবজন্মে?

Bengali Motivation//Motivational Quotes//Quotes//Bangla//Life Quotes Motivation//Motivation//উক্তি // জীবনের উক্তি ।

ছবি
  মাঝেমধ্যে রাগ দুঃখ আঘাত ও অভিমান গুলোকে জীবন থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়।  কলমে : রূপবালা সিংহ রায়   Bengali Motivation//Motivational Quotes//Quotes//Bangla//Life Quotes Motivation//Motivation//উক্তি // জীবনের উক্তি  মাঝেমধ্যে রাগ দুঃখ আঘাত ও অভিমান গুলোকে জীবন থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়। তা নাহলে যতই ভালো কিছু আসুক না কেন সেই প্রাপ্তিগুলোকে রাগ অভিমান দের কাছে অতি ক্ষুদ্র দেখায়। খারাপ লাগার বোঝাটা এতটাই ভারি হয়ে যায় যে ভালো গুলো আর চোখেই পড়ে না। তখন জীবন জটিল হয়ে ওঠে...  তাই মাঝেমধ্যে গাছেদের মত সবকিছু ঝরিয়ে ফেলা ভালো। গাছগুলো যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পুরানো শুকনো ফুল, ফল, পাতা ও বাকল গুলোকে ঝরিয়ে এক্কেবারে খালি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে নতুন এলে তাকে পরিপূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারে তেমনি দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তবেই না জীবন নতুন করে পরিপূর্ণ হবে ...

জীবনসঙ্গিনী - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story ।

  জীবনসঙ্গিনী রূপবালা সিংহ রায়  ধুর ! আর ভালো লাগেনা এই একঘেঁয়ে জীবন । সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেই একই কাজ করে আসছি । ঘুম থেকে উঠতে না উঠতে সকাল সকাল নাকে মুখে গুঁজে ছোটো অফিস , অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত আটটা । তারপরেও তো শান্তি নেই । শুনতে হয় বউয়ের গজর গজর । কোনো কিছুতে মন ভরে না তার । সবসময় খ্যাচর-খ্যাচর করতেই থাকে । সপ্তাহে একদিন ছুটি তাও ছুটতে হয় বাজারে । একটু যে ঘুমাবো তারও উপায় নেই । সূর্য ওঠার সাথে সাথে ঠেলতে শুরু করে বাজারে যাওয়ার জন্য । তারপর সারা সপ্তাহের বাজার একাই বয়ে আনতে হয় মুটের মত । অসহ্য এক্কেবারে । আর নেওয়া যাচ্ছে না । কেন যে সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে গেলাম কে জানে ? কি যে ভূত চেপে ছিল সে সময় আজ তার খেসারত দিতে হচ্ছে । টিফিনটা বানিয়েছে দেখো মুখে তোলা যাবে বলে মনে হয় না । ফেলে যে দেব মনটা সায় দিচ্ছে না । মা বরাবরই বলতো - অন্ন নষ্ট করলে নাকি লক্ষ্মী দেবী রুষ্ট হন । আর নীলাটাও হয়েছে তেমনি বলি লাঞ্চ দিতে হবে না ক্যান্টিনে খেয়ে নেব, না তা উনি শুনবেন কেন ? এইসব শাক পাতা সেদ্ধ না খাওয়ালে ওনার আবার সুখ হয় না । সেদিন সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফেরার সময...

সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য - রূপবালা সিংহ রায় // Bangla Golpo//Bengali Story// বাংলা গল্প।

ছবি
সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য  রূপবালা সিংহ রায়   অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার পথে গাড়ি থেকে ঋতুজার হঠাৎই চোখ পড়লো ঐত্রীর দিকে । সাইকেলের পেছনের সিটে বসে আছে সে । তার কোলে রয়েছে বছর আড়াইয়ের একটা মেয়ে । সাইকেল চালককে দেখে মনে হল ওর স্বামীই হবে । তারা কিছু নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে । ঐত্রীর পরনে সাধারণ একটা কুর্তি ও প্লাজো আর ওর স্বামীও সাধারণ একটা টি শার্ট ও ট্রাক প্যান্ট পরে রয়েছে । ওদের পোশাক- আশাক , চাল-চলন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় ওদের পরিবারটা কতটা সাধারণ । অপরদিকে ঋতুজার পায়ের জুতো থেকে শুরু করে মাথার ক্লিপ পর্যন্ত আভিজাত্যের মোড়কে জড়ানো । কলকাতার নামকরা এ্যাপার্টমেন্টে তাদের বাস । তিন তিনটে চার চাকার গাড়ি রয়েছে তাদের । বছরে দুবার বাইরে যায় ঘুরতে । বাড়িতে দুটো কাজের লোক আছে । যা তার কাছে অহংকারের বিষয়ও বটে । কোনো কিছু চাইবার আগেই তার সামনে হাজির হয় । নিজেকে সবচেয়ে সুখী বলে মনে হয় তার । ঐত্রীকে দেখতে দেখতে মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা - আদি ঢাকেশ্বরী থেকে বেরোনোর সময় গড়িয়াহাটের মোড়ে দেখা হয়েছিল তার সাথে । ওর হাতে ছিল বেশ কয়েকটা প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ । ...

মন উড়ো পাখি - রূপবালা সিংহ রায় // Mon Uro Pakhi // Bangla Golpo // New Bengali Story ।

ছবি
মন উড়ো পাখি রূপবালা সিংহ রায়  সকাল বেলা বাসন পড়ার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো প্রিয়াংশুর। বাসনপড়া তো নয় যেন মনে হল কেউ একঝাঁপ বাসন ইচ্ছা করে ছুঁড়ে ফেলেছে মেঝেতে। অর্ধ ঘুমন্ত চোখে চশমাটা লাগিয়ে উঁকি মারলো রান্নাঘরে । দেখল বছর দুয়ের টিনটিন দাঁড়িয়ে রান্না ঘরের এক কোণে । আর তার মা অদিতি রাগে গজ গজ করতে করতে বাসন গুলো তুলছে । কোনো রকমে ছেলেটাকে কোলে নিয়ে লিভিং রুমের সোফায় বসালো প্রিয়াংশু। তারপর ব্রাশটা মুখে নিয়ে মিষ্টি করে বলল -"এক কাপ চা হবে গো"। এই কথা শুনে জ্বলে উঠল অদিতি - "হ্যাঁ আমি তো এ বাড়ির নতুন চাকর । আমি তো কিচ্ছুটি জানিনা ! বাবুর যে ঘুম থেকে উঠেই চা লাগে তা তো আমাকে বলে দিতে হবে"- বলতে বলতে চায়ের জল বসাতে লাগলো । কোনো রকম কথা না বাড়িয়ে প্রিয়াংশু টেবিলের উপর থেকে গ্লাসটা নিয়ে পিওরিট থেকে জল ভরতে গেল রান্নাঘরে । পাশ থেকে তীক্ষ্ণ স্বর ভেসে এলো "ঝি চাকর থাকতে আপনি কেন কষ্ট করছেন । এখনো তো আছি বেঁচে , মরে তো যাইনি। মরতে পারলে বাঁচতাম ।" প্রিয়াংশু বুঝলো সত্যি ভুল হয়েছে অন্য দিন তো ও নিজেই আমাকে জলটা দেয়। নিজের ভুলেই কথাগুলো শুনতে হচ্ছে । মুখ...

পরনির্ভরশীলত - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story ।

ছবি
পরনির্ভরশীলতা রূপবালা সিংহ রায়  "বাবান বৌমাকে কি ফোন করেছিলি" ? "কেন আমি কেন ফোন করতে যাব"? - সকালের জলখাবার বানাতে বানাতে বেশ বিরক্তির সঙ্গে উত্তর দিল বিশাল তার মাকে । তার মা নিচু স্বরে বলল - "অনেকদিন তো হল যা গিয়ে নিয়ে আয় তিন্নিকে" । খাবার গুলো টেবিলে রাখতে রাখতে বিশাল বলল -"কেন তোমার কি কোনো কিছুতে অসুবিধা হচ্ছে ? তোমার বৌমা যা যা করত সবই তো আমি করে দিচ্ছি" ।  মা - "না অসুবিধা কিছু হচ্ছে না । তবুও ঘরের মানুষ যদি ঘরে না থাকে কেমন যেন খালি খালি....  কথাটা শেষ হতে না হতেই বিশাল তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল - "এমন ভাবে বলছো যেন তোমার বৌমাকে সারাদিন তুমি ঘরে পাও"!  মা - "সে থাকে না তবুও....  বিশাল - "তবুও কি শুনি , আমি কি ঘরের কাজ কিছু করতে পারি না নাকি ? আর ও কি কেবল একা করত ? আমি কি ওকে সাহায্য করতাম না ?  মা - "হ্যাঁ তুই যেমন ওকে সাহায্য করতিস ,ও ও.. তো এই ফ্ল্যাটটা কিনতে তোকে সাহায্য করেছে "। বিশাল - "সে আমি অস্বীকার করিনা । তবে ও কেন বলবে ও আমার ওপর ডিফেন্ডেড নয় , আমি ওর উপর ডিফেন্ডেট নাকি ? ও যেমন ঘর বাড়...

প্রত্যাবর্তন - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
  প্রত্যাবর্তন রূপবালা সিংহ রায় "তোরা কি থাকবি , নাকি যাবি ? থাকলে থাক আর গেলে সকাল সকাল যা । বেশি রাত করার দরকার নেই" । নাতনি মিমিকে কোলে নিয়ে নিখিলেশ বাবু কথাগুলো বললেন তাঁর মেয়ে পূজাকে । মায়ের সাথে বসে গল্প করছিল পূজা । বাবার কথাগুলো শুনে একটু রাগ হলো তার - "এই বাবার এক দোষ । যে ক'বারই পূজা মেয়েকে নিয়ে একা আসে , যাওয়ার দিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাবা তাড়া দিতে থাকে তাড়াতাড়ি বের হওয়ার জন্য । আজকাল না হয় একটু তাড়াতাড়িই সন্ধ্যে হয়। তো কি হবে একটু সন্ধ্যে হয়ে গেলে ? আমি তো মাঝে মধ্যে মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যের পরে একা একা বের হই বাড়ি থেকে প্রয়োজনে । কই তখন তো কিছু হয় না।" সে ভেবেছিল চারটে কুড়ি ট্রেনটা ধরবে ছটার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাবে । কিন্তু না বাবা তো তা শুনবে না তার হুকুম তোমায় তিনটে দশের ট্রেনটা ধরতে হবে। "খাওয়ার পরে একটু বসতেও দেবে না"- বলে নিজের আর মেয়ের জামা কাপড় গোছাতে শুরু করলো পূজা।  শেষমেষ তৈরি হয়ে বের হল সে । বিয়ের পর থেকে প্রত্যেকবারই পূজা শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় তার মায়ের মুখটা ভার হয়ে যায় । ছল ছল...

উজান স্রোতে - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

  উজান স্রোতে রূপবালা সিংহ রায় -- ছাড়ো! ছাড়ো বলছি আমার হাত। লাগছে তো!  -- লাগছে, না? লাগুক। খুব শখ তো তোর নিজেকে কষ্ট দেওয়ার! এটুকুতেই এত লাগছে! তাহলে ভাব অত যন্ত্রণা সহ্য করতিস কি করে? সাহস তো কম নয় তোর? কি করে এত সাহস হয় তোদের? নিজেকে শেষ করার আগে একবারও ভাবলি না! তুই চলে যাওয়ার পর তোর মা বাবার কি হবে? -- কি হবে আবার? বেঁচে যাবে। আমার মত একটা বোঝা ওদের মাথা থেকে নেমে যাবে।  কথাটা শেষ না হতে হতেই গায়ের শক্তি ভরে সপাট জোরে একটা চড় এসে পড়ে বিশাখার গালে। গালের পাশটা প্রচন্ড জ্বালা করতে থাকে তার। সেইসঙ্গে কানটা বোঁ বোঁ করতে থাকে। কানে এমন ভাবে তালা ধরে যায় যে পাশ থেকে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়া ট্রেনেটার আওয়াজ পর্যন্ত তার কানে পৌঁছায় না তার।  গালের দাগটা মিশে গেলেও হাতে থাকা পাঁচটা নখের আঁচড় আজও স্পষ্ট। সেই দিনটার কথা মনে পড়লে নিজেকে নিজের কাছে বড় ছোট মনে হয় বিশাখার। সেদিন যদি বিভা দি তাকে না বাঁচাতো, আজ তাকে আর এই বিশাখা হয়ে ওঠা হত না। সে জানতেই পারতো না যে বাঁচার থেকে বড়ো আনন্দের জিনিস এই পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। এই যে বেঁচে আছি, এটাই তো অনেক। থাক না অভাব...

বাবা - রূপবালা সিংহ রায় // বাবা দিবসের কবিতা // Father's Day Poetry //Baba Diboser Kobita // Baba ।

ছবি
  বাবা রূপবালা সিংহ রায়   বাবা মানে তপ্ত রোদে   মাথার ওপর ছায়া ,   বাবা মানেই আদি-অন্ত    সবই তোমার দেওয়া ।  বাবা মানে একটু রাগী   একটু শাসন করা ,   বাবা মানেই পারবে তুমি    সবকিছু যাবে ধরা ।   বাবা মানে ক্লান্ত ভীষণ    তবুও শক্ত ভারী ,   বাবা মানেই পড়লে তুমি    পাবে হাতটি তারই ।   বাবা মানে প্রথম সিঁড়ি    আমার আকাশ ছোঁয়ার ,   বাবা মানেই কল্পতরু    যথাসাধ্য দেওয়ার ।   বাবা মানে অনেক দায়িত্ব    কষ্ট চেপে রাখা ,    বাবা মানেই সেই কারিগর     যিনি দেন সন্তানের পাখা ।    ভালো থাকুন বাবা সবাই     সুস্থ সবল হয়ে ,    সেই কামনাই করে যায়     তোমারই এই মেয়ে ।

বাবা - রূপবালা সিংহ রায় // Father's Day Story // Bangla Golpo // বাংলা গল্প।

  বাবা  রূপবালা সিংহ রায় "পাপ্পা তুমি এই জামাটা কেন পরলে ? যাও গিয়ে চেঞ্জ করে এসো । সবাই কি ভাববে বলতো ? তুমি না কিচ্ছু জানোনা" ! -বছর বারোর ঋকের মুখে কথাগুলো শুনে তার বাবা নিখিল মুচকি হেসে মৃদুস্বরে বলল -"কেন কি এমন খারাপ সুটটা ? এইতো কদিন আগেই বানালাম। একবার মাত্র পরা হয়েছে" । কিছুটা বিরক্তির সাথে ঋক বলল -"সেই জন্যই তো তোমায় বারণ করছি , ওটা পরতে । আজ আমার জন্মদিন পাপ্পা । এত বড়ো পার্টি হচ্ছে । আমার সব বন্ধুরা আসবে । এসে যদি দেখে তুমি আগের পরা জামা আবার পরেছ , কি ভাববে ওরা বলতো "?  মাথাটা একটু  নাড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরের ঘরে যেতে যেতে নিখিলের মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা ... বাড়িতে বেশ কয়েকজন বন্ধু এসেছিল । নিখিল ব্যস্ত ছিল গল্প করতে । তার বাবা হয়তো কোনো কাজে এসেছিলেন তার ঘরে । পরনে ছিল পুরানো লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি । পায়ের চটি জুতোটাও বেশ ক্ষয়ে গিয়েছিল । খুব খারাপ লেগেছিল সেদিন নিখিলের । বন্ধুদের সামনে কিছু বলতে না পারলেও বেশ বিরক্তির স্বরে বলেছিল - "তুমি যাও আমি আসছি" । তারপর থেকে কেন জানা নেই বাবা কখনো নিখিলের বন্ধুদের সামনে যেতেন ...

হারানো শৈশব - রূপবালা সিংহ রায় // নতুন বাংলা গল্প// বাংলা গল্প // Bangla Golpo // Bengali Story।

হারানো শৈশব রূপবালা সিংহ রায় "নিশ্চয়ই তুই কিছু করেছিস তা না হলে হেডমিসট্রেস ম্যাম পেরেন্টস কল করবেন কেন ? বাড়িতে ফিরি তারপর দেখিস কি হাল করি তোর ?" গতকাল হেডমিসট্রেসস ম্যামের মেইলটা পাওয়ার পর থেকে মোনালিসা সেই যে মেয়েকে বকা শুরু করেছে স্কুলের গেটের কাছে প্রায় পৌঁছে গেল এখনো তার বকা শেষ হয়নি । রাতে পিঠেও পড়েছে দু এক ঘা । ভয়ে একদম কুঁকড়ে আছে ক্লাস থ্রি এর তিন্নি । হেডমিসট্রেস ম্যামের ঘরের দিকে যেতে যেতে মোনালিসা বলেই চলল - "আজ পর্যন্ত কোনোদিন প্যারেন্টস কল হয়েছে ? স্কুলের অন্য প্যারেন্টসরা ছিঃ ছিঃ করবে না ? প্রেস্টিজ বলে কিছু থাকলো আমার ? কেন হবে প্যারেন্টস কল শুনি ? তবুও আবার এক্সামের সময় । এখনও তিনটে এক্সাম বাকি । মাঝে একটা দিন ছুটি পড়েছে কোথায় একটু রিভাইস দেবে তা নয় এখন স্কুলে ছুটতে হচ্ছে ! তুমি দিনকে দিন যাচ্ছে তাই হয়ে যাচ্ছ । তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড নিশাকে দেখো না । ও তোমার থেকে শতগুণ ভালো" । হেডমিসট্রেস ম্যামের রুমের সামনে এসে মোনালিসা নিজেকে একটু শান্ত করে শাড়ির প্লিটটা আর চুলগুলো হাত দিয়ে সোজা করে নিয়ে বলল -"মে আই কাম ইন " ম্যাম"...

কাতুকুতু বুড়ো - সুকুমার রায় // কাতুকুতু বুড়ো // আবোল তাবোল সুকুমার রায়।

ছবি
কাতুকুতু বুড়ো সুকুমার রায় আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার, কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেও না খবরদার! সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ি— কাতুকুতুর কুল্‌পি খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ি। কোথায় বাড়ী কেউ জানে না, কোন্ সড়কের মোড়ে, একলা পেলে জোর ক’রে ভাই গল্প শোনায় প’ড়ে। বিদ্‌ঘুটে তার গল্পগুলো না জানি কোন্ দেশী, শুনলে পরে হাসির চেয়ে কান্না আসে বেশি। না আছে তার মুণ্ডু মাথা, না আছে তার মানে, তবুও তোমায় হাসতে হবে তাকিয়ে বুড়োর পানে। কেবল যদি গল্প বলে তাও থাকা যায় সয়ে, গায়ের উপর সুড়সুড়ি দেয় লম্বা পালক লয়ে। কেবল বলে, “হোঃ হোঃ হোঃ, কেষ্টদাসের পিসি— বেচ্‌ত খালি কুমড়ো কচু হাঁসের ডিম আর তিসি। ডিমগুলো সব লম্বা মতন, কুমড়োগুলো বাঁকা, কচুর গায়ে রঙ–বেরঙের আল্‌পনা সব আঁকা। অষ্ট প্রহর গাইত পিসি আওয়াজ ক’রে মিহি, ম্যাও ম্যাও ম্যাও বাকুম বাকুম ভৌ ভৌ ভৌ চীঁহি।” এই না বলে কুটুৎ ক’রে চিমটি কাটে ঘাড়ে, খ্যাংরা মতন আঙুল দিয়ে খোঁচায় পাঁজর হাড়ে। তোমায় দিয়ে সুড়সুড়ি সে আপনি লুটোপুটি, যতক্ষণ না হাসবে তোমার কিচ্ছুতে নাই ছুটি।         Katukutu Buro - Sukumar Roy

বাগান বিলাস - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // বাংলা ছোট গল্প // Bangla Golpo।

ছবি
বাগান বিলাস রূপবালা সিংহ রায়  বাড়ি যাওয়ার পথে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকে হঠাৎ আর্যের চোখ পড়ল এক যুগল যুবক যুবতীর দিকে । মেয়েটি বেশি উৎফুল্লতার সঙ্গে ছেলেটিকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে । আর ছেলেটি তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে তার প্রেয়সীর প্রিয় বাগান বিলাস পাড়তে । ওই দৃশ্যটা দেখে মনের কোঠরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো মাথা ছাড়া দিল আর্যের । বছর কুড়ি-পঁচিশ আগের কথা , এমনি করেই এক পাঁচ-সাত বছরের পুঁচকি মেয়ে মেঘা নয়-দশের আর্যকে উৎসাহ দিত তার প্রিয় ফুল বাগান বিলাস পেড়ে দেওয়ার জন্য । না দিলে হয় মুখ ফুলিয়ে ভ্যা ভ্যা করে কান্না করে দিত । নয়তো আর্যের দস্যিপনার কথাগুলো দশগুণ বাড়িয়ে তার মাকে গিয়ে বলে আসতো । তাই ইচ্ছা না থাকলেও পেড়ে দিতে হতো তাকে ফুল । ফুল গুলো পেয়ে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতো । সেগুলোকে কখনো সে তার ছোট ছোট চুলে লাগানোর বৃথা চেষ্টা করতো । তো কখনো হাতে নিয়ে লাগাতো এক ছুট । ভাবতে ভাবতে কেমন শৈশবে হারিয়ে গেল আর্য । তাদের বাড়ি থেকে পাঁচ ছটা বাড়ি পরে থাকত পুঁচকে মেয়েটি । দুজনের মধ্যে ভাব থাকলেও ঝগড়া হতো প্রচুর । মাঝে মাঝে মারামারিও লেগে যেত দুজনের মধ্যে । আর্যের...

মনের অন্তরালে - রূপবালা সিংহ রায়//বাংলা গল্প// বাংলা ছোট গল্প//ভালোবাসার গল্প।

ছবি
  মনের অন্তরালে রূপবালা সিংহ রায় একবার অপারেশনের পরও ঠিক হলো না কণ্ঠস্বরটা , ভাঙ্গা গলায় কথা বলে রমা । আবারো একবার নাকি অপারেশন করাতে হবে । কথাখানা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরল মনোতোষ বাবুর ! "আবারও অপারেশন করাবে ? বয়স তো কম হলো না  বাষট্টিতে পড়লে এবার । সবাই বলে এই বয়সে নাকি অপারেশন থেকে দূরে থাকাই ভালো । তার ওপর সুগারটাও বাঁধিয়ে বসে আছো । কে শোনে কার কথা ? সারা জীবন শুধু অন্যের কথাই ভেবে গেলে । নিজের খেয়াল রাখোনি কখনো । ছেলে-মেয়ে ছেলে-মেয়ে করে করে , তাদের পেছনে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বারোটা বাজিয়েছো তো গলার । দেখছে তারা এখন ? আসে কবার তোমার খবর নিতে ? বাবা-মা মরলো না বাঁচলো রাখে তার খবর" ? ই.এন.টি থেকে বেরিয়ে মনোতোষ বাবু চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথাগুলো বলছেন তার স্ত্রী রমাকে । ভোকাল কর্ডে একটা ইনফেকশন হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে তারপর ঠিকও হয়ে গিয়েছিল । মাস ছয়েক আগে হঠাৎ করে একদিন সকালবেলা গলা থেকে আর আওয়াজ বার হচ্ছিল না রমার । তারপর থেকে হসপিটাল আর বাড়ি করছে দুজন । ছেলে-মেয়ে ব্যস্ত তাদের নিজের নিজের জীবনে । বাবা-মাকে দেখার সময় নেই তাদের । একটা সরকারি চাকরি করতেন মনোতোষ...

উল্টোরথ - রূপবালা সিংহ রায // Bangla Golpo // Bengali Story // Bangla Premer Golpo ।

ছবি
  উল্টোরথ রূপবালা সিংহ রায   সময় বড় অদ্ভুত ! এই ভালো তো , এই মন্দ । এক নিমেষেই বদলে যায় সবকিছু । আবার সময়ই তা ঠিক করে দেয় । কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঠিক করতে না পারলেও তাকে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দেয় । আবার মুহূর্তের মধ্যে সেই ভুলে যাওয়া স্মৃতিটাকে মনে করিয়ে দিয়ে জীবনটাকে বিষাদের ভরিয়ে দেয় - ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল নিশা । এই যে কিছুক্ষণ আগেই অফিস শেষে অফিস কলিগদের সঙ্গে কত হইহুল্লোড় করে কাটছিল তার । সবাই মিলে আড্ডা দিতে দিতে ঘুরলো রথের মেলা । চড়লো নাগরদোলা । খেলো চপ , জিলিপি , পাঁপড় ভাজা , আরো কত্ত কি ! তারপর বাড়ি ফেরার পথে এই এক ফসলা বৃষ্টি তার মনটাকে ভারাক্রান্ত করে দিয়ে গেল । যদিও ছাতা রয়েছে কাছে , কিন্তু এত জোরে বৃষ্টি হচ্ছে যে ছাতা থাকতেও সে ভিজে যাচ্ছে । তার ওপর যে হারে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে , ভয়ে থেমে যেতে হলো তাকে । গিয়ে আশ্রয় নিল একটা বন্ধ দোকানের ছাউনির নিচে । বর্ষার জলের সঙ্গে তার চোখ দুটো ভিজছে অঝোরে । ছয় বছর পর হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল শান্তনুর কথা । এমনই এক উল্টো রথের দিন তার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল নিশার । বান্ধবীদের সঙ্গে মেলা দেখে ফিরছিল সে...

নোট বই - সুকুমার রায় // সুকুমার রায়ের কবিতা নোট বই // নোট বই // Note Boi // Abol Tabol ।

ছবি
  নোটবই সুকুমার রায় এই দেখ পেনসিল্, নোটবুক এ–হাতে, এই দেখ ভরা সব কিল্‌বিল্ লেখাতে । ভালো কথা শুনি যেই চট্‌পট্ লিখি তায়— ফড়িঙের ক'টা ঠ্যাং, আরশুলা কি কি খায় ; আঙুলেতে আঠা দিলে কেন লাগে চট্‌চট্, কাতুকুতু দিলে গরু কেন করে ছট্‌ফট্ । দেখে শিখে প'ড়ে শুনে ব'সে মাথা ঘামিয়ে নিজে নিজে আগাগোড়া লিখে গেছি আমি এ । কান করে কট্ কট্ ফোড়া করে টন্‌টন্— ওরে রামা ছুটে আয়, নিয়ে আয় লন্ঠন । কাল থেকে মনে মোর লেগে আছে খট্‌কা, ঝোলাগুড় কিসে দেয় ? সাবান না পট্‌কা ? এই বেলা প্রশ্নটা লিখে রাখি গুছিয়ে, জবাবটা জেনে নেব মেজদাকে খুঁচিয়ে । পেট কেন কাম্‌ড়ায় বল দেখি পার কে ? বল দেখি ঝাঁজ কেন জোয়ানের আরকে ? তেজপাতে তেজ কেন ? ঝাল কেন লঙ্কায় ? নাক কেন ডাকে আর পিলে কেন চমকায় ? কার নাম দুন্দুভি ? কার নাম অরণি ? বল্‌বে কি, তোমরা তো নোটবই পড়নি ।  

পরিবেশ দিবস রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // বিশ্ব পরিবেশ দিবস // ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে // বাংলা ছোট গল্প।

ছবি
পরিবেশ দিবস রূপবালা সিংহ রায়  এই ছেলে মেয়ে দুটোকে নিয়ে আর পারা যায় না! কবে যে স্কুলটা খুলবে কে জানে? সারাদিন বাড়িটা যেন মাথায় করে রেখেছে। আর ভালো লাগে না রুচিরার। বেশি হচ্ছে মেয়েটা। মেয়ে মানুষ কোথায় একটু শান্ত শিষ্ট হবে তা নয় বদমাইশের হাঁড়ি এক্কেবারে। কথায় কথায় ছেলেটার পেছনে লাগে! আর ছেলেটাও হয়েছে তেমনি একটু কিছু হল কিনা হল ভ্যাঁ করে কেঁদে এসে পড়ে তার সামনে। এমনিতে সংসারের কম কাজ! তার ওপর এই দুজনের খুনসুটি, প্রায়ই হিমশিম খায় সে। এর ফলে মাঝে মাঝে মাথাটা যাচ্ছে গরম হয়ে। বকছে মেয়েকে। মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছে -- তুমি শুধু তোমার ছেলেকে ভালোবাসো আমাকে নয়।ও..ও..তো আমাকে মেরেছে। কই ওকে তো মারলে না? সত্যি তো, তা তো দেখা হয়নি। এবার একটা সমতা আনার জন্য লাগায় ছেলেটার পিঠে একটা চাপড়। এই হচ্ছে তার বর্তমান দিনপঞ্জি। এখন কেবল অপেক্ষা কখন গরমের ছুটিটা শেষ হবে আর দুটো বাড়ি থেকে বের হবে। তাহলে অন্তত ঘন্টা ছয়েকের জন্য শান্তি।  সকালবেলা ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে হাজির সে ছেলে-মেয়ের ঘরে। ঘুমোলে ওদের মত শান্ত, সুন্দর বাচ্চা আর কেউ নেই আর এই বিশ্বে। শুধু তো ঘুমানোর সময় নয় যখন আনম...

দামোদর শেঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর // দামোদর শেঠ // Rabindra Nath Tagore Bengali Poetry।

ছবি
  দামোদর শেঠ  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অল্পেতে খুশি হবে দামোদর শেঠ কি? মুড়কির মোয়া চাই, চাই ভাজা ভেটকি আনবে কটকি জুতো, মটকিতে ঘি এনো, জলপাইগুড়ি থেকে এনো কই জিয়োনো। চাঁদনিতে পাওয়া যাবে বোয়ালের পেট কি?। চিনেবাজারের থেকে এনো তো করমচা, কাঁকড়ার ডিম চাই, চাই যে গরম চা। নাহয় খরচা হবে, মাথা হবে হেঁট কি? মনে রেখো, বড়ো মাপে করা চাই আয়োজন— কলেবর খাটো নয়, তিন মোন প্রায় ওজন। খোঁজ নিয়ো ঝরিয়াতে জিলিপির রেট কী।

অপেক্ষা - রূপবালা সিংহ রায়//বাংলা গল্প//নতুন বাংলা গল্প//জামাইষষ্ঠীর গল্প//bangla golpo//bengali story ।

  অপেক্ষা রূপবালা সিংহ রায় আজ বাদে কাল জামাইষষ্ঠী। তাই আর বাজারে পা ফেলার জো নেই। বাজার এখন জামাইদের শ্বশুর শাশুড়ির দখলে। কান পাতলে শোনা যায় কার জামাইয়ের কি পছন্দ কি অপছন্দ তার তালিকা। শ্বশুরমশাইদের ফর্দের তালিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জিনিসপত্রের দামও। আমি কাঁঠাল থেকে শুরু করে শাকসব্জি, মাছ, মাংস এমন কি মিষ্টির দোকানগুলোতেও পর্যন্ত লেগেছে তার ছোঁয়া। ইচ্ছা করে না দীপ্তর এই সময় শ্বশুর বাড়ি যেতে। বিশেষ করে এই জামাইষষ্ঠীর দিনটাতে। একে তো এত গরম তার ওপর শ্বশুর বাড়ি বেশিরভাগ সময় কারেন্ট থাকে না। তার ওপর অমন রাক্ষুসে খাওয়া দাওয়া। এই গরমে একটা দুটো হালকা-পাতলা তরকারি হবে ব্যাস। তা নয় অতগুলো পদ খাওয়া যায়। অত খাওয়া মানে ভুঁড়ি ফুলে ঢোল। এমনিতে রোজ জিমে গিয়েও ভুঁড়ি টাকে বাগে আনা যাচ্ছে না তার ওপর ওসব। তাই এবার সে তার স্ত্রী রিমঝিমকে সোজা বলে দিয়েছে -- তুমি একা চলে যাও এবার। আমার যাওয়া হবে না, পেটটা কেমন যেন গড়বড় করছে। তার ওপর শরীরটাও ভালো লাগছে না অতটা দূরের পথ বুঝতেই তো পারছ।সরাসরি যাবো না কথাটা বললে তো আর রক্ষা থাকবে না শুনতে হবে কত কথা -- দেওয়ার ভয়ে যাবেনা, ঘর ...