পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আয় নারে মা মর্ত্যে এবার - রূপবালা সিংহ রায় // পুজোর কবিতা // দূর্গা পূজার।

ছবি
আয় নারে মা মর্ত্যে এবার  রূপবালা সিংহ রায় আয় নারে মা মর্ত্যে এবার  ত্রিনয়ন তোর খোলা রেখে... হচ্ছে সারা ওরা সবাই  মা মা বলে কেবল ডেকে । দুঃখ ঘোচা দয়াময়ী  মেটারে তুই পেটের জ্বালা, মানুষরূপী অসুর গুলোর  মুন্ডু কেটে পর না মালা। আয় নারে মা মর্ত্যে এবার  রণ-রঙ্গিনীর রূপটি সেজে.... দশ হাতের অস্ত্রগুলি  রণ-ঝংকারে উঠুক বেজে। ন্যায়ের দন্ড হাতে তুলে  সাজা দে না অপরাধের, মোছা চক্ষু মাতৃস্নেহে  অশ্রুসিক্ত নয়ন যাদের।  আয় নারে মা মর্ত্যে এবার  তোর সাত্ত্বিকি রূপটি নিয়ে.... শুদ্ধতা আর সততাকে  সবার মাঝে যা না দিয়ে। শুদ্ধচিত্তে মানুষগুলো  সৎ হোক তোকেই ধরে,  মরছে মানুষ নিত্যদিনই  ওই মানুষের প্যাঁচে পড়ে। আয়নারে মা মর্ত্যে এবার  শক্তি রূপে সাহস রূপে ... জানিস তো মা তোর অংশরাই  পড়ছে কেবল অন্ধ কূপে। বাঁচা তাদের ও মা জয়া  সস্মানে এই জগতে, তোরই মতো হোক বিজয়ী  সকলখানে সকল পথে।  আয় নারে মা মর্ত্যে এবার  স্নেহময়ী উমা হয়ে.... জ্বরা ব্যাধি রোগ তাপ সব  তোর সাথে মা যা না নিয়ে। জীবনটা নয় স...

অভিমান - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story // Bengali Story.

  অভিমান  রূপবালা সিংহ রায়  মনের মধ্যে একরাশ উত্তেজনা ও কামনা পাহাড় নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজাটা আটকে দিল সৌভিক। ওদিকে ফুল বিছানো বিছানায় তার জন্য অপেক্ষা করছে তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী মিনাক্ষী। আস্তে করে গিয়ে তার ঘোমটাটা খুলতেই সমস্ত শরীর শিউরে উঠল সৌভিকের। তরতর করে ঘামতে লাগল সে। ঘামের গন্ধে গায়ে মাখা আতরের সুগন্ধটা কোথায় যে ভ্যানিশ হয়ে গেছে বোঝাই যাচ্ছে না। এসির রিমোটটা নিয়ে যে টেম্পেরেচারটা একটু কমাবে তাও পারছে না সে। সারা শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে তার। হা পা তুলতেই পারছে না। চোখে মুখে আতঙ্কের তীব্র ছাপ ফুটে উঠেছে। ইচ্ছা করছে পালিয়ে যেতে কিন্তু নিরুপায় সে। কাউকে যে ডাকবে সে উপায়ও নেই গলা শুকিয়ে কাঠ, একটা শব্দও বের হচ্ছে না। এ কাকে দেখছে সে! নিরুপমা! এখানে এল কি করে সে ? কপালে কাটার দাগটা স্পষ্ট। সেখান থেকে হালকা রক্তও বের হচ্ছে। সেদিনের মতো করে বেনারসী পরে মাথায় ফুল লাগিয়েও রেখেছে। এ হতে পারে না, কিছুতেই না! ও ফিরবে কি করে? ও যে বছর চারেক আগে চলে গেছে না ফেরার দেশে! এ যে সেই চাহনি! এ চাহুনি কিছুতেই ভুলতে পারে না সৌভিক। সেদিন ঠেলে ফেলে দেওয়ার পর দরজার কণা লেগে কে...

বর্ষা রানী - রূপবালা সিংহ রায় // বর্ষার কবিতা // বৃষ্টির কবিতা // Borshar Kobita ।

ছবি
  বর্ষা রানী রূপবালা সিংহ রায়  ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ে কালো মেঘের থেকে,  পেখম মেলে নাচছে ময়ূর আনন্দে তাই দেখে । চাষিরা ওই হাসছে দেখো মন খুলে তাই আজ , নতুন নতুন ফলবে ফসল জমবে কৃষি কাজ । ছোট্ট মেয়ে ভিজছে জলে না শুনে মায়ের কথা, জ্বর হলে বা পড়লে পরে পাবি রে তুই ব্যথা। পাড়ার ছেলে গামছা নিয়ে ধরছে যে মাছ জলে, বারান্দাতে বসেই কেউ মাছ ধরে ছিপ ফেলে। গাঁয়ের বধূ কলসি কাঁকে পুকুর ধারে এসে,  বৃষ্টিতে আজ মনটা যে তার দূরেতে যায় ভেসে।  চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কর্তা ফেলে কাজ,  বলছে যে তার গৃহিণীকে খিচুড়ি হবে আজ।  সঙ্গে থাকবে বেগুনি আর আলু, পাঁপড় ভাজা, ইলিশ মাছ পড়লে পাতে হবে আরো মজা।  বৃষ্টিতে মন মাতাল হলে প্রেমীর হাতটি ছেড়ে, চুলে এলিয়ে ভিজলে জলে প্রেমিক ছাতা ধরে। বর্ষা মেয়ের ছোঁয়ায় ধরা আনন্দে আজ মাতে, ব্যাঙগুলোও যায় না যে বাদ তারাও ডাকে রাতে। এই তো গেল বর্ষা মেয়ের নানান ভালো দিক, টাকার জন্য ছাউনিটা যে হয়নি করা ঠিক। টুপ টুপিয়ে পড়ছে যে জল ঘরের মাঝে তাই, উনুনটাও ভিজে গেছে, আগুন ভিজে ছাই।  মা পাখিটা বাচ্চা নিয়ে ভাবছে মনে মনে,  বর্ষা গেলেই বা...

বারিধারা - রূপবালা সিংহ রায় // বর্ষার কবিতা // বৃষ্টির কবিতা // Borshar Kobita ।

ছবি
বারিধারা  রূপবালা সিংহ রায়  Baridhara by Rupbala Singha Roy // Borshar Kobita // Bengali Poetry on Rain // Bristir Kobita.   বৃষ্টি ভেজা ও পথ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে  ভিজছে কেউ অঝোর ধরায় মনের সুখে, শ্রাবণ ধারায় মুগ্ধ হয়ে ছাতা ফেলে  মিশছে গিয়ে তারই সাথে কেবল শখে। কেউবা আবার পেটের দায়ে ভিজছে কেবল  বাড়িতে বসে ক্ষুধার্ত পাঁচটা মুখ .... ছাতা তো দূরের কথা মাথাটাও  টাকা চাই বলে শুধু কাঁপাচ্ছে বুক।  পথের বাঁকে প্রেমিক যুগল হাতটি ধরে  স্বপ্নে,... বিভোর তারা কথার দেশে  বাইরে বারিধারা ভেতরেও তাই  উড়ে যায় দূর আকাশে শালিক বেশে। হাতটা ছেড়ে মায়ের দুষ্টু ছেলে  ইচ্ছে করে কাঁদা জলে দিচ্ছে পা!  রেইনকোট টা বাজে বলে খুলতে গেলে  আবার তা পরাতে পরাতে বকছে মা ।  একলা গৃহকোণে হাজার কথা .... একের পর এক স্মৃতির পটে আঁকছে ছবি  কখনো একটু হাসি কখনো কান্না এসে  এখনো বলছে চেয়ে আমার হবি ? এমনি বারি ধারা মনের কোণে  কখনো শোক বা আবার শান্তি আনে  ভাসায় মন পাখিরে দূর গগনে  কখনো কূলে আনে ভাঁটার টানে

সাজছে উমা দূর্গা রূপে - রূপবালা সিংহ রায় // পুজোর কবিতা // দূর্গা পূজার কবিতা।

ছবি
সাজছে উমা দূর্গা রূপে  রূপবালা সিংহ রায় সাজছে উমা দূর্গা রূপে  অস্ত্র-শস্ত্রে আভূষণে,  দুহাত ছেড়ে দশভূজা  আসবে এবার রণাঙ্গনে। দয়াময়ী মাতা এবার  স্নেহ ভুলে মায়া ভুলে, রণহুংকারে আসবে ধেয়ে  দু হাতে তার ত্রিশূল তুলে। চোখ দুটোতে জ্বলবে আগুন  নিঃশ্বাসে তার থাকবে রেশ,  অসুর গুলোর মুন্ডু কেটে  ফেলবে ছিঁড়ে সকল কেশ।  নারী বলে হেলায় যারা  দিয়েছিল কুপ্রস্তাব!  ঘুজবে তাদের সকল আশা  সকল রকম মনস্তাপ।  তৈরি থাকো দুষ্টু সকল  ভরবে যেদিন পাপের ঘড়া,  সেদিন কিন্তু পাবে না ছাড়  পড়বে জেনো সেদিন ধরা। #সাজছে_উমা_দূর্গা_রূপে  #রূপবালা_সিংহ_রায়....🖋️ #banglakobiagolpo #bengalipoetryandstory #rupbalasingharoy #bengalipoem #bengalipoetry #quotes #durgapuja #pujorkobita #durgapujapoem #durgapujapoetry #পুজোরকবিতা #kobita সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy

দুই পাখি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর // রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা // রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা দুই পাখি।

ছবি
  দুই পাখি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  Dui Pakhi by Rabindranath Tagore // দুই পাখি কবিতা // Rabindranath Tagore's Poem // Dui Pakhi // Dui Pakhi খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে                বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে,         কী ছিল বিধাতার মনে। বনের পাখি বলে, খাঁচার পাখি ভাই,        বনেতে যাই দোঁহে মিলে। খাঁচার পাখি বলে-- বনের পাখি, আয়         খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।'                  বনের পাখি বলে-- "না, আমি শিকলে ধরা নাহি দিব।'         খাঁচার পাখি বলে-- "হায়, আমি কেমনে বনে বাহিরিব!' বনের পাখি গাহে বাহিরে বসি বসি                  বনের গান ছিল যত, খাঁচার পাখি পড়ে শিখানো বুলি তার--                  দোঁহার ভাষা দুইমতো। বনের পাখি বলে, খাঁচার পাখি ভাই,         বনের গান গাও দিখি। খ...

মা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

  মা রূপবালা সিংহ রায়  -কিরে ভিজে বাড়ি এলি যে? ছাতাটা কোথায়? হারিয়েছিস? বলেছিলাম আমি! যাস না নিয়ে ছাতাটা। নতুন ছাতা! কেন ! পুরানো টা নিলে কি এমন খারাপ হতো শুনি? এইজন্যই আমি চাইনি ওটা কিনে দিতে। তোর পাপাই যত নষ্টের গোড়া। পঁই পঁই করে বললাম দিও না কিনে তবুও শুনলো আমার কথা! এখন হয়েছে শান্তি! মেয়ে যা বলবে তাই শুনতে হবে। কিছু বললে বলবে আমরা পাইনি বলে কি ও পাবে না? সবসময় না দাও কিছু কিছু তো দেওয়া যেতেই পারে। আমার আর কি! যা পারো করো, তোমার বাবা এসে বুঝবে। আমি নিয়ে আসতাম সহ্য হলো না বাবাকে বলে কয়ে একা একা আসা হয় এখন । সেভেনে উঠলেন উনি বড়ো হয়ে গেলেন.... - মা.... - জানি তো এখন কত কি বাহানা দেওয়া হবে। পাঁচ মিনিটের পথ , আমি একা কোথায় আসি আমার সঙ্গে সহেলীদিদিও তো থাকে , তারপর সবার শেষে সব থেকে বড় অজুহাত হল আমার কোমর ব্যাথা ... ব্যস! - মা যাই ঘরে  - হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই! এখন তো মায়ের কথা তেতো লাগবেই! জ্বর সর্দি কাশি হলে কে দেখবে? কেন যে বলি তা তো কেউ বোঝেনা আমার হয়েছে যত জ্বালা ! -মামন কোথায় পড়ার আওয়াজ শুনছি না তো? - কোথায় আবার শুয়ে আছে জ্বর এসেছে  -জ্বর হঠাৎ...

Roy Bangla Kobita // Bangla Quotes // Quotes // Bengali Motivation // বাংলা মোটিভেশন।

ছবি
  Written by Rupbala Singha Roy  Bangla Kobita // Bangla Quotes // Quotes // Bengali Motivation // বাংলা মোটিভেশন। এই যে আমরা মানুষেরা, আমাদের একটা দোষ আছে জানেন তো! আর শুধু তাই নয় তার সাথে সাথে আমরা খুব অদ্ভুত ও ...... আমরা না, সময় থাকতে থাকতে কোনো মূল্য দিতে জানি না  প্রতিনিয়ত আঘাত করে করে বুঝিয়ে দিই তার গুরুত্ব বা কদর কতখানি  কিন্তু যখন সে থাকে না তখন আবার তার জন্য কেঁদে ভাসিয়ে দিই .... রূপবালা সিংহ রায়...🖋️

মেঘের জবাব - রূপবালা সিংহ রায় // বৃষ্টির কবিতা // বর্ষার কবিতা // বাংলা কবিতা ।

ছবি
  মেঘের জবাব রূপবালা সিংহ রায়  Megher Jobab by Rupbala Singha Roy// New Bengali Poetry// Notun bangla kobita// Borshar kobita. জানিস তো মেঘ রাগ হচ্ছে , তোর ওপরে ভারী  ভাবছি তাই বলবো না কথা তোর সঙ্গে আড়ি । তুই না কেমন , রাগ দেখাচ্ছি তবুও যাস না ছেড়ে! ভিজিয়ে দিলি হাতটা আমার অঝোর ধারায় ঝরে  কবে থেকে জানতে চাইছি কেমনে তুই উড়িস দেশ থেকে দেশ দেশান্তরে বিনা দ্বিধায় ঘুরিস।  নদী-পাহাড়-সাগর ফেলে যাস তেপান্তরে  অত উঁচুতে উড়ে বেড়াস, ভয় নেই তোর অন্তরে ?  মেঘ বলল , বোকা তুমি এটাও নেই জানা ? উড়তে হলে শুনতে নেই কোনো কিছুর মানা । পুড়তে হয় জলের মতো, সইতে হয় বাধা  চড়তে হয় উঁচু পাহাড় ভেদ করে গোলক ধাঁধা।  হতে হয় ভীষণ হালকা তবে ভেতর থেকে নয়  রাখবে মনে এই কথাটা "যে সয় সেই রয়"  দেখবে তখন দিনের শেষে পারছো তুমি সব  থামছে সে সব কথার বুলি থামছে কলরব । যাই এখন, সময় হল অন্য দেশে যাওয়ার  পরে এসে যেন , আর না শুনি এই কথাটা আবার । #মেঘের_জবাব #রূপবালা_সিংহ_রায়....🖋️

শিশু মন - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

  শিশু মন রূপবালা সিংহ রায়  Sishu Mon by Rupbala Singha Roy // Bangla Golpo // Bengali Story // New Bengali Story. পড়ার টেবিলের সামনে ছোট্ট জানালাটা থেকে দেখা যাচ্ছে এক চিলতে আকাশ । টিউশন টিচারের দেওয়া হোম ওয়ার্কটা করতে করতে বছর আটের ঋজু হাতের উপর হাত দিয়ে তার ওপর মাথাটা রেখে তাকিয়ে আছে আকাশটার দিকে । মাঝেমধ্যে দুটো একটা করে পাখি উড়ে যাচ্ছে । বেশ খানিকটা দূরে একটা ঘুড়ি উঠছে । ইস্ ! আমার যদি একটা ঘুড়ি থাকতো রোজ ছাদে গিয়ে ওড়াতাম - ভাবতে ভাবতে দেখতে থাকে আকাশটাকে । আকাশটার নিচের দিকের কিছুটা অংশ হালকা লাল রঙের হয়ে আছে । তার উপর থেকে কালো-সাদায় মেশা মেঘগুলো ভেসে যাচ্ছে । সেগুলো কখনো সিংহের মাথার আকার নিচ্ছে তো কখনো সেটাকে আবার পাশের বাড়ির টমের মতো মনে হচ্ছে । টমের কথা মনে হতেই ঋজু ভাবলো আমি যদি টম হতাম কি ভালই না হত ! নটাতে স্কুল মা সেই সকাল সাড়ে সাতটাতে ঘুম থেকে তুলে পড়তে বসিয়ে দেয় । তারপর স্কুল , স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল চারটে । তারপরেও একটু ছাড় নেই । কোনোদিন টিউশনি থাকে , কোনোদিন আবার ড্রয়িং ক্লাস , তো কোনোদিন গিটার শিখতে যেতে হয় । ভাল্ লাগে না আর...

দু-তিন ঘন্টার জীবন - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা কবিতা // Bengali Poetry // Bangla Kobita ।

  দু-তিন ঘন্টার জীবন  রূপবালা সিংহ রায় যদি হতো জীবনটা দু-তিন ঘন্টার সিনেমা ... হেসে-খেলে কেটে যেত একটুখানি সময়টা ।  অসময় আসলেও দুঃখ হতো ক্ষণকালের ,  দু-ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে নতুন হত জীবনটা ।   সুখী হলেও অল্প হত , থাকতো না তো অবহেলা  দুঃখী হলেও ঠিক সেরকম একটুখানি কান্নাকাটি .. একটুখানি কর্মজীবন আর একটুখানি শয়তানি , একটুখানি আমোদ-প্রমোদ আর একটুখানি বকাবকি । ধনী হলেও একটুখানি গরীব হলেও ক্ষণকালের , অন্নাভাবে দারিদ্রতায় এত বছর কাটতো না হায় ! ঘরে ভাত নেই - ছিন্ন বস্ত্র - কঠোর জীবন  এমনভাবে বাঁচার পরে কেইবা বলো এজীবন চায় ? কত সন্তান জন্মের পর অবহেলায় অনাথ আশ্রমে,  কত মা আবার সন্তান লাগি ঠাকুরের কাছে মানত করে .. সন্তানকে বড় করে পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে , ছোট্ট শিশু একমাস করে থাকে মা-বাবার কাছে পালা করে বিএমএ পড়ার পরে ঘুরতে যে হয় বেকার হয়ে , বৃদ্ধ বাবা ভ্যান চালিয়ে যোগায় অন্ন মুখের পরে , দিনের-পর-দিন , মাসের-পর-মাস , অনন্তকাল  নারী জগৎ অত্যাচারিত পথে-ঘাটে ঘরে ঘরে । প্রতিবন্ধী বন্ধু যারা কত কষ্টে জীবন কাটায়, দেখতে না পায় জগৎটাকে কেউবা আবার হ...

কালবৈশাখী - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story ।

  কালবৈশাখী  রূপবালা সিংহ রায়  কালবৈশাখী - রূপবালা সিংহ রায় // Kalboisakhi by Rupbala Singha Roy  শেষ রাতে কা কা শব্দে হঠাৎই ঘুমটা ভেঙে গেল কুমোদিনীর । এমনিতেই রাতে আজকাল আর ঘুম আসে না তার । শেষ রাতের দিকে একটু ঘুম আসে আবার ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায় । আগে যখন রাতের বেলা চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু করতো তখন জাগতে হতো ছেলে মেয়েদের জন্য । আবার সকাল সকাল উঠতে হতো ঘরের কাজকর্ম করার জন্য । তখন শুধু তার মনে হতো যদি একটু সময় পেতাম আর একটু ঘুমিয়ে নিতাম । আর এখন হাতে অফুরন্ত সময় থাকলেও ঘুমটাই যেন উধাও হয়ে গেছে তার । সবেমাত্র ঘুমটা এসেছে অমনি বৃষ্টির আওয়াজ ও তার সঙ্গে কাকেদের গলা ফাটা চিৎকারে তাও ভেঙে গেল । শুয়ে শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকলো সে । কিন্তু আর ঘুম আসছে না । কাকগুলো এখনো কা কা করেই চলেছে । উঠে পড়লো সে । ঘরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার । তবুও আলো জ্বালালো না সে পাছে যদি তার স্বামী অমিতাভ বাবুর ঘুমটা ভেঙে যায় ! আস্তে আস্তে বাইরের বারান্দায় এলো সে । আলো জ্বালানোর জন্য সুইচ অন করল , কিন্তু জ্বললো না । গ্রামের দিকে এই একটা সমস্যা ঝড় বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায় । এখনো বৃষ্টি হচ্ছে , স...

কমলার কৃপা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // Bengali Story // New Bengali Story ।

  কমলার কৃপা  রূপবালা সিংহ রায়  সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফাঁকা জায়গা দেখে ল্যাম্প পোস্টের ক্ষীণ আলোয় দাঁড়িয়ে কত রোজগার হলো তা গুনছে রতন । আজকাল পায়ে চালানো সাইকেল রিক্সা গুলোতে কেউ আর উঠতে চায় না । আর চাইবেই বা কেন ? তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না যে । তাই ইঞ্জিন রিক্সা না পেলে বাধ্য হয়েই হাতে গোনা কয়েকজনই ওঠে তার রিক্সায় । সেই দিয়ে যা হয় কষ্টে সৃষ্টে চলে সংসার । কমলাটা আজকাল কেমন যেন হয়ে গেছে ! বড্ড খিচিরখিচির করে 'এই নেই ওই নেই বলে । এই টাকায় কি করে চালাবো সংসার ? ইত্যাদি ইত্যাদি'। তার ওপর ছোটো ছেলেটাকে তোলা খাওয়াতে হয় । জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে ওইটুকু টাকায় সেও বা কি করে সব কিছু সামাল দেবে ? একটা ইঞ্জিন রিক্সা যে কিনবে তার জন্যও তো টাকার দরকার । কোথায় পাবো অত টাকা - ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে রতন । ঘরে ঢুকতেই শুরু হয়ে গেল কমলার চিৎকার নিত্যদিনের মতো । রতন কোনো কথা না বলে টাকার ব্যাগটা কমলার হাতে দিয়ে চলে গেল হাত-পা ধুতে । আজ যে তেমন ইনকামই হয়নি । দুশ্চিন্তার ভাঁজ তার চোখমুখ জুড়ে । খেতে বসে কমলা একটাও কথা বলল না । তাহলে কি পরে ঝাড়বে ? আজ...

ছেলেবেলার স্মৃতি - রূপবালা সিংহ রায় // Bangla Kobita // Celebelar Smriti // বাংলা কবিতা // New Bengali Poetry ।

  ছেলেবেলার স্মৃতি রূপবালা সিংহ রায় ইচ্ছা করে ফিরে পেতে আবার সেই ছেলেবেলা , ফেলে আসা দুষ্টুমি খুনসুটি আর একটু খেলা । ব্যথা পেলে এক ছুট্টে যাওয়া মায়ের কাছে ... ফল পাড়তে মাঝেমধ্যে ওঠাও হতো গাছে । বর্ষাকালের বৃষ্টিতে বই ভিজিয়ে ফেলা  কলাপাতার ছাতা আর কলাগাছের ভেলা । কচুপাতায় জলের ফোঁটা কিম্বা ব্যাঙের ডাক , আজও তারা করুন স্বরে দেয় যে আমায় হাক ..... কিতকিত আর কানামাছি খেলতে যাবি ভাই? ভাল লাগেনা বড় বেলা চল না চলে যাই  কোকিলের ওই কুহু কুহু মিষ্টি মধুর গান , হেলে দুলে হাওয়ার তালে নাচছে পাকা ধান । আজও তারা উঁকি মারে আমার মনের মাঝে , হাতটি দিলেই লজ্জাবতী কুঁকড়ে যেত লাজে ! খেলনা বাটি খেলার সাথী হারিয়ে গেল হায় ! স্মৃতিগুলোই বলছে শুধু আয়রে ফিরে আয় ... ঝড়ের সময় আম কুড়ানো কতই মজার ছিল , ছোট্ট বেলার ছোট্ট জীবন কোথায় চলে গেলো ! মনে কি পড়ে রুপালি সেই জোৎস্না রাতের বেলা  চাঁদের সাথে দৌড়ে হেঁটে করতাম কেমন খেলা ? স্নানের সময় জলের মাঝে দিতাম কেমন ঝাঁপ ... আজও আমার এই মনেতে রয়েছে তার ছাপ । শরতের ঐ উড়ো মেঘ আর কাশফুলের বন , পড়ার থেকে কেড়ে নিতো আমার ছোট্ট মন । দিন...

বচন - রূপবালা সিংহ রায় // Bangla Golpo // নতুন বাংলা গল্প।

  বচন রূপবালা সিংহ রায়  মনীশবাবু আর প্রীতলতা দেবীর একমাত্র মেয়ে  মৌপ্রীতি। চার বছর হল মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ।এক বছরের ছোট্ট একটা নাতনিও আছে। মেয়ের বিয়ের পর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এখন প্রায় অবসরে চলে গেছেন। মাত্র দুজনের সংসার । টুকটুক করে চলছে। মেয়ে অন্য বাড়িতে থাকলেও প্রতিদিন একবার করে মা-বাবাকে ফোন করে। বাচ্চাটা হওয়ার পর এ বাড়িতে একটু কমই আসে । ওকে নিয়ে ব্যস্ত সারাদিন। বাচ্চাটা দুপুরবেলা ঘুমিয়ে গেলে মৌপ্রীতি ফোন করলো মাকে। মায়ের সাথে যথারীতি কথা শেষ করে বাবার সাথে কথা বলছে এখন । সমস্ত কথা নাতনিটাকে নিয়ে । সারাদিন সে কি করে ? হাঁটতে শিখেছে কিনা ? মা বাবা বলছে কিনা ? রাতে ঘুমায় না জেগে থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি । প্রায় পৌনে এক ঘন্টা ধরে ওর কথা বলার পর মৌপ্রীতি বলল - "তুমি কেমন আছো বাবা"? মনীশবাবু বললেন - "ভালো আছি তুই ভালো আছিস তো মা ? মৌপ্রীতি - " হ্যাঁ, ভালো আছি"। মনীশ বাবু - "রাতে ঘুমাতে দিচ্ছে ও" ? মৌপ্রীতি - " হ্যাঁ বাবা " । মনীশ বাবু একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন - "কিছু না করো সবার আগে নিজের খেয়ালটা রেখো । সংসারে কত কাজের চাপ। ...

ডিভোর্স ফাইল - রূপবালা সিংহ রায় // Bangla Golpo // নতুন বাংলা গল্প // Bengali Story ।

  ডিভোর্স ফাইল রূপবালা সিংহ রায় হেয়ারিংটা শেষ করে সবেমাত্র চেম্বারে এসে বসেছে সুচরিতা । আজ বেশ তাড়ায় আছে , তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে বাড়িতে। এমন সময় অনিক এসে বলল- "ম্যাম সেই ক্লায়েন্টটা এসেছে"। "কোন ক্লায়েন্ট? আজ আমি যে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট রাখতে বারণ করেছিলাম তোমায় । কোনো কথা শোনো না তুমি আমার । এমন করলে কাল থেকে তুমি আর এসো না আমার কাছে "। রাগে গর্জে উঠল সুচরিতা । বছর সাতান্নের সুচরিতা রায়চৌধুরী সিনিয়র অ্যাডভোকেট অফ আলিপুর জর্জ কোর্ট । বয়সের কারণে তেমন আর দৌড়াদৌড়ি করতে পারে না । কাজের এত প্রেসার তাই বছর খানেক হল অনিককে রেখেছে তার কাজে হেল্প করার জন্য। অনিক সবে মাত্র "ল" কমপ্লিট করে প্র্যাকটিস করছে। একটু থতমত খেয়েই সে বলল - "ম্যাম আমি রাখিনি ওরা বারবার রিকোয়েস্ট করছে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য। ওই যে সেই কাপলটা যারা ডিভোর্সের জন্য এসেছিল কদিন আগে। কি ঝামেলা টাই না করেছিল মনে নেই" ... রাগটা যেন জল হয়ে গেল সুচরিতার । ওদের পাঠিয়ে দাও বলে চেয়ার থেকে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরের দিকে লোকের আনাগোনা দেখতে দেখতে ফিরে গেল নিজের...

মায়ের ছুটি - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story // Best story bangla ।

মায়ের ছুটি  রূপবালা সিংহ রায়  আজ শনিবার বাচ্চাদের স্কুল ছুটি । কিন্তু কুনালের একটা ক্লায়েন্ট মিটিং আছে তাই তানিয়া সকাল সকাল রান্নাটা সেরে ফেলল । কুনাল খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে গেল । ঘরের কাজকর্মও শেষ। বাচ্চা দুটো তানিয়াকে এসে বলল চলোনা মা কোথাও থেকে ঘুরে আসি । তানিয়া ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সময় সাড়ে নটা । কোথায় যাওয়া যায় কোথায় যাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে মনে হল অনেকদিন আদ্যা মন্দিরে যাওয়া হয়নি । তেমন ঘটা করে পূজার্চনা না করলেও তানিয়া মাঝে মধ্যে যায় সেখানে । মায়ের কাছে পুজো দেয় আর সবার জন্য মঙ্গল কামনা করে। ছেলে মেয়ে দুটো যেন মানুষের মতো মানুষ হয় । নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে । তারা যেন সুখী হয় । কুনাল যেন ভালো থাকে । ক'দিন ধরে মায়ের শরীরটা খারাপ , মা যেন ঠিক হয়ে যায়। বাবার শরীর যেন ঠিক থাকে, আরো অনেক কিছু । তারপর ওখান থেকে খিচুড়ি প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফেরে । ওর মেয়ে ওটা খেতে খুব ভালোবাসে।  বাড়ি থেকে মন্দির পাঁচ মিনিটের পথ। তিনজনে পৌঁছে গেল মন্দিরে। তানিয়া একটু ফুল মিষ্টি নিয়ে নিল পুজো দেওয়ার জন্য । আজ বেশ লম্বা লাইন পড়েছে পুজো দেওয়ার জন্য । একে শন...