পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দোসর - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প //নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
দোসর  রূপবালা সিংহ রায়  -- বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে  -- হ্যাঁ হ্যাঁ তাই যাব। ঠেকা নিয়ে বসে আছি তো আমি তোমার। চলেই যাব.... বয়েই গেছে আমার এখানে থাকতে এত অপমান সহ্য করে ! অনেক করেছি আর না।  তারপর কি হলো জানা নেই তপন আর খুঁজে পাচ্ছে না বিশাখাকে। তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়ে গেছে সব জায়গা। কোথাও নেই সে। এমনকি বাপের বাড়ি পর্যন্ত যায়নি। কোথায় গেল সে? রাগের মাথায় কোনো অঘটন ঘটালো না তো ভাবতেই বুকের মধ্যেটা ছ্যাঁত করে উঠলো তার। নিজেকে নিজেই বকুনি দিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। একদম না, একদম উল্টোপাল্টা ভাবা যাবে না। আছে কোথাও আশেপাশেই । আমারই দোষ। কেন যে বলতে গেলাম কথাটা! রাগ হলে আর যেন হুশ থাকে না আমার । কি যে বলি নিজেই বুঝতে পারি না। আমারই বোঝা উচিত ছিল ওই কথাটা শুনে যে মানুষটা নিঃশব্দে ছল ছল চোখ দুটো নিয়ে সামনে থেকে সরে যায় সে কেন অমন ভাবে চলে যাওয়ার কথা বলল? কেন যে তখন বুঝতে পারলাম না আমি কথাটা? ইচ্ছা করছে নিজের দুগালে কষিয়ে দিই দুটো থাপ্পড়। কি করবো এখন? হে ঈশ্বর তুমি ওকে ফিরিয়ে দাও আমার কাছে। কোথায় তুমি বিশাখা?  দূরে রেললাইনের কাছে কতগুলো মানুষ জড়ো হয়ে আছে। ক...

আনন্দ অশ্রু - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
আনন্দ অশ্রু  রূপবালা সিংহ রায় সারা জীবন কি করলে বলো তো মা? নিজেই জীবনে কিছু করতে পারলে না, আবার আমায় বলতে এসেছ! বছর সতেরোর মেয়ের মুখে কথাটা শুনে নিশ্চুপ হয়ে যায় তমসা। সত্যি তো কি করলাম আমি জীবনে? -- ভাবতে ভাবতে গিয়ে দাঁড়ায় ব্যালকনিতে। সবে সবে সন্ধ্যে নেমেছে। যদিও ঘড়িতে সময় এখন সাড়ে পাঁচটা তবুও বেশ অন্ধকার চারপাশটা। অন্ধকার বললে ভুল বলা হবে। চাকচিক্যময় শহরে বাইরেটা দেখে তা বোঝার উপায় নেই, কেবলমাত্র ঘরের মধ্যে ঢুকলেই বোঝা যায় সেখানে আলো নাকি অন্ধকার! ঠিক সেখানে বসবাস করা মানুষগুলোর মত। বাইরেটা দেখে যে বিশ্বাস করবে সেই ঠকবে। যদিও কিছু কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। সেই জন্যই বোধ হয় আজো পৃথিবীটা পৃথিবী রয়েছে। নিজের অজান্তেই দু'চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল তমসার। খারাপ তো কিছু বলেনি মামন। ঠিক কথাই তো বলেছে সে। কি করেছি আমি জীবনে? আজ সত্যিই বড় কষ্ট হচ্ছে তার। মামনের বাবা যখন প্রথমবার কথাটা বলেছিল যতটা না কষ্ট হয়েছিল তার থেকে শতগুণ কষ্ট হচ্ছে তার। হয়তো নিজের সন্তান কথাটা বলল বলে। যাকে হাতে করে মানুষ করলাম, জন্ম দিলাম সেই কথাটা বলল! কি এমন খারাপ কথা বলেছিলাম তাকে? বলেছিলাম এই অবেল...

অঞ্জলী - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // সরস্বতী পুজোর গল্প।

ছবি
  অঞ্জলী  রূপবালা সিংহ রায়   -- কিরে বাবু, এতো সকাল সকাল কোথায় বের হচ্ছিস? -- একটু কাজ আছে মা... -- বাড়িতে যে পুজো হচ্ছে সে খেয়াল আছে? -- কিন্তু আমাকে যে বেরোতেই হবে.. -- তোর জন্য পুজো করা আর তুই থাকবি না? -- থাকব মা। তুমি চিন্তা করো না। আমি সময় মতো চলে আসব বলে পাঞ্জাবির বোতাম গুলো লাগাতে লাগাতে শেখর বেরিয়ে পড়ল সাইকেলটা নিয়ে। বাইক থাকতেও ইচ্ছা করে নিল সে সাইকেল খানা। ঠান্ডা কমে গেলেও বাতাসে এখনো শিরশিরানি ভাবটা রয়েছে। মাঝেমধ্যে তার গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে উঠছে, যতটা না ঠান্ডার জন্য তার থেকে বেশি সুপ্তির কথা ভেবে। 'ও আসবে তো? যদি আসে, কি বলবো ওকে? ও আমার প্রপোজালটা একসেপ্ট করবে তো? নিশ্চয়ই করবে। না করার কি আছে? ওর কথা মতো আমি তো আজ ডাক্তার হয়েছি। হয়ে দেখিয়েছি ওকে। কিন্তু ও কোথায় থাকে সেটা তো জানিনা! আর ওর ফোন নাম্বারটাও জানা নেই। কতদিন পেরিয়ে গেল কিন্তু যেন সেদিন মনে হয়। জ্বলজ্বল করছে সবকিছু চোখের সামনে। ক্লাস এইটে প্রথম দেখা ওর সাথে। বাবার বদলি চাকরির সূত্র ধরে সুপ্তি এসে ভর্তি হয়েছিল শেখরদের স্কুলে। ভালো লাগার কথাখানা শেখর জানাতে পারেনি তাকে তখনও। বলব ...

বীণাপাণি - রূপবালা সিংহ রায় // সরস্বতী পুজোর গল্প // বাংলা গল্প

ছবি
  বীণাপাণি  রূপবালা সিংহ রায় নামটা বীণাপানি হলেও বাস্তবে বীণাপানি হয়ে উঠতে পারেনি তখন বীণাপাণি ভট্টাচার্য । ছোটবেলায় গানের প্রতি আগ্রহ দেখে মা একটা গানের স্কুলে ভর্তি করেছিল তাকে । বাবারও তাতে কোনো আপত্তি ছিল না। যজমানদের বাড়ি থেকে পুজো করে যখন দিন শেষে বাড়ি ফিরতেন তিনি তখন তার প্রথম কাজ ছিল মেয়ের মধুর কন্ঠে গান শোনা। মনটা যেন ভরে যেত মা-বাবা দুজনেরই । মাঝেমধ্যে পাড়ার পুজো মন্ডপে গানও গাইত সে । সবাই যখন হাততালি দিত তখন তার মন আনন্দে ভরে উঠতো । একসময় গান গাওয়াটা তার স্বপ্ন হয়ে উঠলো ।ভাবতো একদিন সে একজন বড় গায়িকা হবে । স্টেজ স্টেজে গান গাইবে । বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে তার নাম ডাক। কিন্তু সেই স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল তার । একটু বড় হলে বাবার যেতে দিতেন না পাড়ার পুজোতে গান গাইতে । বলতেন ব্রাহ্মণের মেয়ে তুমি স্টেজে গান গাইবে , আর পাড়ার ছেলেরা কুনজরে দেখবে । তখন হিতে বিপরীত হবে।  তারপর বিয়ে ঠিক হলো । ওর গান শুনে পাত্রপক্ষ আপ্লুত । ভরিয়ে দিল ওকে প্রশংসায় । তাদের কাছে ও জানতে পেরেছিল যে তাদের বাড়িতে গানের চর্চা আছে। যিনি বীণাপানির কাকা শ্বশুর হবেন তিনি বেশ নাম...

সরস্বতী - রূপবালা সিংহ রায় // সরস্বতী পূজা গল্প // বাংলা গল্প।

ছবি
 সরস্বতী রূপবালা সিংহ রায়  নাম সরস্বতী হলেও পেটে বিদ্যার ছিটে ফোঁটা নেই সরস্বতীর। মফস্বলের এক অভিজাত পরিবারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও সে চামচে করে কোনোদিন খাওয়া হয়নি তার। যদি কিছু কপালে জুটে থাকে তাহলে তা কেবল অবহেলা, অনাদার আর বাবার মুখ নিঃসৃত কটু কথা। আর জুটবেই না বা কেন পরপর চারটে মেয়ের পর এক বুক ছেলের আশা নিয়ে থাকা মানুষটা যখন ধাত্রীর মুখে শোনে এবারও মেয়ে কর্তামশাই। কারই বা মাথা ঠিক থাকে? তাই ও মেয়ের মুখ দেখেননি গোটা একটা বছর।  এক বাড়িতে থাকতে গেলে মুখ না দেখে কি থাকা যায়? হাঁটতে শেখার পর গুটিগুটি পায়ে ছোট্ট সরস্বতী অজান্তেই চলে যেত বাবার ঘরে। কিন্তু বাবার স্নেহ পায়নি সে। কখনো ধমক খেয়ে বা কখনো কখনো গোল গোল রাগান্বিত রক্ত চক্ষু দুটো দেখে বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। যখন বয়স ছয় বছর মা চেয়েছিল স্কুলে ভর্তি করতে। হয়েছিল ভর্তি কিন্তু স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিন সবাইকে প্রণাম করে যখন বাবাকে গেল প্রণাম করতে বাবা বলেছিলেন -- কেন বেকার বেকার স্কুলে যাচ্ছিস আর আমার পয়সা ধ্বংস করছিস! সেই তো বড় হয়ে হাতা খুন্তি নাড়তে হবে। অভিমান হয়েছিল সরস্বতীর। বাবার ঘ...

হারানো সুর - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

 #হারানো_সুর পর্ব -৪ #রূপবালা_সিংহ_রায়  Harano Sur Written by Rupbala Singha Roy // Bengali story // Romantic Bengali Story // Romantic Story // Bangla Golpo. নাকি ওর বার্থডে আর সেলিব্রেট করা হবে না । বড় করে সেলিব্রেশন নাইবা হল ঘরোয়া ভাবে তো হবে ।তাই বলে আন্টি এমন কথা বলবেন ! -ভাবতে থাকে আরণ্যক । তাকে চুপ করে থাকতে দেখে অত্রিকার এক বান্ধবী বলে উঠলো - " হ্যাঁ হ্যাঁ আরণ্যকদা গানটা গেয়েই ফেলো । তা না হলে কিন্তু আর কোনোদিন ওর বার্থডে উইশ করার সুযোগ আসবে না । তাও আবার গান গেয়ে । পাশ থেকে অন্য একজন বান্ধবী বলল - "কেন আসবে না শুনি? ও যদি চায় তবে..." কথাটা শেষ না হতে হতেই অন্য আরেকজন বান্ধবী অত্রিকাকে হালক ঠেলা মেরে ঠাট্টা করে বলে উঠলো - "সেই চান্স কিন্তু নেই । বিয়ের পর প্রথম বার্থডে কিন্তু ভীষণ স্পেশাল হয় । তখন কি আর আমরা থাকবো । থাকবে স্পেশাল মানুষ "। কথাখানা শুনে চমকে উঠলো আরণ্যক । মনের আশঙ্কাটা যে এমন ভাবে সত্যি হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি সে । তার মুখ খানা মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেল । দূর থেকে অত্রিকার মা সেটা লক্ষ্য করে নিশ্চিন্ত মনে চলে গেলেন খাওয়া-দাওয়ার ...

হারানো সুর - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

 #হারানো_সুর (পর্ব - ৩) #রূপবালা_সিংহ_রায়  Harano Sur Written by Rupbala Singha Roy // Bengali story // Romantic Bengali Story // Romantic Story // Bangla Golpo. কোনো কিছুই যেন আর ভালো লাগেনা তার । সারাদিন ঘরেই থাকতে ইচ্ছা করে পড়াশুনোতে আর তেমন মন নেই । এমনি করে দিনের পর দিন অতিক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেল। আজকাল বড় অচেনা মনে হয় অত্রিকাকে । কথা বলা তো দূরের কথা সামনাসামনি হলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। চোখাচোখি হলে চোখ ফিরিয়ে নেয় । মনে মনে ভাবে আরণ্যক যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে । সে নিজেও তো এটাই চেয়েছিল । তবে আজ কেন মানতে অসুবিধা হচ্ছে তার। না না নিজের পাড়ায় মন দিতে হবে । নিজেকে দাঁড় করাতেই হবে । মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হবে। সেই সঙ্গে আরেকজনকে দেওয়া কথা তাকে রাখতেই হবে । তাঁকে দেখিয়ে দিতে হবে আমি পেরেছি । সেটাই হবে যোগ্য জবাব । এমনি করে এক বছর অতিক্রান্ত । অত্রিকা এখন কলেজে পড়ে । আরণ্যকও মন দিয়েছে তার পড়ায় । হঠাৎ করে মায়ের ফোন আসায় ছুটতে হলো বাড়িতে । দাদানের শরীর ভীষণ খারাপ । তাকে ভর্তি করানো হলো হাসপাতালে। পনের দিন যমে মানুষের টানাটানির পর তিনি ...

হারানো সুর - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
হারানো সুর পর্ব -২ রূপবালা সিংহ রায়   Harano Sur Written by Rupbala Singha Roy // Bengali story // Romantic Bengali Story // Romantic Story // Bangla Golpo.  না না মেনে নিতেই হবে ওকে। এতেই ওর মঙ্গল । দিন দিন পড়াশোনাটা তার উচ্ছন্নে যাচ্ছে । পড়াতে একটুও মন বসে না তার । পড়ানোর সময় আমার দিকে এক মনে তাকিয়ে থাকে ঠিকই কিন্তু পড়া শোনে বলে তো মনে হয় না । আর তাছাড়া আমাকেও তো পড়তে হবে মায়ের পাশে দাঁড়াতে হবে । মা আর কত কষ্ট করবে আমার জন্য । বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে মা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে চলেছে । সকালে একটা প্রাইভেট স্কুল , বিকালে টিউশনি , রাতে সেলাইয়ের কাজ । মাঝে মাঝে মাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে সে বাবার মালা ঝোলানো ছবিটার সামনে । মা তো কাউকে কোনোদিন কিছু খুলে বলে না । না আমায় না ঠাম্মি দাদানকে । আর বলেই বা কি লাভ হবে ? আমি ছোটো , দাদান অসুস্থ , ঠাম্মি বৃদ্ধ । সংসার খরচ , ডাক্তার , ওষুধ , তার ওপর আমার মেডিকেলের খরচ । মা আর কত সামলাবে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পড়াশোনা শেষ করে মাকে এবার বিশ্রাম দিতেই হবে - ভাবতে ভাবতে ঢুকলো কলেজে । কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মনে পড়ছে অত্র...

পরম্পরা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প

ছবি
  পরম্পরা  রূপবালা সিংহ রায়  Parampara written by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo // Happy Makor Sankaranti. স্কুল শেষে ছোট্ট বিহান মায়ের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই তার মা সহেলীকে বলল -- জানো তো মাম্মাম আজ না মকর সংক্রান্তি। সারা ইন্ডিয়া জুড়ে এটা সেলিব্রেট করা হয়। ম্যাম বলছিল এক এক জায়গায় এর নাকি এক এক নাম। আমরা বাঙালিরা এই দিন নাকি পিঠেপুলি বানিয়ে খাই। আরে তুমি দেখলে না আগের বছর পাপা এই দিন গিয়েছিল ঠাম্মির কাছে। আর ঠাম্মি আমার জন্য পিঠে পাঠিয়েছিল। কত রকমের পিঠে বানাতে পারে বলো ঠাম্মি। কিন্তু এ বছর আর পিঠে খাওয়া হবে না। ঠাম্মি নেই আর কে পিঠে বানাবে বলো? পাপা আর আমার জন্য।  বাড়ি ফিরে সহেলীর মনে ঘুরতে থাকে বিহানের বলা কথাগুলো। আজ সকালে প্রীতমও কেমন মুখ গোমড়া করে অফিস গেল। অন্যান্য বছর এই দিনটা ছুটি নিয়ে যেত গ্রামের বাড়িতে মায়ের কাছে। প্রথম প্রথম কয়েক বছর সহেলী গেলেও পরে আর যেত না। বড্ড আদিখ্যেতা লাগতো ওসব ওর কাছে। এখন টাকা থাকলেই ওসব হামেশাই কিনতে পাওয়া যায় শহরের অলিতে গলিতে গজিয়ে ওঠা মিষ্টির দোকান গুলিতে। তাছাড়া আজকাল বিভিন্ন ...

হারানো সুর - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
  হারানো সুর প্রথম পর্ব  রূপবালা সিংহ রায় Harano Sur Written by Rupbala Singha Roy // Bengali story // Romantic Bengali Story // Romantic Story // Bangla Golpo. বসন্ত শেষে গ্রীষ্মের আগমন হতে না হতেই আবহাওয়া যেমন ভাবে হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আজ তেমনি উত্তপ্ত অত্রিকা । গ্রীষ্মের প্রখর তাপদাহ যেমন ভাবে পশু-পাখি , গাছপালা সহ সমস্ত মনুষ্য জগতকে একটু একটু করে নিঃতেজ করে দিচ্ছে ঠিক তেমন ভাবে অত্রিকার মনের মধ্যে সেই ভালোলাগা ও ভালোবাসার স্মৃতিগুলোও নিঃতেজ হতে হতে এখন প্রায় নিঃশ্চিহ্নের পথে । প্রখর রোদের মধ্যেও ছাতাটা না মেলেই হেঁটে চলেছে সে । মনের মধ্যে যে লু বইছে তার কাছে এ যেন কিছুই নয় । রাস্তার ওপর ঝরে পড়া লাল হলুদ কৃষ্ণচূড়া ও রাধা চূড়া গুলোকে দেখে গতকাল পর্যন্ত মনে হতো তারা যেন তাকে স্বাগত জানাচ্ছে । সেই সঙ্গে পায়ের কাছে গিয়ে প্রিয় সখীর মতো ফাসফিসিয়ে বলছে দ্রুত পা চালাতে অন্যথায় দেরি হয়ে যেতে পারে । দেরি হলে মা বকবে । কিন্তু তারা যেন আজ তাকে দেখেও না দেখার ভান করছে । পাছে সে তাদেরকে দেখে ভেঙে পড়ে । তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মনে মনে হাসছে এই ভেবে যে আমরাও যেমন শাখ...

দেবীও নারী- রূপবালা সিংহ রায় //Saraswati pujar Kabita // সরস্বতী পুজোর কবিতা।

ছবি
 কবিতা : দেবীও নারী কলমে : রূপবালা সিংহ রায়  Debi O Nari Written by Rupbala Singha Roy // Poetry On Saraswati Puja // Saraswati Puja Poem // Bengali Poetry // Bangla Kobita. সরস্বতী বিদ্যাবতী বল মা তুই আমায় দেখি ?  সকল খানে আজও আমায় সবাই কেন দেয় মা ফাঁকি ? যুগ যুগ ধরে সবাই তোকে দেবী মানে মনে প্রাণে  আমার বেলায় তবে কেন সবাই শুধু পিছু টানে ?  বুদ্ধিদাত্রী বীণাপাণি বিদ্যার দেবী তুই মা নারী , কেবলমাত্র নারী বলেই আমি আমার পড়া ছাড়ি ।পড়তে নারী মন খুলে মা ইচ্ছামত ডিগ্রী নিতে , একটুখানি বড় হলেই বাবা-মা চায় বিয়ে দিতে । বিয়ের পরে বলে সবাই বাড়ির বউ আবার পড়ে নাকি  সংসার করো মনটা দিয়ে অত পড়ে হবে টা কি ?  আবার জানিস সময় হলে ছাড়েনা মা শোনাতে কথা , খোঁটার বহর শুনলে পরে তোরও যে হবে মাথা ব্যাথা। তুইতো মা তোর বীণা নিয়ে গান যে করিস গলা ছেড়ে  আমি যদি গান করি মা আমার বীণা নেয় মা কেড়ে  বাবাও যদি শেখায় গান একটুখানি মনে হলে , সেই বাবাই ছাড়ায় গান বৌমা তার গায়িকা হলে। কত লড়াই লড়বো বল মা হাঁপিয়ে যাই মাঝে মাঝে .. বাধা আমার সবখানে মা সকল পথে...

মোহনা (শেষ পর্ব) - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // রোমান্টিক গল্প।

  মোহনা (শেষ পর্ব) রূপবালা সিংহ রায়  Mohona Written by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo. -- এই দাঁড়া দাঁড়া বর পছন্দ নয় মানে! যখন রাজি হয়েছিলিস তখন ভাবা উচিত ছিল! একটু পরেই বিয়ের লগ্ন শুরু হয়ে যাবে... বর চলে এলো বলে আর তুই বলছিস বিয়ে করবি না? -- শোন আমি ভেবেছিলাম তুই আমার ছোটবেলাকার বন্ধু আমার ব্যাপারটা বুঝবি.. -- দাঁড়া, দাঁড়া, ফোনটা কাটিস না! কি হয়েছে আমায় খুলে বল দেখি! তারপর দেখছি আমি, কি করা যায়... কি হলো কিছু বলছিস না কেন? আরে কিছু বলবি তো.. শোন না, কথা বললে অনেক সময় বড় বড় সমস্যার হাল পাওয়া যায়...  এমন সময় মোহনার দরজায় পড়ল টোকা। তা শুনতে পাচ্ছে অজিত। কেউ ওর ঘরে ঢুকতে চাইছে। আর হবেই না বা কেন বিয়ের কনে বলে কথা। কিন্তু তাদের সামনেও বা ও কি করে বলবে ওর মনের কথাটা-- ভেবে সে মোহনা কে বলল --শোন না বিয়ের লগ্ন তো নটায়। বেশ খানিকটা দেরি আছে তুই কি একবার আসতে পারবি? -- পার্কে এখন ? --হ্যাঁ, এখন।পার্ক এখনো দেড় ঘন্টা খোলা আছে। সাড়ে সাতটায় বন্ধ হবে। আমি শুনেছিলাম.. -- কি করে শুনলি? -- আরে সেদিন গেলাম তো.. -- একা একা? নাকি সঙ্গে কেউ ছিল?...

মোহনা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

ছবি
  মোহনা  রূপবালা সিংহ রায় --এবারটার মত উদ্ধার করে দে প্লিজ... -- না পারব না  --প্লিজ বলছি তো  --কে চায় তোর প্লিজ  --প্লিজ মোহনা,প্লিজ... এই দেখ হাতজোড় করছি। তোর পায়ে ধরছি.. --এই করছিসটা কি? ওঠ! ওঠ! বলছি। আরে, লোকজন দেখছে তো!  --দেখুক  --কি ভাবছে বলতো? --যা ভাবে ভাবুক, আগে তুই বল বলবি মাকে...  --আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। আন্টি ফোন করলে বলে দেবো তুই আমাদের বাড়িতে ছিলিস। আমরা একসাথে পড়াশোনা করছিলাম।  --এইতো আমার লক্ষী সোনা... --ঠিক আছে ঠিক আছে। অতো আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না। এবার সত্যি করে বলতো শুধু কি তোরা তিনজন সিনেমাতে গিয়েছিলিস, নাকি ওই যে মেয়েটা কি যেন নাম? সোহিনী না কি সেও গিয়েছিল ? -- কেন রে জেলাস নাকি? -- ধ্যাত। আমি কেন জেলাস হতে যাব? -- তবে বলছিস যে বড়... -- এমনিই জিজ্ঞাসা করছিলাম। -- জানিস তো, সোহিনী না খুব ভালো মেয়ে। ভালো নাচ করে জানিস। ওর একটা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে। জানিস সেখানে ওর কত ফ্যান ফলোয়ার্স! -- তো আমি কি করবো? নাচবো !  তুই নাচছিস তাতে হচ্ছে না, আমাকেও নাচতে হবে নাকি - বলে মোহনা উঠতে গেলে অজিত তার হাতটা ধরে বসিয...

শুভারম্ভ - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

  শুভারম্ভ  রূপবালা সিংহ রায়  Subhorambha written by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo // New Bengali Story. মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠায় ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল ঋক। খুব রাগ হলো সৌমিলির উপর। "ফোনটা সুইচ অফ কেন করোনি। একটা কাজ যদি ঠিকঠাক করতে পারো"- বলতে যাবে এমন সময় মনে পড়ল সৌমিলি তো নেই। সে তো চলে গেছে সপ্তাহখানেক আগে। না ঝগড়া, না রাগ, না গন্ডগোল কিছুই করেনি সে। চুপচাপ সেদিন এসে বসেছিল ঋকের সামনে। তারপর শান্ত গলায় বলেছিল --"সব দোষ আমার জানতো, আমিই তোমার মনের মত হয়ে উঠতে পারিনি। আর হয়তো পারবোও না কোনো দিন। তাই চলে যাচ্ছি আমি। আমার মনে হয় তোমার আমার থেকে একটু আলাদা থাকা উচিত। আলাদা থেকে বোঝা উচিত আমি ছাড়া তুমি কেমন থাকো, যদিও ভালো থাকবে জানি। তবুও যদি না থাকতে পারো ডেকো চলে আসব। আর যদি থাকতে পারো তো পাঠিয়ে দিও ডিভোর্স পেপারটা। সাইন করে দেবো"।  বেশ আনন্দ হয়েছিল ঋকের সেদিন। আবার সেই স্বাধীনতা, যেটা হারিয়ে গিয়েছিল বছর দেড়েক আগে। "ভালো লাগে না আর সংসারের বোঝা বইতে। তারপর রোজকার খিটির মিটির। অসহ্য এক্কেবারে। একটু ড্রিংকস করলে হবে না, সিগারেট খাও...