পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আদুরে আলাপন - রূপবালা সিংহ রায় // AdureAlapon by Rupbala Singha Roy

আদুরে আলাপন রূপবালা সিংহ রায়   "খাওয়া হয়ে গেলে আমার ঘর থেকে একবার ঘুরে যাস ছোট" -- গম্ভীর গলায় কথাখানা বলে খাবারের থালাটা ঠেলে উঠে পড়ল নন্দিনীর বড় জা সুচরিতা। নন্দিনী তাকিয়ে দেখল তার থালায় এখনো পড়ে রয়েছে আস্ত একখানা রুটি আর আধবাটি তরকারি। প্রথম রুটি খানা থেকে এক টুকরো ছিঁড়ে তরকারিটাতে ডুবিয়ে মুখে নেওয়ার পর থেকেই দিদি ভাইয়ের মুখখানা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেছে। গম্ভীর হওয়ার কারণটা যদিও সে ভালোভাবেই জানে। একটু আগে যখন তার স্বামী আর দাদাভাই খেতে বসলো তখন থেকে। দাদাভাই যদিও কিছু বলেনি, বলেছিল তার স্বামী অরিন। খেতে খেতে মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল -- "এটা রান্না হয়েছে? সব লবণটাই ঢেলে দিলে তো পারতে!" আরো কিছু বলার আগে ভাগ্যিস দাদাভাই তাকে থামিয়ে দেয় তা নাহলে তা যে কতক্ষণ চলতো কেউ জানে না। দিদিভাই তখন খেতে আসেনি, স্কুলের বাচ্চাদের পরীক্ষার খাতা দিচ্ছিল। তাই নন্দিনীও আগে খেয়ে নিতে পারেনি অপেক্ষা করছিল তার জন্য যেহেতু বরাবরই রাতের খাবারটা তারা একসাথে খায়।  দিদিভাই খায়নি বলে যতটা না খারাপ লাগছিল ঠিক ততটাই ভয় করছিল না জানি কি বলবে সে। এদিক ওদিক হলে একটুও সহ্য করতে ...

ভয় - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

  ভয় - রূপবালা সিংহ রায়  বিয়ের প্রথম প্রথম এই জিনিসটা সহানুভূতির সঙ্গে দেখলেও কিছুদিন পর তা ভীষণ রকম বিরক্ত লাগতো শোভনের। এক বছর পার হয়ে যাবার পরও যখন অদিতি বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিত চোখ দুটো ছল ছল করে উঠতো তার। সারা পথটা গুম হয়ে বসে থাকতো। একটাও কথা বলত না সে তার সঙ্গে। বিদায়ের সময় তার বাবা মাও কাঁদো কাঁদো গলা নিয়ে মেয়েকে বিদায় দিত। কোনো মানে হয় এসবের! এতদিনেও কি জিনিসটা সহজ ভাবে মেনে নেওয়া যায় না? একদিন তো সহ্য করতে না পেরে অদিতিকে কথাটা বলেই বসে ছিল সে। তারপর থেকে কেন জানা নেই অদিতি শোভনকে আগে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দিতে। তারপর সে মা-বাবার সাথে কথা বলে, গলা মিলিয়ে রওনা দিত।  তখন ব্যাপারটা বুঝতে না পারলেও আজ শোভন তা ভালো করেই বোঝে। কারণ আজ যে সে তার শ্বশুর মশাই জায়গায় রয়েছে। মেয়েটার বিয়ে দিয়েছে এই মাস ছয়েক হল। মেয়ে বাড়ি যাবার সময় বুকের মধ্যেটা যে কিভাবে মোচড় দিয়ে ওঠে তাকে কেবল মেয়ের বাবা-মাই বোঝে। আর বোঝে সেই মেয়েটা যার দুটো পা থাকে দুই দিকে। মনটা যেন বিয়ের পর দুটো খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়! একটা পড়ে থাকে বাবার ঘরে আর ...

এলোকেশী - রূপবালা সিংহ রায় // Elokeshi by Rupbala Singha Roy

এলোকেশী রূপবালা সিংহ রায়   বিয়ের মোটে মাস তিনেক হয়েছে সুলগ্নার, বেশ অভিজাত পরিবারে।  গ্রামের সাদামাটা পরিবারের মেয়ে মেরে সে। তাই কিছু থাকুক আর থাকুক লক্ষ্মীমন্ত বৌ হওয়ার সব গুণই বিদ্যমান তার মধ্যে। সেইজন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন সহ আশেপাশের পাড়া প্রতিবেশীরাও তার প্রসংশায় পঞ্চমুখ। বাড়িতে মানুষ বলতে সে, তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, জা-ভাসুর আর তাদের তিন বছরের মেয়ে। বেশ সুখেই আছে সুলগ্না। শ্বাশুড়ি আর জা তাকে বেশ আগলেই রাখে। কিন্তু মাঝেমধ্যে তার ভাসুরের চাহনি  ভীষণ খারাপ লাগে তার। কেন জানা নেই তার সামনে যেতেই ইচ্ছা করে না। এক বাড়িতে থেকে তো আর সেটা সম্ভব নয় তাই যতটা পারা যায় তাকে এড়িয়েই চলে সে। কিন্তু লক্ষ্মীপুজোর দিন যে ঘটনাটা ঘটল সেটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। পুজো শেষে সবাইকে যখন সে প্রসাদ দিচ্ছিল তখন তার ভাসুর প্রসাদের প্লেটটা নেওয়ার অছিলায় তার হাতের আঙুলগুলো চেপে ধরে। গা ঘিনঘিন করছিল তার। কাকে বলবে কথাটা ভেবে দিদিকে জানায় সে। দিদি বিষয়টা পাত্তা না দিয়েই বলে তোর মনের ভুল হতে পারে । আর তাও যদি না হয় এই বিষয়টা নিয়ে তুই কার সাথেই বা কথা বলবি? আর তাছাড়া তো...

বেড়ি কেবল পড়বে কেন - রূপবালা সিংহ রায় //কালীপুজোর কবিতা // কালী পূজার কবিতা।

বেড়ি কেবল পড়বে কেন  রূপবালা সিংহ রায়  বেড়ি কেবল পড়বে কেন  নারীর পায়ে এই দুনিয়ায়, তাইতো উমা স্নেহ ভুলে  খড়্গ নিয়ে সামনেতে ধায় ... বাঁধন বারণ কারণ ছিঁড়ে  অট্টহাস্যে ভয়ংকরী,  দয়া ভুলে মায়া ভুলে  সব খারাপের বিনাশকারী।   যেদিকে চায় আঁধার ফুঁড়ে  আলোর শিখা ওঠে জ্বলে,  তাইতো তাকে শক্তিরূপে  পূজা করে স্বয়ং ভোলে। কালো হয়েও কালো ঘোচায়  এমন শ্যামা শিব ঘরণী,  জ্যোতির্ময়ীর জোৎস্না মেখে  উজ্জ্বলিত এই ধরণী।

বলতে পারিস ওমা শ্যামা - রূপবালা সিংহ রায় // কালী পূজার কবিতা // কালীপুজোর কবিতা।

ছবি
বলতে পারিস ওমা শ্যামা  রূপবালা সিংহ রায়  তুইতো শ্যামা ভীষণ কালো  আঁধার সম তোর ঐ রূপ, তবু তোকে পূজে সবাই  তোর সামনে জ্বালায় ধূপ! তুই তো শ্যামা শ্মশানবাসী রাত বেরাতে বাইরে থাকিস, তবুও তোকে কেউ বলে না  রাতের বেলায় কি করিস? তুইতো শ্যামা চন্ডালিনী  কথায় কথায় রাগিস বড় , তবুও তোর সামনে সবাই  হাত দুটোকে করে জড়ো!  তুই তো শ্যামা ভয়ংকরী  রুদ্রমূর্তি মুণ্ড ধারী, লক্ষ্মী হ' বলে কেউ  পরায় না তোর পায়ে বেড়ি।  তবু কেন বলতে পারিস  ওমা শ্যামা আমার বেলায়? সবাই শুধু ধরে ধরে  হাজার রকম কথা শোনায়! বাংলা কবিতা//নতুন বাংলা কবিতা// কালী পূজার কবিতা// কালীপুজোর কবিতা// bangla kobita// Bengali Poetry//Kobita ।