যদি কিছু দিতে চাও সুখ স্মৃতি দিয়ে যাও - রূপবালা সিংহ রায় // সেরা নতুন বাংলা গল্প‌ // নতুন বাংলা গল্প // মন ভালো করা বাংলা গল্প // মন ভালো করার গল্প।

যদি কিছু দিতে চাও সুখ স্মৃতি দিয়ে যাও 

রূপবালা সিংহ রায়...✍🏻


প্রত্যেকদিনের মত আজও জয়ী ছেলেকে নিয়ে পার্কে গিয়েছে । সারাদিনের সকল ক্লান্তি যেন দূর হয়ে যায় পার্কে এলে । মাথার উপর খোলা আকাশ আর মুক্ত বাতাস যেন মনটাকে শান্ত করে দেয়। ছেলে খেলছে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে। দু পাক হেঁটে এসে জয়ী বসলো একটা বেঞ্চে। হঠাৎই পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো কেমন আছো ? জয়ী উত্তর দিল- "ভালো আছি । আপনি কেমন আছেন মাসীমা?" ভালো আছি বলে বছর ষাটের ভদ্রমহিলা তার স্বামীর হাত ধরে হেঁটে চলে গেলন । বয়স বাড়ার কারণে মাসিমার কোমরে প্রচন্ড ব্যথা। একটু কুঁজো হয়েই হাঁটেন । পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত বেল্ট লাগানো । স্বামী-স্ত্রীর প্রতিদিনের মতো গল্প করতে করতে হাঁটছেন। দুজনের মুখেই হাসি আর অনর্গল কথা বলে চলেছেন তাঁরা । তাঁদের কথার যেন শেষই নেই ।যতক্ষণ পার্কে থাকেন কথা বলেই চলেন.... বর্তমানকে অতীত করে দিয়ে জয়ী চলে গেল ভবিষ্যতে। মাসিমার জায়গায় সে আর মেসোমশায়ের জায়গায় তার হাজবেন্ড অনিমেষ । অনিমেষ কি তাকে নিয়ে আসবে পার্কে হাঁটাতে ? যদিও বা আনে তারা গল্প করে একে অপরকে কি মাতিয়ে রাখতে পারবে ? দেখাশোনা করে বিয়ে তাদের । একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করে অনিমেষ। সারাদিনের অফিস করে অনেক রাত্রে ঘরে ফেরে । তেমনভাবে কথা বা গল্প করা হয়ে ওঠে না তাদের । জয়ীও সংসার আর ছেলে নিয়ে ব্যস্ত। দুজন দুজনকে সময় দিতে পারেনা কখনো । প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা হয় না । দুজন দুজনের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি আজও তারা । তাই আর মন খুলে গল্প করা হয়ে ওঠে না । ভাবতে ভাবতে মাসিমা আর মেসোমশাই বসলেন পাশের বেঞ্চে। সেখানে বসে আছেন সুবিনয় আংকেল। সুবিনয় আংকেল জয়ীদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন । এক বছর হল মাসিমা মারা গেছেন। সুবিনয় আংকেল ঠাট্টা করে বলে উঠলেন - "বেশ তো চলছে বুড়ো বয়সে প্রেম। তা হঠাৎই বাড়ল নাকি বরাবরের।" মাসিমা বললেন- " না স্যার এটা প্রথম থেকেই। আমরা প্রতিদিন সকালে মর্নিং ওয়াক করতাম ।তারপর ফিরে এসে ও আমাকে ঘরের কাজে কিছুটা সাহায্য করে অফিসে যেত ।তারপর ছেলে-মেয়ে । ওদের স্কুল , সংসারের চাপে মর্নিংওয়াকটা বন্ধ হয়ে গেল । কিন্তু ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়তাম দূরে কোথাও। না হলে কাছাকাছি কিংবা এই পার্কে । " মেসোমশাই পাশ থেকে বললেন - " সঙ্গে আর কি যাবে ভায়া ? এইটুকুই তো যাবে।" সুবিনয় আংকেল আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন - " ঠিক বলেছ জীবনে কি পেলাম বলতো ? আমি ব্যস্ত থাকলাম অর্থ উপার্জনে আর উনি সংসার নিয়ে । সংসার সংসার করতে করতে উনি তো চলে গেলেন । আমি এখন ছেলে বউয়ের সংসারে বাড়তি একজন মানুষ । আমার চারপাশে সবাই আছে তবুও আমি একা। " পাশ থেকে কথাগুলো শুনছিল জয়ী। এমন সময় ছেলে এসে বলল-" মা বাড়ি যাবে না "।ছেলের হাত ধরে রওনা দিল সে বাড়ির উদ্দেশ্যে । মনের মধ্যে সুবিনয় আংকেলের কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। সুবিনয় আংকেলের জীবন চায়না সে । চায় মাসিমা আর মেসোমশাই এর মত জীবন । জীবন যুদ্ধে যখন একজন পরাজিত হয়ে চলে যাবে না ফেরার দেশে তখন অপরজন যেন আফসোস করে না ফেরে । বাকি জীবনটা যেন সে তাদের সুখ-স্মৃতি নিয়ে অতিবাহিত করে । কাল ওদের বিবাহ বার্ষিকী প্রতিবছরের মতো অনিমেষ আজ রাতে জিজ্ঞাসা করবে কি গিফট চাই তোমার ?

 তখন সে বলবে-

 

" যদি কিছু দিতে চাও ,

                সুখ-স্মৃতি দিয়ে যাও ।

   স্বর্ণ-অলংকার নাহি চাহি ,

                তোমা হতে সময় কিছু মাগি ।।

   চলিবে জীবন শেষে ,

                 তুমি মোরে ছাড়ি একা ।

   নতুবা আমারে তুমি 

                  নাহি পাবে যবে দেখা ...

   কিছু যদি নাহি রহে ,

                 সম্বল রহিবে স্মৃতি-খানি ।

   তাহা লয়ে কাটাইও 

                শেষ বাকি জীবন-খানি । "


মন ভালো করা নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা গল্প ,বাংলা গল্প ,mon valo kora bangla golpo ,romantic bangla golpo ,new bengali story ,মন ভালো করা সেরা বাংলা গল্প ,new bengali stories,সেরা গল্প ,popular bengali story ,bengali story and poetry ,




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।