অপেক্ষা - রূপবালা সিংহ রায়//বাংলা গল্প//নতুন বাংলা গল্প//জামাইষষ্ঠীর গল্প//bangla golpo//bengali story ।

 অপেক্ষা

রূপবালা সিংহ রায়


আজ বাদে কাল জামাইষষ্ঠী। তাই আর বাজারে পা ফেলার জো নেই। বাজার এখন জামাইদের শ্বশুর শাশুড়ির দখলে। কান পাতলে শোনা যায় কার জামাইয়ের কি পছন্দ কি অপছন্দ তার তালিকা। শ্বশুরমশাইদের ফর্দের তালিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জিনিসপত্রের দামও। আমি কাঁঠাল থেকে শুরু করে শাকসব্জি, মাছ, মাংস এমন কি মিষ্টির দোকানগুলোতেও পর্যন্ত লেগেছে তার ছোঁয়া। ইচ্ছা করে না দীপ্তর এই সময় শ্বশুর বাড়ি যেতে। বিশেষ করে এই জামাইষষ্ঠীর দিনটাতে। একে তো এত গরম তার ওপর শ্বশুর বাড়ি বেশিরভাগ সময় কারেন্ট থাকে না। তার ওপর অমন রাক্ষুসে খাওয়া দাওয়া। এই গরমে একটা দুটো হালকা-পাতলা তরকারি হবে ব্যাস। তা নয় অতগুলো পদ খাওয়া যায়। অত খাওয়া মানে ভুঁড়ি ফুলে ঢোল। এমনিতে রোজ জিমে গিয়েও ভুঁড়ি টাকে বাগে আনা যাচ্ছে না তার ওপর ওসব। তাই এবার সে তার স্ত্রী রিমঝিমকে সোজা বলে দিয়েছে -- তুমি একা চলে যাও এবার। আমার যাওয়া হবে না, পেটটা কেমন যেন গড়বড় করছে। তার ওপর শরীরটাও ভালো লাগছে না অতটা দূরের পথ বুঝতেই তো পারছ।সরাসরি যাবো না কথাটা বললে তো আর রক্ষা থাকবে না শুনতে হবে কত কথা -- দেওয়ার ভয়ে যাবেনা, ঘর কুনো মানুষ একটা, অন্য জায়গায় হলে ঠিক যেত আমার বাপের বাড়ি না তাই অত ঢং ইত্যাদি ইত্যাদি তার থেকে এই ভালো। তবে একটু একটু খারাপ লাগছে ও যাবে না বলছে বলে। আর যাবেই বা কি করে জামাইষষ্ঠীতে জামাই ছাড়া মেয়ে যায় কি করে একা একা! তাই সব ভেবে চিন্তে এখনো দোটানায় রয়েছে সে। যাব কি যাব না ভাবছে। সব্জি বাজার শেষ এবার মাছটা নিলেই বাঁচা যায় ভাবতে ভাবতে সে ঢুকলো মাছ বাজারে। গিয়ে হাজির চেনা পরিচিত হারু কাকার দোকানে। ভিড় তো লেগেই আছে তার ফাঁকে হারু কাকা কাকে যেন বলছে -- দাদা আপনি এত মাছ কেন নিচ্ছেন বৌদি আমায় ফোন করেছিল আপনাকে মাছ না দিতে। ভদ্রলোক কেন বলে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে, হারু কাকা বলে -- আপনার মেয়ে জামাই নাকি কতটা মাছ মাংস কিনে আপনাদের বাড়ি গেছে। আর এত নিয়ে গেছে যে ফ্রিজে রাখার জায়গা নেই। ভদ্রলোক একগাল হেসে বললেন - দেখলে হারু আমার জামাইয়ের কান্ড কারখানা যাই বাড়ি আগে তারপর এমন বকা বকবো না.... আমার মেয়েটা হচ্ছে যত নষ্টের গোড়া! নিশ্চয়ই ও বলেছে... বলি কেন আনবিক তোরা ওসব ? আমার কি এতটাই খারাপ অবস্থা যে আমি একদিন মেয়ে জামাইকে ভালো-মন্দ খাওয়াতে পারব না? এখনও পেনশনের টাকা ঢোকে মাসে মাসে আমার ব্যাংকে! হারু কাকা তাকে থামানোর জন্য বলে -- হ্যাঁ দাদা শিগগিরি যান। তা শুনে উনি চলে গেলে অন্য আরেকজন বলেন -- কপাল দেখো ওনার! হারু কাকা সহ দু-তিনজন তার কথায় সম্মতি জানিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।


 এতে দীর্ঘশ্বাসের কি আছে? ভালই তো, বাবা কষ্ট করে বাজার করবে ভেবে মেয়ে জামাই বাজার করে নিয়ে এসেছে। এদের যত্তসব ভেবেও নিজের রাগকে দমন করতে না পেরে দীপ্ত বলল -- কেন কি হয়েছে হারু কাকা? এমন ভাবে বলছো কেন? ভালো তো মেয়ে জামাই কত ভাবে!


-- আর বলো না বাবা মেয়ে জামাই থাকলে তো বাজার করে নিয়ে আসবে। বছর চারেক আগে এমনই জামাইষষ্ঠীর আগের দিন একমাত্র মেয়ে আর জামাই ওনার বাড়ি আসার সময় একটা অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়। তবে থেকে উনি কেমন যেন পাগল পাগল হয়ে গেছেন প্রায় দিনই আসেন এখানে। এসে বলেন -- মেয়ে জামাই আসবে মাছ দাও, কাল জামাইষষ্ঠী তো সেই জন্য। তাই বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। ওদিকে ওনার স্ত্রী আবার চিন্তা করবেন। তারও তো বয়স হয়েছে। আর কোনো ছেলেপুলও নেই যে দেখভাল করবে। এমনিতে তো যাবে না মেয়ে জামাইয়ের নাম শুনলে যদি যায় তাই বলতে হল মিথ্যে কথাটা। হারু কাকার কথাটা শুনে হুঁশ ফেরে দীপ্তর। সত্যি মা-বাবাদের কত আশা থাকে এইরকম পার্বণগুলোকে নিয়ে। কত অপেক্ষা থাকে কত আশা থাকে। এটা পালনের মাধ্যমে যদি মেয়েটাকে দুটো দিন কাছে পাওয়া যায়।।তড়িঘড়ি ফোন বের করে রিমঝিম কে বলে -- ও বাড়ি বলে দাও আমরা যাচ্ছি।


-- সত্যি! সত্যি তুমি যাবে? 


-- আরে বাবা হ্যাঁ যাব। তুমি ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নাও, খেয়ে দেয়ে বিকেলে বেরোবো।


#অপেক্ষা 

#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️©️

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।