পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

খুঁজে পাওয়া - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প।

ছবি
 আমার আজকের গল্পের নায়ক নায়িকা আদি আর মিতালী—ভালোবাসার বিয়ে তাদের। সবাইকে না জানিয়ে নয়, লড়াই করেই একসাথে হওয়া। দুই পরিবার প্রথমে মানতে চায়নি, তবুও সময়ের সাথে আর তাদের জেদের সাথে হার মেনে অবশেষে মেনে নিয়েছিল। তখন তাদের মনে হয়েছিল—এবার আর কোনো কিছুই আমাদের আলাদা করতে পারবে না। কলেজেই প্রথম পরিচয় হয় তাদের, বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা। কত স্বপ্ন দেখেছিল তারা দুজন দুজনের কাঁধে মাথা রেখে —একসাথে একটা ছোট্ট সংসার, কাজের ফাঁকে এক কাপ চা, ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়া। সে স্বপ্ন কি করে বিফলে যেতে দিত তারা! বিয়ের প্রথম বছরটা যেন স্বপ্নের মতো কেটেছিল। ছোট্ট ফ্ল্যাট, বেশ সাজানো গোছানো! মিতালী মনের মত করে সাজিয়েছিল নিজের সংসারটাকে একটু একটু করে। ব্যালকনিতে ফুলের গাছ, রান্নাঘরের মসলার কৌটো , জানালার পর্দা , দেওয়ালে ফটো ফ্রেম আরো কত কিছু ।  সকালে একসাথে চা খাওয়া, রাতে একসাথে রান্নাকরা— তো কখনো কখনো একে অপরের অবস্থা বুঝে বলা - --"আজ তুমি রান্না করো না, আমি করছি --না, তুমি বসো, আমি করে দিচ্ছি" এই ছোট ছোট ভালোবাসাগুলোতেই ভরেছিল তাদের সংসার। কিন্তু সময় বদলাতে বেশি দেরি হয় না দুজনেরই ক...

এসো হে বৈশাখ এসো এসো - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // পহেলা বৈশাখ।

ছবি
 -- বাবান, এই বাবান। উঠবি তো, তানাহলে গায়ে জল ঢেলে দেবো কিন্তু ছোটবেলাকার মতো।  -- মা, তুমি না বড্ড জ্বালাও! কি হয়েছে বলবে একটু দয়া করে। আর ভাল লাগে না, ধূর! কেন দিনকে দিন আমার ঘুমের শত্রু হয়ে উঠছো বলতে পারো? আর তাছাড়া এত সকাল সকাল উঠে কি রাজ কার্য করব আমি শুনি এই ছুটির দিনে? -- চল ওঠ। আর উঠে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। -- কেন, সেটা তো বলবে? -- আমি অতশত বলতে পারবো না। যা বলছি তাই কর দেখি, দেরি হয়ে যাচ্ছে। -- আমি কি করব তাতে? তোমরা দেখছি একটু শান্তি দেবে না আমায়! বিয়ে বিয়ে করে মাথাটা গেছে দেখছি তোমাদের! কোথায় ভাবলাম রবি,সোম, মঙ্গল পর পর তিনদিন ছুটি একটু মনের সুখে বেলা পর্যন্ত ঘুমাবো তা নয় রবি সোমটা মেয়ে দেখতে যাওয়ার চক্করে ঘুমটা নষ্ট করলে আমার। আজ মঙ্গলবার তার ওপর পয়লা বৈশাখ এই দিনটাতেও নিস্তার দেবে না। -- না দেবো না। ওঠ তো এবার ঝটপট করে। -- না উঠবো না। তোমরা যাও। কানা খোঁড়া যাকে পছন্দ করবে তাকেই বিয়ে করবো। যাও তো আর জ্বালিও না আমায় বলে মায়ের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে আর্য সময় দেখার জন্য চোখ রাখল মোবাইল স্ক্রিনে। সর্বনাশ এখন ভোর সাড়ে চারটে! আর শুয়ে থাকতে পারলো না সে...