মন উড়ো পাখি - রূপবালা সিংহ রায় // Mon Uro Pakhi // Bangla Golpo // New Bengali Story ।


মন উড়ো পাখি

রূপবালা সিংহ রায়


 সকাল বেলা বাসন পড়ার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো প্রিয়াংশুর। বাসনপড়া তো নয় যেন মনে হল কেউ একঝাঁপ বাসন ইচ্ছা করে ছুঁড়ে ফেলেছে মেঝেতে। অর্ধ ঘুমন্ত চোখে চশমাটা লাগিয়ে উঁকি মারলো রান্নাঘরে । দেখল বছর দুয়ের টিনটিন দাঁড়িয়ে রান্না ঘরের এক কোণে । আর তার মা অদিতি রাগে গজ গজ করতে করতে বাসন গুলো তুলছে । কোনো রকমে ছেলেটাকে কোলে নিয়ে লিভিং রুমের সোফায় বসালো প্রিয়াংশু। তারপর ব্রাশটা মুখে নিয়ে মিষ্টি করে বলল -"এক কাপ চা হবে গো"। এই কথা শুনে জ্বলে উঠল অদিতি - "হ্যাঁ আমি তো এ বাড়ির নতুন চাকর । আমি তো কিচ্ছুটি জানিনা ! বাবুর যে ঘুম থেকে উঠেই চা লাগে তা তো আমাকে বলে দিতে হবে"- বলতে বলতে চায়ের জল বসাতে লাগলো । কোনো রকম কথা না বাড়িয়ে প্রিয়াংশু টেবিলের উপর থেকে গ্লাসটা নিয়ে পিওরিট থেকে জল ভরতে গেল রান্নাঘরে । পাশ থেকে তীক্ষ্ণ স্বর ভেসে এলো "ঝি চাকর থাকতে আপনি কেন কষ্ট করছেন । এখনো তো আছি বেঁচে , মরে তো যাইনি। মরতে পারলে বাঁচতাম ।" প্রিয়াংশু বুঝলো সত্যি ভুল হয়েছে অন্য দিন তো ও নিজেই আমাকে জলটা দেয়। নিজের ভুলেই কথাগুলো শুনতে হচ্ছে । মুখটা বেজার করে বসলো গিয়ে ছেলের কাছে । ছেলেকে কোলে নিয়ে বলল - "তুমি নিশ্চয়ই দুষ্টুমি করেছ । কেন উঠেছ এত সকাল সকাল "? অমনি ঠক্ করে চায়ের কাপ প্লেট আর জলের গ্লাসটা প্রিয়াংশুর সামনে রেখে ফ্রিজ থেকে মাছ আর সব্জি বার করতে করতে অদিতি রাগী কণ্ঠে বলে উঠল - "এই কাজটা যেন ওনার ছেলে আজ করছে । সেই যবে থেকে উঠে দাঁড়াতে শিখেছে তবে থেকেই ভোর বেলা উঠে আমার পেছন পেছন ঘুরে বেড়ায়। বাবু এসব দেখবেন কেন ? বাবুর সবকিছু তো লোপ পাচ্ছে দিন দিন"। প্রিয়াংশু বুঝলো রাগটা ছেলের উপর নয়, রাগটা ছেলের বাবার উপর। কিন্তু কাল রাত পর্যন্ত সবকিছু তো ঠিকঠাক ছিল। কি হলো আজ সকালে হঠাৎ ? জিজ্ঞাসা করলে তো কিচ্ছু বলবেনা। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে উদ্ধার করে দেবে। এই এক দোষ অদিতির কি নিয়ে রাগ হলো সেটা তো বলে না উল্টে এতটা রেগে যায় যে ঘরে টেঁকা দায় হয়ে পড়ে প্রিয়াংশুর। তাই ভাবল যত তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরোনো যায় ততই ভালো। সন্ধ্যেবেলা একটু রাগ পড়লে না হয় মানিয়ে নেওয়া যাবে । অদিতি চকলেট খেতে খুব ভালোবাসে । সামনে একটা চকলেট ধরলেই আর রাগ ধরে রাখতে পারবে না । ভাবতে ভাবতে প্রিয়াংশুর ভেতরটা যেন এক অজানা যুদ্ধে জেতার আনন্দ অনুভব করল। তারপর ঘড়ির দিকে এক ঝলক তাকিয়ে সে অদিতিকে বলল -"শোনো না আজ আমায় একটু তাড়াতাড়ি বের হতে হবে । বাইকটা থেকে তেল পড়ছে । ওটাকে ঠিক করার জন্য শোরুমে দিয়ে তারপর অফিস যাব ভাবছি" ।


অদিতি সরু অথচ তীক্ষ্ণ স্বরে বলল -"তা গাড়ি থেকে কি এখনই তেল পড়তে শুরু করেছে ! নিশ্চয়ই না ? আগে বেরোবে রাতে বললে তো হত ।


-- "তুমি চিন্তা করো না আমি বাইরে ব্রেকফাস্ট করে নেব" বলে প্রিয়াংশু স্নানে ঢুকলো । তারপর রেডি হয়ে এসে দেখলো ডাইনিং টেবিলে খাবার রাখা- আলু মাখা , ডিমের অমলেট সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম ভাত । কোনরকমে একটু খেয়ে বেরিয়ে পড়ল সে। প্রতিদিনের মতো গ্যারেজ থেকে বাইকটা বার করে ব্যালকনির দিকে তাকালো । কিন্তু সে কেবল একটা মানুষের ছায়া দেখতে পেলো। না অনেকখানি রেগে আছে, তা না হলে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বাই করতো অদিতি । কেন যে রাগ হলো সেটাই তো বোঝার উপায় নেই ? তাই অগত্যা অফিসের কাছাকাছি একটা পার্কে গিয়ে বসলো সে । খুব সুন্দর পার্কটা । চারিদিকে বড় বড় গাছ । মাঝে ছোট ছোট চারটে ফুলের বাগান রয়েছে। আর তার পাশ থেকে আছে হাঁটা পথ। কয়েকটা বসার বেঞ্চও রয়েছে। কেউ কেউ মর্নিং ওয়াক করছে সেখানে। আবার কেউ আড্ডাও দিচ্ছেন । এই সব দেখতে দেখতে অফিস টাইম হয়ে গেল ।


সারাদিন অফিসের নানান ঝক্কি সামলে গেল বাইকের কাছে । গাড়িটা দেখে মনে মনে ভাবল -- এই যা সকাল সকাল বউকে মিথ্যে বলে যা হয় ! গাড়িটা থেকে সত্যি সত্যি তেল পড়ছে। ঠিক যদি না করি তাহলে কাল অদিতির চোখে ধরা পড়বে । কারণ কাল থেকে আবার আমাদের পাম্প চালানোর পালা। আর পাম্পটা অদিতিই চালায় । অদিতি না ডাকা পর্যন্ত তো আমার ঘুমই ভাঙ্গে না যা কুম্ভকর্ণের ঘুম আমার! পাম্পটা আবার গ্যারেজ ঘরের এক কোণেই । এ যেন শিরে-সংক্রান্তি অবস্থা । তাই কোনো উপায় না দেখে সেটাকে নিয়ে গেল ঠিক করাতে ।


ঘড়িতে রাত আটটা। অন্যদিন সাড়ে সাতটার মধ্যেই চলে আসে প্রিয়াংশু । ফোন করবো না করবো না করতে করতে ফোন করল অদিতি । 


অদিতি - " কোথায় "? 


প্রিয়াংশু - "এই তো শোরুমে । বাইকটা এখনো ঠিক হয়নি। ফিরতে একটু লেট হবে "।


অদিতি - "রাতে কি রান্না হবে"? 


প্রিয়াংশু - "বউয়ের ইচ্ছে । তা রাগটা পড়েছে নাকি ....অমনি ফোনটা গেল কেটে ।


রাত সাড়ে দশটা প্রিয়াংশু ফিরলো বাড়িতে ।অদিতির মুখটা এখনো পর্যন্ত ভার কিন্তু সেই চেঁচামেচি আর নেই । এটাই সুযোগ ছিল ওকে মানানোর । কিন্তু এক গাড়ির চক্করে পড়ে চকলেটটাই আনা হল না । অগত্যা ফ্রেশ হয়ে বসলো ডাইনিং টেবিলে। অদিতি খেতে দিল প্রিয়াংশুকে খিচুড়ি আর বেগুন ভাজা । অদিতিকে শোয়ার ঘরের দিকে যেতে দেখে প্রিয়াংশু বলে উঠলো -"তুমি খাবে না" ? 


অদিতি -"না আমি টিনটিনের সাথে খেয়ে নিয়েছি"। অদিতি মিথ্যে বলছে বুঝতে পেরে প্রিয়াংশু কিছু বলতে যাবে এমন সময় টিনটিন উঠে কান্না শুরু করল। অদিতি গেল তাকে ঘুম পাড়াতে। ছেলেটা আর ওঠার সময় পেল না ভাবতে ভাবতে প্রিয়াংশু খাবারটা ঢাকা দিয়ে গেল পাশের ঘরে । বার করলো রং আর তুলি । আঁকতে শুরু করলো সকালে দেখা পার্টটার ছবি । ছবি আঁকা প্রিয়াংশুর হবি। সময় পেলেই বসে পড়ে রং তুলি নিয়ে। ছবি আঁকতে আঁকতে সে শুনতে পাচ্ছে মা আর ছেলের অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর । গল্প না শুনলে ঘুম আসে না টিনটিনের। মনে হয় অদিতি তাকে গল্প শোনাচ্ছে। 


টিনটিন ঘুমিয়ে পড়ায় অদিতি উঠে উঁকি মারলো পাশের ঘরে দেখলো প্রিয়াংশু এক মনে ছবি আঁকছে। একটা চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে গিয়ে দাঁড়ালো ব্যালকনিতে । জনবহুল শহরটা এখন নিঝুম । চার-পাঁচটা কুকুর এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছে রাস্তায় । দুটো একটা অস্পষ্ট তারা দেখা যাচ্ছে আকাশে। চোখ দুটো ছল ছল করে উঠলো তার । বড্ড একা মনে হচ্ছে নিজেকে। প্রিয়াংশু কি করে ভুলতে পারে ? কিছু না করুক একটু উইশতো করতে পারতো। না হয় ও ভুলে যায় । কিন্তু ফেসবুকে কি দেখেনি ? সব সময় তো ফেসবুক নিয়েই পড়ে থাকে । এইতো গত রবিবার টিনটিনকে খাওয়াচ্ছিল অদিতি । আর প্রিয়াংশু সোফাতে হ্যালান দিয়ে শুয়ে শুয়ে ফেসবুক দেখছিল । একটা মেয়েকে জন্মদিন উইশ করল সে। জিজ্ঞাসা করায় বলেছিল - "ফেসবুক ফ্রেন্ড "। ওসব নিয়ে যদিও মাথা ঘামায় না অদিতি। কিন্তু বউকে কি একবার শুভ জন্মদিন কথাটুকু বলা যায় না? সবাই উইশ করেছে নোটিফিকেশন পেয়ে শুধু ও বাদে । এই পাঁচ বছর হতে চলল বিয়ের । আজ পর্যন্ত প্রথম বছরের জন্মদিন ছাড়া উইশ করেনি ও । তবুও বাবা-মা এসেছিল বলে উনি ব্যাপারখানা জানতে পেরেছিলেন । চকচক করা চোখ দুটো বেয়ে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ল অদিতির । সবার সবকিছু মনে থাকে ওর , শুধু আমার ছাড়া ভাবতে ভাবতে অদিতি মনে পড়ে গেলে ওবাড়ির কথা । জন্মদিন এলে মা তার পছন্দের খাবার বানাতো। বানাতো পায়েসও। ঠাকুমা মাকে বলতেন মেয়েদের জন্মদিনে পায়েস বানাতে নেই । মা সেসব কথা কানেই তুলত না। স্কুলের সব বন্ধুরা উইশ করত । বেশ মজার ছিল সেই দিনগুলো। জন্মদিনে সে প্রথমবার কেক কেটেছিল ক্লাস ইলেভেনে । টিউশন ক্লাসে গিয়েছিল সেদিন । তন্ময়দা এনেছিল কেকটা । তন্ময়দা ছিল অদিতির টিউশন টিচার । তখন তন্ময়দা বি.এড. করছিল । সেই সঙ্গে টিউশনিও করত । বেশ ভালো পড়াতো । হঠাৎ অদিতির মনে হল - আচ্ছা তন্ময়দা সেদিন কেন আমার জন্য কেক এনেছিল অন্যদের বেলায় তো কেবল উইশ করত । শুধু কি অদিতি পড়াশোনায় ভালো ছিল বলে নাকি অন্য কিছু ... কেমন একটা গন্ধ পেয়ে স্মৃতি ঘাঁটতে শুরু করল অদিতি । বেশ কেয়ারিং ছিল তন্ময় দা অদিতির প্রতি। কোনো পড়া না করে গেলে বকতে যেমন ছাড়তো না তেমনি সেই পড়াটা না করিয়ে ছুটিও দিত না। সেই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে অদিতির মুখ থেকে একটা মুচকি হাসি বেরিয়ে এলো । সে আবারো ভাবতে শুরু করল - তখন ক্লাস টুয়েলভ তন্ময়দা পার্ট-টাইম টিচার হয়েছিল ওদের স্কুলের। যদিও নিচু ক্লাসকে পড়াতো । সেদিন বাড়ি থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়েছিল তার। মিনিট পনেরোর হাঁটা পথ বাড়ি থেকে স্কুলের। তবে খুব একটা দেরি নয় । মোটামুটি ক্লাস টিচার ক্লাসে যাওয়ার আগে পৌঁছে যেত সে । একটু পা চালিয়েই হাঁটছিল সে। পেছন থেকে তন্ময়দা ডাক দিল । সাইকেলটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে বলল - " বসো "। ইতস্তত করছিল অদিতি । 

তন্ময়দা বলল - "কি হল বসো ?তা নাহলে দেরি হয়ে যাবে । আমিও যাব স্কুলে ক্লাস আছে । প্রেয়ারের আগে ঢুকতে হবে । তার কথা ফেলতে পারল না অদিতি । স্কুলের ব্যাগটা সামনে নিয়ে বসেছিল সাইকেলে । তন্ময়দা বলেছিল শাড়িটা গুটিয়ে নিও তা না হলে চাকায় আটকে যাবে। বেশ আস্তেই চালাচ্ছিল সে সাইকেলটা । হঠাৎই স্কুলের একটু আগে সাইকেলটা থামিয়ে বলেছিল - "নামো এবার"। 


সাইকেল থেকে নেমে একটু রাগী ভাবে তাকিয়ে ছিল অদিতি । মনে মনে ভাবছিল এতদূর যখন আনলো স্কুল পর্যন্ত কেন নিল না ? তাহলে প্রেয়ারটা মিস হতো না। তন্ময় দা বলেছিল - "হ্যাংলার মতো তাকিয়ে না থেকে এবার হেঁটে হেঁটে এসো । অনেক এগিয়ে দিয়েছি "। 


আজ অদিতির কাছে স্পষ্ট কেন সেদিন সে তাকে নামিয়ে দিয়েছিল ? তারপর স্কুল ছেড়ে কলেজ তেমন একটা দেখা হতো না তার সঙ্গে । মনে পড়ে তখন কলেজে পড়ে অদিতি 'থার্ড ইয়ার' । তন্ময় দা একটা স্কুলে চাকরি পেয়েছিল । একই ট্রেন ধরতো ওরা । অদিতি উঠতো ফাস্টের দিকে লেডিসে। আর তন্ময় দা ফাস্ট কম্পার্টমেন্টে । তেমন একটা কথা হতো না । অদিতি ব্যস্ত থাকতো কলেজ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে । মাঝে মধ্যে দাদা যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করতো -"কেমন আছো"? অদিতি বলতো- "ভালো" ব্যাস এইটুকুই। সেদিন অদিতি একা দাঁড়িয়ে ছিল স্টেশনে দুই বান্ধবীর কেউই যাবে না কলেজে । তন্ময় দা হঠাৎ সামনে এসে বলেছিল -"চলো আমার সঙ্গে জেনারেলে উঠবে"। না বলে দিয়েছিল অদিতি। সে বলেছিল - "আপনি তো তিনটে স্টেশন পর নেমে যাবেন। আমাকে আরো পাঁচটা স্টেশন একা একা যেতে হবে। বড়ো আনকম্ফোর্টেবল লাগে আমার জেনারেলে"। তন্ময়দা মুখ নিচু করে চলে গিয়েছিল । তাহলে সেদিন কি কিছু বলতে চেয়েছিল সে ? 


এদিকে আঁকাটা যেন এক্কেবারে মনের মতো হচ্ছে না প্রিয়াংশুর । ধ্যাত! অদিতি যেন কেমন ? খালি রাগ আর রাগ , আর শুধু চেঁচামেচি । নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে। দেখল আমি খাইনি, তবুও এলোনা ভাবতে ভাবতে মোবাইলটা হাতে নিল । আজ সারাদিন যা গেল ধরাই হয়নি ফোনটা। নেটটা অন করে খুলল ফেসবুক চোখের সামনে অদিতির প্রোফাইল। শুভেচ্ছায় ভরা। ও মাই গড! আজ অদিতির জন্মদিন । ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে ছুটলো শোওয়ার ঘরে। না এখানে নেই তো। সব ঘর গুলো অন্ধকার। কোথাও নেই সে। অবশেষে গেল ব্যালকনিতে । দেখল সে দাঁড়িয়ে আনমনে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে । ঘরে ঢুকে ঘড়ি দেখল বারোটা বাজতে এখনো পাঁচ মিনিট বাকি। ফ্রিজটা চেক করতে লাগলো । একটা চকলেট পাওয়া যায় কিনা কিন্তু না বৃথা চেষ্টা । চোখের সামনে দেখতে পেলো সাদা সাদা কটা ডিম । অবশেষে দুটো ডিম নিয়ে গেল রান্নাঘরে। অমলেট বানানোর জন্য...


 মাঝে মাঝে ঝড়ো হাওয়া কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জলকে অদিতির গায়ে এনে ফেললেও ভ্রুক্ষেপ নেই তার । সে পড়ে থাকলো তার স্মৃতির ভান্ডারে । গ্রাজুয়েশনের পর বাবা বিয়ে ঠিক করলেন অদিতির প্রিয়াংশুর সঙ্গে । রাজি অদিতিও। খবর পেয়ে বিয়ের দু দিন আগে এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল তন্ময় দা তাদের বাড়িতে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল - কোথায় বিয়ে ঠিক করলেন ? ছেলে কি করে ইত্যাদি ইত্যাদি? পাশের ঘর থেকে শুনতে পাচ্ছিল অদিতি। হঠাৎ টেবিলে থাকা জলের জগটা তুলে নিয়ে বাইরে গিয়ে চোখে মুখে জল দিচ্ছিল তন্ময় দা। তখন তার বন্ধু বাইরে এসে জিজ্ঞাসা করেছিল কি হলো রে? তন্ময় দা তখন বলেছিল - "চোখে পোকা পড়েছে"। যাওয়ার সময় বলেছিল -" ভালো থেকো অদিতি"। অদিতিও বলেছিল - "আপনিও ভালো থাকবেন"। যাওয়ার সময় বারবার পেছন ঘুরে দেখছিল তন্ময় দা। তারপর থেকে আর দেখা হয়নি তার সঙ্গে । কিছু বলতে চেয়েছিল সে? -- ভাবতেই পেছন থেকে দুটো শক্ত হাত জড়িয়ে ধরল তাকে। আর সেইসঙ্গে কানে ভেসে এলো - "আই লাভ ইউ"। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রিয়াংশু তাকে কোলে তুলে নিয়ে বসিয়ে দিল ডাইনিং টেবিলে । তার সামনে রাখা আছে এক থালা খিচুড়ি বেগুন ভাজা আর ধোঁয়া ওঠা আধ পোড়া ডিমের অমলেট ‌। খাবার মুখে তুলে দিতে দিতে প্রিয়াংশু বলল -" হ্যাপি বার্থডে"। অদিতি চোখ দুটো সরু করে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল -"কটা বাজে এখন"? 


ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়ে গেছে দেখে প্রিয়াংশু হেসে বলল -" এটা পরের বছরের জন্য । যদি তখন ভুলে যাই তাই আগাম শুভেচ্ছা বার্তা "। সঙ্গে সঙ্গে এক থাবা খিচুড়ি গিয়ে পড়লো প্রিয়াংশুর টি-শার্টের উপর । প্রিয়াংশু কিছু বলার আগে অদিতি বলল -"এটা এ বছর উইশ না করার শাস্তি "। আর এক থাবা নিয়ে ছুড়তে যাবে অমনি প্রিয়াংশু তাকে জড়িয়ে ধরল । তারপর দুটো মন এক হয়ে খুশির আনন্দে মিশে গেল বর্ষা রাতের আকাশে বাতাসে।


#মন_উড়ো_পাখি

#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️


সেরা নতুন বাংলা গল্প,

নতুন বাংলা গল্প ,

মন ভালো করা বাংলা গল্প ,

মন ভালো করার গল্প,

notun bangla golpo ,

classic bangla golpo,

bangla romantic love story,






banglagolpo ,bengalistory ,saanjhbatirrupkothay ,rupbalasingharoy

সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।