পরিবেশ দিবস রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // বিশ্ব পরিবেশ দিবস // ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে // বাংলা ছোট গল্প।
পরিবেশ দিবস
রূপবালা সিংহ রায়
এই ছেলে মেয়ে দুটোকে নিয়ে আর পারা যায় না! কবে যে স্কুলটা খুলবে কে জানে? সারাদিন বাড়িটা যেন মাথায় করে রেখেছে। আর ভালো লাগে না রুচিরার। বেশি হচ্ছে মেয়েটা। মেয়ে মানুষ কোথায় একটু শান্ত শিষ্ট হবে তা নয় বদমাইশের হাঁড়ি এক্কেবারে। কথায় কথায় ছেলেটার পেছনে লাগে! আর ছেলেটাও হয়েছে তেমনি একটু কিছু হল কিনা হল ভ্যাঁ করে কেঁদে এসে পড়ে তার সামনে। এমনিতে সংসারের কম কাজ! তার ওপর এই দুজনের খুনসুটি, প্রায়ই হিমশিম খায় সে। এর ফলে মাঝে মাঝে মাথাটা যাচ্ছে গরম হয়ে। বকছে মেয়েকে। মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছে -- তুমি শুধু তোমার ছেলেকে ভালোবাসো আমাকে নয়।ও..ও..তো আমাকে মেরেছে। কই ওকে তো মারলে না? সত্যি তো, তা তো দেখা হয়নি। এবার একটা সমতা আনার জন্য লাগায় ছেলেটার পিঠে একটা চাপড়। এই হচ্ছে তার বর্তমান দিনপঞ্জি। এখন কেবল অপেক্ষা কখন গরমের ছুটিটা শেষ হবে আর দুটো বাড়ি থেকে বের হবে। তাহলে অন্তত ঘন্টা ছয়েকের জন্য শান্তি।
সকালবেলা ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে হাজির সে ছেলে-মেয়ের ঘরে। ঘুমোলে ওদের মত শান্ত, সুন্দর বাচ্চা আর কেউ নেই আর এই বিশ্বে। শুধু তো ঘুমানোর সময় নয় যখন আনমনে দুজন খেলা করে, গল্প করে, এ ওর কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে কিংবা যখন একা থাকে তখন ওদের জুড়ি মেলা ভার। শুধু তো তখন নয় যখন মাঝেমধ্যে দুপুরবেলা রুচিরা ঘুমিয়ে পড়ে একটুও টুঁ-শব্দ হয় না। বোঝাই যায় না ঘরে দুজন মানুষ রয়েছে। ওদের ঘুমন্ত মুখ দুটো দেখে তার মনে পড়ে যায় সেদিনকার কথা। এমনিতে দুপুর বেলা তার ঘুম তেমন একটা হয় না ভুল ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেদিন যেন আর চোখ মেলে চাইতেই পারছিল না। ওদের ঘুমোতে বললে বলে -- ঘুমাবো না খেলা করব। রুচিরা ভাবে না ঘুমায় থাক,একবার ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে গেলে স্কুলে গিয়ে আবার ঘুম ঘুম পাবে। তাই সে একাই ঘুমিয়ে পড়ে। এমনিতেই তার ঘুম খুব পাতলা একটু শব্দ হলেই ব্যাস হয়ে গেল তার ঘুমের রফাদফা। ঘুমোতে ঘুমোতে হঠাৎ চমকে উঠে দেখে, কেউ কোথাও নেই। দুজন চুপ আছে মানে কিছু তো একটা করছে! কি আবার করবে? নিশ্চয়ই খেলা করছে। কিন্তু নাকে যেন ডিমের অমলেট এর গন্ধ ভেসে আসছে। বর্তমানে এই হচ্ছে এক সমস্যা দুজন গ্যাস জ্বালাতেও শিখে গেছে। শুধু তো তাই নয় রীতিমতো ডিমের ওমলেট, পোচ, ম্যাগি, দুধ সুজি, চা, কফিও বানাতে পারে। ভয় হয়, একজনের সাড়ে বারো আর এক জনের দশ কোনো রকম ভাবে যদি কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায় তখন কি হবে?-ভেবে তড়িঘড়ি গিয়ে উঁকি মারল রান্নাঘরে না কেউ নেই সেখানে। তারপর উঁকি মারল তাদের ঘরে। দুজন খেলনা নিয়ে খেলার মত্ত, যাক নিশ্চিন্ত। তাহলে পাশের বাড়ি থেকে আসছে গন্ধটা। আবার এসে শুয়ে পড়ে সে। হঠাৎ দেখে কেউ যেন এ ঘরে আসছে। তা দেখে চোখ দুটো বন্ধ করে ঘুমানোর ভান করে সে। শোনা যাচ্ছে আরো এক জোড়া পায়ের আওয়াজ। আড়চোখে তাকিয়ে দেখল ছেলে তার খেলনাটা নিয়ে কিছু একটা করছে আর মেয়ে এসে ফিসফিস করে তার কানের কাছে বলছে -- কি করছিস এখানে? আওয়াজ করিস না মা ঘুমাচ্ছে না। চল ও ঘরে। মুহূর্তেই চলে গেল দুজন। আর কত হাসবে সে, এই বুঝ তো এই অবুঝ। দুজনকে নিয়ে আর পারা যায় না। হাসতে হাসতে সে গেল ব্যালকনিতে।
এই ইট পাথরের শহরে সবুজে দেখা মেলা ভার। তাই নিজেই এক টুকরো সবুজ বাগান এনে বসিয়েছে তার ছোট্ট ব্যালকনিতে। কিন্তু সেখানে গিয়েই মাথায় আগুন। তার শখের ক্যালাঞ্চে গাছ দুটোর মুন্ডু ভাঙা। একটা মুন্ডু একটা ছোট্ট দই এর ভাঁড়ে। আরেকটার হদিশ নেই। কোনো মানে হয় এর! গতকাল সন্ধ্যেবেলা পর্যন্ত অক্ষত ছিল। রাত টুকুর মধ্যেই সব শেষ! সে ভেবেছিল আর কাটবো না এবার এর থেকে ফুল নেব। আর তাছাড়া তারা যে বড্ড ছোট। এ নিশ্চয়ই মেয়ের কাজ। দৌড়ে গিয়ে ডাকলো মেয়েকে।
সে গোঙাচ্ছে আর বলছে -- আর একটু ঘুমাতে দাও না মা। স্কুল তো নেই। দাও না একটু ঘুমোতে প্লিজ...
-- না আর ঘুমাবি না ওঠ তাড়াতাড়ি
সে তো ওঠে না। পাশ ফিরে শুয়েছে। হাজার ডাকাডাকির পর না উঠেও থাকতে পারলো না সে। ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে শুনছে মায়ের বকুনি।
অবশেষে বলল -- হ্যাঁ আমি করেছি
-- কখন করলি?
-- সকালে। পাঁচটায় ঘুম ভেঙে গিয়েছিল ভাবলাম আজ ফিইথ জুন ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে, তাই একটু গাছ লাগাই। তুমি জানো না গাছ আমাদের কতটা প্রয়োজন! এবার তুমি যাও তো! ঘুমোতে দাও, নটার আগে ডাকবে না আমায় -- বলে উঠে গিয়ে শুয়ে পড়ে বাবার পাশে। যাতে মা না আর ডাকতে পারে।
এদিকে ভাবতে থাকে রুচিরা সত্যি নতুন প্রজন্ম কতটা ভাবে এই পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে...
ভাবুক ওরা...
তবেই না রক্ষা পাবে এই সৃষ্টি জগত....
#৫ই_জুন_পরিবেশ_দিবস
#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️
sanjhbatirrupkithay,Worldenvirentmentday,bengalistory, banglagolpo ,golpo ,story, poribesdibos ,পরিবেশদিবস ,একটিগাছএকটিপ্রান
সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন