মোহনা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।
মোহনা
রূপবালা সিংহ রায়
--এবারটার মত উদ্ধার করে দে প্লিজ...
-- না পারব না
--প্লিজ বলছি তো
--কে চায় তোর প্লিজ
--প্লিজ মোহনা,প্লিজ... এই দেখ হাতজোড় করছি। তোর পায়ে ধরছি..
--এই করছিসটা কি? ওঠ! ওঠ! বলছি। আরে, লোকজন দেখছে তো!
--দেখুক
--কি ভাবছে বলতো?
--যা ভাবে ভাবুক, আগে তুই বল বলবি মাকে...
--আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। আন্টি ফোন করলে বলে দেবো তুই আমাদের বাড়িতে ছিলিস। আমরা একসাথে পড়াশোনা করছিলাম।
--এইতো আমার লক্ষী সোনা...
--ঠিক আছে ঠিক আছে। অতো আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না। এবার সত্যি করে বলতো শুধু কি তোরা তিনজন সিনেমাতে গিয়েছিলিস, নাকি ওই যে মেয়েটা কি যেন নাম? সোহিনী না কি সেও গিয়েছিল ?
-- কেন রে জেলাস নাকি?
-- ধ্যাত। আমি কেন জেলাস হতে যাব?
-- তবে বলছিস যে বড়...
-- এমনিই জিজ্ঞাসা করছিলাম।
-- জানিস তো, সোহিনী না খুব ভালো মেয়ে। ভালো নাচ করে জানিস। ওর একটা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে। জানিস সেখানে ওর কত ফ্যান ফলোয়ার্স!
-- তো আমি কি করবো? নাচবো ! তুই নাচছিস তাতে হচ্ছে না, আমাকেও নাচতে হবে নাকি - বলে মোহনা উঠতে গেলে অজিত তার হাতটা ধরে বসিয়ে দিয়ে বলে যাচ্ছিস যে বড়! বস না আরেকটু।
-- না রে আমার অতো ফালতু সময় নেই,যে নষ্ট করব। গিয়ে আবার পড়তে বসতে হবে। সন্ধ্যে হয়ে এলো, মা আবার সন্ধ্যের পরে বাইরে থাকা এ্যালাও করে না।
-- ঠিক আছে, যাবি এখন। বস না আর একটু। আমি না হয় তোকে বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে আসবো।
-- বসে কি করব শুনি?
--আরে একটু চুপ করে থাকতে পারিস না নাকি?
-- না পারি না। আমি চুপচাপ হ্যাদা ক্যাবলার মত বসে থাকতে পারি না..
-- তা পারবি কেন! কথা বলে বলে কানটা আমার কালা করে দে আর কি!
-- কে বলেছে তোকে আমার কথা শুনতে ? যা না চলে যা না কালকের মত। সোহিনী তোর জন্য অপেক্ষা করছে...
-- বুঝলাম
--এখানে আবার বোঝা বুঝির কি আছে?
--আছে আছে। এই যে এত রাগ কিসের জন্য শুনি! বসতে চাইছিস না, পড়ার অজুহাত দেখাচ্ছিস!
-- আমি পড়ার অজুহাত দেখাচ্ছি..... বলে রেগে মেগে মোহনা পার্ক থেকে বেরিয়ে চললো বাড়ির দিকে আর পেছন পেছন ছুটছে অজিত।
এই পার্ক এই রাস্তাঘাট দুজনেরই বড্ড চেনা। সেই কোন ছোটবেলা থেকে এখানে তাদের আনাগোনা। তখন অবশ্য মায়েদের সঙ্গে আসতো। এখন তারা নিজেরাই আসে মাঝেসাঝে। ছোটবেলা কার মতো এখনো গল্পের থেকেই যেন ঝগড়া টা বেশি হয় তাদের মধ্যে। তবুও আসে।
স্কুলটা এক হলেও তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে কলেজে উঠে। মোহনার ইচ্ছা স্কুল শিক্ষিকা হবার। তাই সে ইংরেজি নিয়ে পড়ছে। আর অজিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। তাই এখন আর তেমন দেখা সাক্ষাৎ হয় না তাদের । মোহনার রাগ আবার সেই রকম। এই যে রাগ হলো এর রেশ থাকবে এক দুমাস। না ফোন ধরবে, না আসবে পার্কে। ওদের বাড়িতে গেলে পড়ার অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেবে নিজের ঘরের দরজাটা। তাই বাধ্য হয়ে আন্টির সঙ্গে দুটো কথা বলে বাহানা দিয়ে চলে আসতে হয় অজিতের।
এখন ঘড়িতে সন্ধে ছ'টা। আলোয় আলোকিত মোহনাদের বাড়িটা। লোকজন গমগম করছে। রান্না বান্না, হাসি ঠাট্টা,হই হুল্লোড় বিয়ে বাড়িতে যেমনটা হয় আর কি। ওদিকে হঠাৎ করে বেজে উঠলো অজিতের ফোন। মোহনার নাম ভাসছে তাতে। হঠাৎ কি হল আবার ওর ? এই সময় ফোন করছে? ভেবে, ফোনটা ওঠাতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো মোহনার কাঁপা ভারী কণ্ঠস্বর -- আমি বিয়েটা করতে পারব না রে অজিত..
-- কেন?
--কেন আবার! বরটাই তো পছন্দ নয় আমার...
#মোহনা (প্রথম পর্ব)
#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন