সরস্বতী - রূপবালা সিংহ রায় // সরস্বতী পূজা গল্প // বাংলা গল্প।
সরস্বতী
রূপবালা সিংহ রায়
নাম সরস্বতী হলেও পেটে বিদ্যার ছিটে ফোঁটা নেই সরস্বতীর। মফস্বলের এক অভিজাত পরিবারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও সে চামচে করে কোনোদিন খাওয়া হয়নি তার। যদি কিছু কপালে জুটে থাকে তাহলে তা কেবল অবহেলা, অনাদার আর বাবার মুখ নিঃসৃত কটু কথা। আর জুটবেই না বা কেন পরপর চারটে মেয়ের পর এক বুক ছেলের আশা নিয়ে থাকা মানুষটা যখন ধাত্রীর মুখে শোনে এবারও মেয়ে কর্তামশাই। কারই বা মাথা ঠিক থাকে? তাই ও মেয়ের মুখ দেখেননি গোটা একটা বছর।
এক বাড়িতে থাকতে গেলে মুখ না দেখে কি থাকা যায়? হাঁটতে শেখার পর গুটিগুটি পায়ে ছোট্ট সরস্বতী অজান্তেই চলে যেত বাবার ঘরে। কিন্তু বাবার স্নেহ পায়নি সে। কখনো ধমক খেয়ে বা কখনো কখনো গোল গোল রাগান্বিত রক্ত চক্ষু দুটো দেখে বেরিয়ে আসতে হয়েছে তাকে। যখন বয়স ছয় বছর মা চেয়েছিল স্কুলে ভর্তি করতে। হয়েছিল ভর্তি কিন্তু স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিন সবাইকে প্রণাম করে যখন বাবাকে গেল প্রণাম করতে বাবা বলেছিলেন -- কেন বেকার বেকার স্কুলে যাচ্ছিস আর আমার পয়সা ধ্বংস করছিস! সেই তো বড় হয়ে হাতা খুন্তি নাড়তে হবে। অভিমান হয়েছিল সরস্বতীর। বাবার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে খুলে ফেলেছিল স্কুলের জামা খানা। আর তাকে স্কুল-মুখো করতে পারেনি কেউ। বড় দিদিরা চেয়েছিল তাকে পড়াতে। কিন্তু চঞ্চল সরস্বতীকে কেউ বাগে আনতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে মা তাকে ছেড়ে দিয়েছিল নিয়তির হাতে। দেখতে দেখতে দিদিদের বিয়ে হয়ে গেল। পালা এল সরস্বতীর। লেখাপড়া না জানা মেয়েকে কোন ভালো ছেলেই বা বিয়ে করবে? তাই বাবা একজন গরীব দিনমজুরের হাতে তুলে দেয় তাকে। আপত্তি করেনি সরস্বতী। আর কেনই বা করবে? অন্তত বাবার কাঁধ থেকে তো নামা গেল। কতবার চেয়েছে সে চলে যেতে কিন্তু পারিনি। মায়ের মুখখানা ভেসে উঠত চোখের সামনে। শেষ পর্যন্ত সে আশা পূরণ হলো তার।
তারপর শুরু হল সরস্বতীর জীবনের নতুন এক অধ্যায়। পেটের তাগিদে স্বামীর হাত ধরে সে চলে আসে কলকাতায়। তারপর কাজ পায় একটা স্কুলে। পড়ানোর কাজ নয়, ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ। এখন সেই স্কুল নামকরা এক স্কুলে পরিণত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সরস্বতীর দায়িত্বও বেড়েছে। ধবধবে সাদা এক মাথা চুল নিয়ে সরস্বতী আজও ব্যস্ত সরস্বতী পূজার আয়োজনে। সরস্বতী জানে মা সরস্বতী তো কেবল বিদ্যার দেবী নন, তিনি বুদ্ধি দাত্রীও বটে। কলকাতায় আসার কদিন পর যখন স্বামীর কাজ চলে যায় তখন যদি না বুদ্ধি খাটিয়ে এখানে আসতো আর প্রিন্সিপাল ম্যাডামকে কাজের কথা বলতো তাহলে কি জুটত তার কপালে এতটা সম্মান, এতটা ভালোবাসা, এতটা ভরসা! কখনোই নয়... কক্ষনোই নয়...
#সরস্বতী
#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️
#bengalistory #banglagolpo #golpo #story #bengalipoetry
#Saraswati_Puja_golpo
#saraswatipuja2026
#Saraswati

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন