মোহনা (শেষ পর্ব) - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // রোমান্টিক গল্প।
মোহনা (শেষ পর্ব)
রূপবালা সিংহ রায়
Mohona Written by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo.
-- এই দাঁড়া দাঁড়া বর পছন্দ নয় মানে! যখন রাজি হয়েছিলিস তখন ভাবা উচিত ছিল! একটু পরেই বিয়ের লগ্ন শুরু হয়ে যাবে... বর চলে এলো বলে আর তুই বলছিস বিয়ে করবি না?
-- শোন আমি ভেবেছিলাম তুই আমার ছোটবেলাকার বন্ধু আমার ব্যাপারটা বুঝবি..
-- দাঁড়া, দাঁড়া, ফোনটা কাটিস না! কি হয়েছে আমায় খুলে বল দেখি! তারপর দেখছি আমি, কি করা যায়... কি হলো কিছু বলছিস না কেন? আরে কিছু বলবি তো.. শোন না, কথা বললে অনেক সময় বড় বড় সমস্যার হাল পাওয়া যায়...
এমন সময় মোহনার দরজায় পড়ল টোকা। তা শুনতে পাচ্ছে অজিত। কেউ ওর ঘরে ঢুকতে চাইছে। আর হবেই না বা কেন বিয়ের কনে বলে কথা। কিন্তু তাদের সামনেও বা ও কি করে বলবে ওর মনের কথাটা-- ভেবে সে মোহনা কে বলল --শোন না বিয়ের লগ্ন তো নটায়। বেশ খানিকটা দেরি আছে তুই কি একবার আসতে পারবি?
-- পার্কে এখন ?
--হ্যাঁ, এখন।পার্ক এখনো দেড় ঘন্টা খোলা আছে। সাড়ে সাতটায় বন্ধ হবে। আমি শুনেছিলাম..
-- কি করে শুনলি?
-- আরে সেদিন গেলাম তো..
-- একা একা? নাকি সঙ্গে কেউ ছিল?
--ভারী মুশকিল তো! সঙ্গে আবার কে থাকবে? তোকেই তো বলেছিলাম আসতে। এলি না তাই তো আমি একা একাই গিয়েছিলাম
--মিথ্যে বলছিস না আমায়..
--মিথ্যে কেন বলতে যাব?
--চিনি না আমি তোকে ....
-- এই স্টাচু নড়বি না একদম। কথাও বলা যাবে না। কথা বললে কিন্তু মুখ নড়ে ... এবার চুপচাপ শোন আমার কথা। তোদের ঘরের পেছনের দরজাটা দিয়ে বেরিয়ে আয়। ছোটবেলায় যখন আন্টি তোকে বাইরে খেলতে দিতে যেতে না চাইলে যে দরজাটা দিয়ে বের হতিস সেখান থেকে। আমি দাঁড়িয়ে থাকবো তোর জন্য। সাবধান কেউ যেন তোকে দেখতে না পায়। কিরে মাথায় ঢুকলো? শুনলি আমার কথা? আরে আছিস তো মোহনা? হ্যালো এই মোহনা.. হ্যালো... হ্যালো... আরে শুনছিস?
-- শুনছি
-- শুনছিস যখন কথা বলছিলিস না কেন?
--কি করে বলবো? স্টাচু দিলি যে
--হে ভগবান!
--এখানে ভগবানকে ডাকার কি আছে?
-- আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে, ডাকছি না তাকে। রাখ এখন আমি বেরোচ্ছি। ওখানে পৌঁছে তোকে মিস কল করব। ফোনটা সাইলেন্স করে রাখ। কেউ যেন বুঝতে না পারে যে আমি ফোন করছি। আমি ফোন করলে তবেই বের হবি বুঝলি..
--হুম...
--রাখ তবে
পার্কে বসে মোহনা আর অজিত। মোহনার পরনে লাল টুকটুকে বেনারসি। গা ভর্তি গয়না। তার চেহারাটা যেন পূর্ণিমার চাঁদটার মতো ঝকমক করছে। শীতের হিমেল বাতাস বইছে মাঝেমধ্যে। কুয়াশারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলছে সমগ্র পার্কটা জুড়ে। আর ল্যাম্পপোস্টের আলো গুলো কুয়াশার ঘন চাদর ফুঁড়ে যেন বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। দু একজন ছাড়া আর লোকজন তেমন নেই। আর পনেরো কুড়ি মিনিট বাদেই পার্ক টা বন্ধ হয়ে যাবে তাই যে যার মত বাড়ি চলে যাচ্ছে। আর তাছাড়া ঠাণ্ডা যা পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রীতিমতো কাঁপছে মোহনা। তা দেখে গায়ের জ্যাকেটটা খুলে তার গায়ে চাপিয়ে দিল অজিত। দুজনেই বেশ চুপচাপ। নিস্তব্ধ রাতের মত। সে নিস্তব্ধতা ভেঙে অজিত বলল -- বল কি বলার আছে তোর। কিরে কিছু বলছিস না যে? কি যেন বলছিলিস তখন! বর নাকি পছন্দ নয় তোর? তাহলে বিয়েটা কি ক্যানসেল করে দিবি? তোর বাড়িতে কি কথা বলব? বুঝিয়ে বললে আঙ্কেল আন্টি ঠিক বুঝবে। কি হলো রে কিছু তো বল।
-- এই তুই একটু চুপচাপ থাকতে পারিস না।কান মাথা ঝালাপালা করছে তো আমার। আর একটু থাকলে তো কালা হয়ে যেতে হবে আমায়।
--আরে..
--আরে কি? বস চুপচাপ করে আমার পাশে একটু
বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থাকার পর অজিত বলল --সত্যিই কি তুই চাস না বিয়েটা করতে?
-- জানিনা রে! তখন মনটা কেমন যেন করছিল। মনে হচ্ছিল ঠিক করছি তো ...
--কেন বিশ্বাস নেই ?
-- কি করে বিশ্বাস থাকবে? আমায় ফেলে রেখে যার তার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাস তুই। তুই অফিসে কার সাথে কথা বলিস না বলিস আমি কি দেখতে যাই?সেই ছোটবেলা থেকে এই বদ অভ্যাসটা আছে তোর। স্কুলে তুই আমার পাশ থেকে উঠে গিয়ে অন্য মেয়েদের পাশে বসতিস...
--সে তো তোর বকর বকরের হাত থেকে বাঁচার জন্য
--কি আমি বকর বকর করি! বেশি কথা বলি
--আরে, আমি কি সৈ কথা বললাম
--বলিস নি না! ঠিক আছে, যা বিয়ে ক্যানসেল। করব না তোকে আমি বিয়ে
--মোহনা প্লিজ অমন বলিস না। মরে যাব আমি।
--তো আমি কি করবো?
--মোহনা তোকে ছাড়া মরে যাব কিন্তু। মরে যাবো আমি বাঁচবো না
এবার যেন একটু শান্ত হলে মোহনা তারপর অজিতের হাত ধরে বলল -- চল দেরি হয়ে যাচ্ছে, বাড়িতে বোধহয় খোঁজ পড়ে গেল।
--চল বলে অজিত মোহনার হাত ধরে পার্ক থেকে বেরিয়ে পড়ল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন