পরম্পরা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প
পরম্পরা
রূপবালা সিংহ রায়
Parampara written by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo // Happy Makor Sankaranti.
স্কুল শেষে ছোট্ট বিহান মায়ের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই তার মা সহেলীকে বলল -- জানো তো মাম্মাম আজ না মকর সংক্রান্তি। সারা ইন্ডিয়া জুড়ে এটা সেলিব্রেট করা হয়। ম্যাম বলছিল এক এক জায়গায় এর নাকি এক এক নাম। আমরা বাঙালিরা এই দিন নাকি পিঠেপুলি বানিয়ে খাই। আরে তুমি দেখলে না আগের বছর পাপা এই দিন গিয়েছিল ঠাম্মির কাছে। আর ঠাম্মি আমার জন্য পিঠে পাঠিয়েছিল। কত রকমের পিঠে বানাতে পারে বলো ঠাম্মি। কিন্তু এ বছর আর পিঠে খাওয়া হবে না। ঠাম্মি নেই আর কে পিঠে বানাবে বলো? পাপা আর আমার জন্য।
বাড়ি ফিরে সহেলীর মনে ঘুরতে থাকে বিহানের বলা কথাগুলো। আজ সকালে প্রীতমও কেমন মুখ গোমড়া করে অফিস গেল। অন্যান্য বছর এই দিনটা ছুটি নিয়ে যেত গ্রামের বাড়িতে মায়ের কাছে। প্রথম প্রথম কয়েক বছর সহেলী গেলেও পরে আর যেত না। বড্ড আদিখ্যেতা লাগতো ওসব ওর কাছে। এখন টাকা থাকলেই ওসব হামেশাই কিনতে পাওয়া যায় শহরের অলিতে গলিতে গজিয়ে ওঠা মিষ্টির দোকান গুলিতে। তাছাড়া আজকাল বিভিন্ন জায়গায় পিঠে পুলি উৎসবের জন্য মেলা বসে। সেখানে চলে গেলেই হয় অতো খাটনির কি আছে!
এমন সময় বিহান এসে বলল -- মাম্মাম জানো তো ঐন্দ্রিলার মা নাকি আজ পিঠে বানাবে। পুপুল আর ঋজুর মাও। তুমি বানাবে না? বলো না মাম্মাম বানাবে না পিঠে? ছেলের আবদার ফেলতে পারল না সহেলী। হ্যাঁ বলে ছুটল দোকানে চালের গুঁড়ো, ময়দা, সুজি, গুড় যা যা লাগে সব নিয়ে এসে বসে পড়লো মোবাইল নিয়ে। অনেকদিন আগে অনিচ্ছার সত্ত্বেও গিয়ে বসতে হয়েছিল উনুনের পাশে, যেখানে শাশুড়ি মা পিঠে বানাচ্ছিলেন। তখন শাশুড়ি মা পিঠে বানাতে বানাতে বলেছিলেন শিখে রাখো বৌমা। এগুলো আমাদের সংস্কৃতি, এগুলো আমাদের পরম্পরা। আমি যখন থাকবো না তখন তুমি এটাকে বয়ে নিয়ে যেও। তখন কথাটার গুরুত্ব না দিলেও আজ সহেলী ভীষণভাবে চাইছে যদি শাশুড়ি মা থাকতেন ভালোই হতো। শিখে নেওয়া যেত তার কাছ থেকে। কি আর করা যাবে তাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইউটিউব দেখে দেখে পিঠে বানাতে শুরু করে সে। হয়তো সবকিছু ঠিকঠাক ছিল না তবুও তা খেয়ে বিহান আর প্রিতমের হাসি খানা দেখে তৃপ্তি পেয়েছিল সে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন