কমলার কৃপা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // Bengali Story // New Bengali Story ।

 

কমলার কৃপা 

রূপবালা সিংহ রায় 


সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফাঁকা জায়গা দেখে ল্যাম্প পোস্টের ক্ষীণ আলোয় দাঁড়িয়ে কত রোজগার হলো তা গুনছে রতন । আজকাল পায়ে চালানো সাইকেল রিক্সা গুলোতে কেউ আর উঠতে চায় না । আর চাইবেই বা কেন ? তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না যে । তাই ইঞ্জিন রিক্সা না পেলে বাধ্য হয়েই হাতে গোনা কয়েকজনই ওঠে তার রিক্সায় । সেই দিয়ে যা হয় কষ্টে সৃষ্টে চলে সংসার । কমলাটা আজকাল কেমন যেন হয়ে গেছে ! বড্ড খিচিরখিচির করে 'এই নেই ওই নেই বলে । এই টাকায় কি করে চালাবো সংসার ? ইত্যাদি ইত্যাদি'। তার ওপর ছোটো ছেলেটাকে তোলা খাওয়াতে হয় । জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে ওইটুকু টাকায় সেও বা কি করে সব কিছু সামাল দেবে ? একটা ইঞ্জিন রিক্সা যে কিনবে তার জন্যও তো টাকার দরকার । কোথায় পাবো অত টাকা - ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে রতন । ঘরে ঢুকতেই শুরু হয়ে গেল কমলার চিৎকার নিত্যদিনের মতো । রতন কোনো কথা না বলে টাকার ব্যাগটা কমলার হাতে দিয়ে চলে গেল হাত-পা ধুতে । আজ যে তেমন ইনকামই হয়নি । দুশ্চিন্তার ভাঁজ তার চোখমুখ জুড়ে । খেতে বসে কমলা একটাও কথা বলল না । তাহলে কি পরে ঝাড়বে ? আজ কপালে খুব দুঃখ আছে । একি ঝড়ের আগে পূর্ব লক্ষণ ? সেদিন যে বলেছিল এইটুকু টাকায় আমি পারবো না আর তোমার সংসার চালাতে । সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যাব বাপের বাড়ি । তখন সামলিও তুমি তোমার সংসার তোমার ছেলেপুলে । না না কি ভাবছি এসব ? একটু মুখ করো না কমলা । দু চারটে ছোটো বড়ো কথা শুনিয়ে দাও । আমি কিছুই মনে করব না । কিছু তো অন্তত বলো - মনে মনে ভাবতে থাকে রতন ।


খাওয়া শেষে রতন গেল শোয়ার ঘরে । বাচ্চাগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে । কমলা চৌকির নিচে থাকা ট্রাঙ্কটার জামাকাপড় গুলো সরিয়ে সরিয়ে কিছু একটা খুঁজছে । একটা অনিশ্চয়তা নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর শুয়ে পড়লো রতন । খানিক বাদে কমলা এসে রতনের হাতে ধরিয়ে দিল একটা আংটি আর কিছু টাকা । রতনকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে কমলা বললো - আংটিটা বাবা দিয়েছিল বিয়েতে মনে নেই ? তোলাই তো থাকে । পরি না তাই বিক্রি করে দাও ওটাকে । আর এই টাকাগুলো যে দেখছো এগুলো তোমারই । সংসার খরচ থেকে একটু একটু করে জমিয়েছি । ভেবেছিলাম আরেকটু বেশি হলে দেব যাতে তুমি একটা ইঞ্জিন রিক্সা কিনতে পারো । কিন্তু তোমার ব্যাগে লজেন্সখানা যখন দেখলাম মনে হল আমারও কিছু দেওয়া উচিত তোমায় । খুব আনন্দ হচ্ছে আমার জানো তো । আমি তো ভেবেছিলাম তুমি ভুলেই গেছো আমাদের বিয়ের তারিখটা । যা খিটখিট করি আমি তোমার উপর , খুব খারাপ লাগে পরে জানো । কিন্তু কেন যে রাগ হয় কে জানে ? কমলার কথাগুলো শুনে রতন হেসে দিলে কমলা বলে - তাই বলে ভেবোনা , আর কথা শোনাবো না যতদিন না পর্যন্ত ইঞ্জিন রিক্সা আসছে ততদিন পর্যন্ত তোমায় জ্বালিয়ে যাব বলে দিলাম ....


#কমলার_কৃপা

#রূপবালা_সিংহ_রায়

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।