অভিমান - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প // New Bengali Story // Bengali Story.
অভিমান
রূপবালা সিংহ রায়
মনের মধ্যে একরাশ উত্তেজনা ও কামনা পাহাড় নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজাটা আটকে দিল সৌভিক। ওদিকে ফুল বিছানো বিছানায় তার জন্য অপেক্ষা করছে তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী মিনাক্ষী। আস্তে করে গিয়ে তার ঘোমটাটা খুলতেই সমস্ত শরীর শিউরে উঠল সৌভিকের। তরতর করে ঘামতে লাগল সে। ঘামের গন্ধে গায়ে মাখা আতরের সুগন্ধটা কোথায় যে ভ্যানিশ হয়ে গেছে বোঝাই যাচ্ছে না। এসির রিমোটটা নিয়ে যে টেম্পেরেচারটা একটু কমাবে তাও পারছে না সে। সারা শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে তার। হা পা তুলতেই পারছে না। চোখে মুখে আতঙ্কের তীব্র ছাপ ফুটে উঠেছে। ইচ্ছা করছে পালিয়ে যেতে কিন্তু নিরুপায় সে। কাউকে যে ডাকবে সে উপায়ও নেই গলা শুকিয়ে কাঠ, একটা শব্দও বের হচ্ছে না। এ কাকে দেখছে সে! নিরুপমা! এখানে এল কি করে সে ? কপালে কাটার দাগটা স্পষ্ট। সেখান থেকে হালকা রক্তও বের হচ্ছে। সেদিনের মতো করে বেনারসী পরে মাথায় ফুল লাগিয়েও রেখেছে। এ হতে পারে না, কিছুতেই না! ও ফিরবে কি করে? ও যে বছর চারেক আগে চলে গেছে না ফেরার দেশে! এ যে সেই চাহনি! এ চাহুনি কিছুতেই ভুলতে পারে না সৌভিক। সেদিন ঠেলে ফেলে দেওয়ার পর দরজার কণা লেগে কেটে গিয়েছিল তাঁর কপালটা। অতো জোরে ঠেলতে চায়নি সৌভিক। ও চায়নি আঘাত করতে নিরুপমাকে। কিন্তু মাথাটা এতটাই গরম হয়ে গিয়েছিল যে ভুল করে করে ফেলেছিল সে। আর হবেই না বা কেন? অফিসে একগাদা কাজ করে এসে ঘরে
ঢুকতেই দেখেছিল নিরুপমা বিয়ের বেনারসীটা পরে পটের বিবি সেজে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে, সারাদিন বসের মুখ ঝামটা শোনার পর এমনিতেই মাথাটা গরম ছিল তার, তার ওপর নিরুপমার কথাটা আমার গিফ্ট কোথায় ? যদিও কোনোদিন অমন করে কিছু চায়নি ও তবুও খুব রাগ হলো সৌভিকের। সরোতো বলে ধাক্কা দিতেইও বেসামাল হয়ে ও গিয়ে পড়ল দরজার ওপর। তারপর দুতিন সেকেন্ড ওভাবে তাকিয়ে থাকার পর চলে গিয়েছিল সামনে থেকে।
তারপর রাতে খাওয়া দাওয়া করলাম সবাই মিলে। মা বাবাকে আমাকে খেতে দিল। নিজেও খেল। তখনও কপালের কাছটা লাল টকটক করছিল। খুব খারাপ লাগছিল। তাই চটজলদি খেয়ে গেলাম ঘরে। শুয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম ও আসলে সরি বলবো আর ওষুধ লাগিয়ে দেবো। কিন্তু শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুম চলে এল বুঝতেই পারিনি । ঘুম ভাঙলো মায়ের চিৎকারে। মায়ের চিৎকার শুনে স্টাডিতে গিয়ে দেখি ফ্যানে ঝুলছে ও পরনে রয়েছে সেই বেনারসি। অভিমান হয়েছিল ওর আর হবেই না বা কেন বিবাহ বার্ষিকীর দিনে যে আঘাত করে ফেলেছিলাম ওকে! একটা সুযোগ পর্যন্ত দিল না!
এত বছর না না করে মা-বাবার চাপে বাধ্য হয়ে আবার বিয়ে করতে হলো তাকে। সময়ের কি নিষ্ঠুর পরিহাস! সময়ের সাথে সাথে যে কথাটা ভুলে গিয়েছিল সে সেই সময়ই তা আবার ফিরিয়ে দিল। হঠাৎই তার ধ্যান ভাঙল মীনাক্ষীর ডাকে -- কি হলো তোমার এত ঘামছো কেন?
কপালের ঘামটা মুছে জবাব দেয় সৌভিক -- ও কিছু নয়। আচ্ছা তোমার কপালে কি হলো? কাটলো কি করে?
-- ও..আর বোলো না বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম দরজাটার উপর। ওই জন্য একটু কেটে গেছে ...
-- দাঁড়াও ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছি বলে সৌভিক গেল টেবিলে রাখা ফার্স্ট এইড বক্স এর কাছে। সেখানে থাকা নিরুপমার ছবিখানায় চোখ পড়লো তার। কেমন যেন অভিমানের দৃষ্টিতে নিরুপমা তাকিয়ে আছে তার দিকে। যেন বলতে চাইছে আমায়ও তো লাগিয়ে দিতে পারতে সেদিন একটু মলম তাহলে হয়তো আমায় এভাবে ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকতে হতো না....
#অভিমান
#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️
#banglakobiagolpo #bengalipoetryandstory #rupbalasingharoy #notunbanglagolpo #banglagolpo #bengalistory সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন