ভয় - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।
ভয় - রূপবালা সিংহ রায়
বিয়ের প্রথম প্রথম এই জিনিসটা সহানুভূতির সঙ্গে দেখলেও কিছুদিন পর তা ভীষণ রকম বিরক্ত লাগতো শোভনের। এক বছর পার হয়ে যাবার পরও যখন অদিতি বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিত চোখ দুটো ছল ছল করে উঠতো তার। সারা পথটা গুম হয়ে বসে থাকতো। একটাও কথা বলত না সে তার সঙ্গে। বিদায়ের সময় তার বাবা মাও কাঁদো কাঁদো গলা নিয়ে মেয়েকে বিদায় দিত। কোনো মানে হয় এসবের! এতদিনেও কি জিনিসটা সহজ ভাবে মেনে নেওয়া যায় না? একদিন তো সহ্য করতে না পেরে অদিতিকে কথাটা বলেই বসে ছিল সে। তারপর থেকে কেন জানা নেই অদিতি শোভনকে আগে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দিতে। তারপর সে মা-বাবার সাথে কথা বলে, গলা মিলিয়ে রওনা দিত।
তখন ব্যাপারটা বুঝতে না পারলেও আজ শোভন তা ভালো করেই বোঝে। কারণ আজ যে সে তার শ্বশুর মশাই জায়গায় রয়েছে। মেয়েটার বিয়ে দিয়েছে এই মাস ছয়েক হল। মেয়ে বাড়ি যাবার সময় বুকের মধ্যেটা যে কিভাবে মোচড় দিয়ে ওঠে তাকে কেবল মেয়ের বাবা-মাই বোঝে। আর বোঝে সেই মেয়েটা যার দুটো পা থাকে দুই দিকে। মনটা যেন বিয়ের পর দুটো খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়! একটা পড়ে থাকে বাবার ঘরে আর একটা শ্বশুর ঘরে। এ জ্বালা কেবল মেয়েরাই বোঝে।
আজ মেয়ের শ্বশুর বাড়ি যাবার দিন। পুজোতে এসেছিল মেয়ে জামাই। পুজো শেষ মা দুর্গার সাথে তাদেরও বিদায় দেবার পালা। এত বেদনার মধ্যেও তার চোখ দুটো গিয়ে পড়ছে কেবল জামাইয়ের উপর। সেকি বিরক্ত হচ্ছে এসবে? আর হবেনাই বা কেন? আমরা মানুষেরা কেবল নিজেদের টাই বেশি করে বুঝি, অন্যেরটা না বোঝার কতই না কারণ থাকে আমাদের কাছে! ভয় হয় তার, পাছে জামাই এই নিয়ে মেয়েকে কোনো কথা শোনায়। তাই তাড়াতাড়ি করে ওদের রওনা দিতে বলে সে চলে যায় অন্য ঘরে....
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন