শাসন - রূপবালা সিংহ রায় // Shasan by Rupbala Singha Roy // Bengali Story // Bangla Golpo ।

 

শাসন 

রূপবালা সিংহ রায় 


আয় বলছি তো, মারবো না। এই দেখ লাঠি ফেলে দিয়েছি। চেয়ে দেখবি তো লাঠি নেই আমার হাতে। দাঁড়া বলছি! শোন বাবা, বেলা গড়িয়ে গেল স্নান খাওয়া করে নিবি চল-- দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের কথাগুলো শুনলো বছর সাতেকের ছোট্ট বিহান। কিন্তু সাহস হচ্ছে না মায়ের কাছে যাওয়ার। ওদিকে বিহানকে আসতে না দেখে তার মা যেই না তার দিকে পা বাড়াচ্ছে অমনি সে লাগাচ্ছে ছুট। এই করে করে প্রায় সারা গ্রাম ঘোরা হয়ে গেছে তাদের। এতক্ষণে মায়ের রাগও পড়ে গেছে কিন্তু বিহানের মনের আশঙ্কাটা এখনো কাটছে না। সে ভাবছে মায়ের কাছে গেলেই মা ধরে মারবে। আর তার মা ভাবছে ছেলেটাকে এই ভর দুপুরবেলা ফেলে বাড়ি চলে গেলে ও যদি ভয়ে অন্যদিকে চলে যায় কিংবা কেউ যদি ধরে নিয়ে যায়। ওদিকে মেয়েটা বাড়িতে একা। তারও তো স্নান খাওয়া হয়নি। এই ছেলেটাকে নিয়ে আর পারা যায় না! কি দরকার মিছি মিছি ঢিল মেরে কারোর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার। মানছি সে অন্যায় করেছে, সে তোদের খেলনা বাটি গুলো লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। হ্যাঁ প্রায় দিনই একই কাজ করে সে। তাই বলে তাকে মারতে যাবি? অবশেষে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বিহান। তার মাও হাঁপাচ্ছিল। তাই দেখে আর মায়ের কথায় একটু ভরসা পেয়ে ভয়ে ভয়ে ধরা দিয়েছিল সে মাকে। না মা আর মারেনি। জড়িয়ে ধরে অনেক আদর করেছিল। বাড়ি ফেরার পর যখন সেই ছেলেটার মা আবার এসেছিল নালিশ করতে মা শুধু তাকে বলেছিল যে যতই অন্যায় করুক কারোর গায়ে হাত তুলবে না আমায় এসে বলবে। ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়েছিল সে।


আরো একদিন বেঁচে গিয়েছিল সে মায়ের হাত থেকে। তখন সে বেশ খানিকটা বড়। ক্লাস এইটে পড়ে। কিছু একটা দুষ্টুমি করেছিল সে। সেটা যে কি ছিল তা মনে না পড়লেও মনে আছে সেদিন ছিল রবিবার। দিদি, পিসির দুই ছেলে মেয়ে আর তার কাকার বড়ো ছেলে সবাই মিলে টিভিতে শক্তিমান দেখছে। বিহান দুষ্টুমি টা করার পর বুঝতে পারে কপালে বেশ দুর্ভোগ আছে। তাই চুপচাপ এসে বসে পড়ে ওদের মাঝে। মা মাঠে গিয়েছিল গরুকে জল খাওয়াতে। ফিরে এসে বুঝতে পারে কাজটা কার। তারপর জ্বালানীর জন্য তুলে রাখা নারকেল ডালের কাঠের ঝাঁপি থেকে একটা বের করে নিয়ে সোজা হাজির ঘরে আর তারপর সপাসপ বাড়ি। রোদের থেকে আসার ফলে মায়ের চোখ দুটো ঝাপসা মাথাটাও রাগে কনকন করছে। হটাৎ বুঝলো পাশ থেকে কেউ উঠে দৌড়ে পালাচ্ছে। আর যে মার খাচ্ছে সে বলছে -- জেঠি এটা আমি... বিহান দাদা ওই তো পালাচ্ছে... ও জেঠি এটা আমি.... ভাবতেই হাসি ফুটে উঠে বিহানের মুখে।

তবে কম মার যে খেতে হয়নি ছোটবেলায় মায়ের থেকে তা কিন্তু একেবারেই নয়।


 

মনে পড়ে একদিন তো বাবা তাকে দুহাতে দড়ি বেঁধে গাছে পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছিল। পড়ছিল না সে তাই। প্রত্যেকদিন কাজ থেকে ফিরে সন্ধ্যেবেলা বাবার কাজ ছিল তাদের পড়ানো। আর বিহানও তেমন দুরন্ত। সব কিছুতে মন থাকলেও পড়াশুনাতে তার ভীষণ এলার্জি। মার ধোরে যখন কাজ হচ্ছে না বাবা তখন দুহাতে দড়ি বেঁধে উঠোনে থাকা বড় পেয়ারা গাছটাতে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তা দেখে তার দিদির কি চিৎকার। একটা বাড়ির পরে ছিল পিসির বাড়ি। আর তার ঠাকুমা পিসির কাছে থাকতো। দিদির চিৎকার শুনে ঠাকুমা দৌড়ে এসে সপাট জোরে লাগিয়ে দিল বাবার গালে এক চড়। তারপর বলল -- নরবলির পাঁঠা তোর সাহস কি করে হয় এই কাল সন্ধ্যেবেলা ছেলেটাকে গাছে ঝোলানোর। নামা আগে। তোকে পড়াতে হবে না। থাকুক মুখ্যু হয়ে। বাবা একটাও কথা বলেনি। চুপচাপ গাছে উঠে বিহানকে নামিয়েছিল। 



এমনই টুকরো টুকরো স্মৃতি ভেসে আসছে বিহানের স্মৃতির পটে। আজ বড় হয়ে যাওয়ার পর সেই শাসনগুলোকে বড্ড মিস করে সে। ওদিকে শেলী তাকে ঠেলেই যাচ্ছে। কি ভাবছো চুপচাপ বসে? কিছু তো করো! এক্ষুনি পুলিশ না চলে আসে! আমি আর থাকবো না তোমার বাড়িতে। থাকো তুমি তোমার ছেলেকে নিয়ে। তোমাদের সাথে থাকার চেয়ে জেলখানায় থাকা না হাজার ভালো! -- বলতে বলতে বিহানে স্ত্রী শেলী চলে গেল অন্য ঘরে।

 হাসবে না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছে না বিহান। তার পাঁচ বছরের ছেলে গোগল কিছু একটা দুষ্টুমি করেছে বলে তার মা তাকে একটা চড় মেরেছিল। এমনিতে শেলী ছেলের গায়ে হাত তোলেনা কিন্তু আজ হয়তো মাথাটা বড্ড বেশি গরম হয়ে গিয়েছিল তাই মেরে বসে ছিল। তখন নাকি গোগল তাকে পকসো আইনের কথা বলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল। 


শেলী রেগে গিয়ে বলেছিল তুই আমায় পকসোর ভয় দেখাচ্ছিস! পকসো কিসের জন্য জানিস ?


--জানি 


--আর এটাও জানিস আমি তোর মা 


--তো কি হয়েছে তাতে? মারবে তুমি কেন আমায়? তোমায় আমি ফাসিয়ে দেব অন্য কোনো কেস দিয়ে দেবো...


ফাঁসিয়ে দিবি আমায় বলে আবারও একটা চড় বসিয়ে দেয় শেলী তার গালে।


তারপর আর কি অন্য ঘরে গিয়ে গাঁট হয়ে বসে থাকে গোগল। তা দেখে শেলীও যায় নিজের কাজে। সেই ফাঁকে গোগল ফোন লাগায় একটা নাম্বারে। তা কানে যায় শেলীর। সবকিছু ফোনে জানায় সে বিহানকে আর প্রফেসর বিহান হন্তদন্ত হয়ে কলেজ থেকে চলে আসে বাড়িতে....






এবার কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না বিহান। শেলীটাও মুখ গোমড়া করে বসে আছে। ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে নাম্বারটাও ডিলিট করে দিয়েছে গোগল তাই বোঝারই উপায় নেই যে কাকে ফোন করেছে সে । ওদিকে সে বাবু তো বুক ফুলিয়ে মা-বাবার সামনে থেকে হেঁটে বেড়াচ্ছে! কখনও ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম বের করে খাচ্ছে তো কখনো রান্নাঘর থেকে কুকিজ। বিহান বাবা বাচা করে অনেকবার জানার চেষ্টা করেছে যে সে কাকে ফোন করেছে? কোনো ফল হয়নি। এমনকি পির্জা, বার্গার, বিরিয়ানি, চকলেট আরও কত কিছুর লোভ দেখিয়েছে তবুও তার মুখ থেকে সেই একই কথা বের হচ্ছে-- যাকে ফোন করার করে দিয়েছি.... মারবে আমায়, মারো না.... চলে এলো বলে .... তারপর দেখোই না কি হয়.... গোগলকে টর্চার করা .....


এবার রাগ হয় বিহানের। ধমকায় সে -- গোগল... 


--পাপা তুমিও কিন্তু বকছো। তোমার নামেও বলে দেবো কিন্তু ...


--সোনা বাবা আমার, লক্ষ্মীটি। আমরা বাবা মা হইনা, আমরা না থাকলে কে দেখবে তোমায় ? আমাদের যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তখন তোমায় কে খাবার কিনে দেবে বলো? 


--আমি ঠাম দাদুর কাছে চলে যাব। 


--গোগল


--বাবা তুমি কিন্তু চেঁচাচ্ছ... 


চুপ হয়ে যায় বিহান। কি করব একে নিয়ে-- ভাবতে থাকে মনে মনে। না... একে না ঘাটানোই ভালো। তখন যদি বেফাঁস কিছু বলে দেয় শেলী কে বাঁচানো দূরের কথা আমি নিজেই ফেঁসে যাবো! ইস্! পাড়া-প্রতিবেশীরা কি বলবে! হে ভগবান! এ কেমন সন্তান দিলে আমায় ।


ওদিকে শেলীর মাথায় ঘুরতে থাকে তার ছোট বেলাকার কথা। পড়াশোনাতে ভালো হওয়ার জন্য তেমন মার না খেতে হলেও একদিন মার খেয়েছিল সে বাবার কাছে পয়সা চাওয়ার জন্য। বাবার সঙ্গে এক জায়গায় গিয়েছিল সে। ফেরার পথে বাবার কাছে বায়না জুড়ে দেয় পঞ্চাশ পয়সা দেওয়ার জন্য। বাবার কাছে তখন না থাকায় বাবা বলেছিল -- বাড়ি চল দেবো। কিন্তু ওর তর সইছিল না। খুব ইচ্ছা করছিল লজেন্স খেতে। তাই বারবার চেয়েই যাচ্ছিল। বাবা পথে একটাও কথা বলেনি। তারপর বাড়ি এসে একটা চড় মেরেছিল তাকে। তারপর থেকে আর কোনদিনই টাকা চাওয়া তো দূরের কথা কোনো কিছুই মুখ ফুটে চায়নি সে বাবার কাছ থেকে। সব চাওয়া পাওয়া নিয়ে হাজির হতো মায়ের কাছে। মাও মাঝে মধ্যে দিত পিঠে টুকটাক করে। কই তখন তো সে গোগলের মত বলত না! বলার সাহস তো দূরের কথা, মাথাতেই আসতো না!


 এ তো গেল বাড়ির কথা। স্কুলেও যে কম মার খেতে হয়নি তা তো নয়। সেখানেও তো কথায় কথায় কঞ্চির লাঠির বাড়ি, আঙ্গুলের ফাঁকে পেন্সিল ঘোরানো, কান ধরে উঠবস, মুরগি হয়ে হেঁটে বেড়ানো আরো কত রকমের শাস্তি বরাদ্দ ছিল তখনকার বাচ্চাদের কপালে।

 মনে পড়ে তার, তাদের প্রাইমারি স্কুলের তপন মাস্টারমশাই এর কথা। অংকের মাস্টার মশাই ছিলেন তিনি। নামতা মুখস্ত করা নিয়ে তার সেটি কড়াকড়ি। তার হাতে মার খায়নি এমন পড়ুয়া খুঁজে পাওয়া মুশকিল তা সে যত ভালো ছাত্র-ছাত্রী হোক না কেন। নামতা নাকি ঠোঁটের আগায় থাকবে। নয় বারো কত জিজ্ঞাসা করলেই সেকেন্ডের মধ্যে বলে ফেলতে হবে। কেউ যদি প্রথম থেকে পড়ে সেই পর্যন্ত গিয়ে বলে তো তার কপালে খুব দুঃখ। ওর সঙ্গে পড়তো পাড়ার আরো একটা মেয়ে পম্পা। তখন আশেপাশে সবাই মিলে একসঙ্গে স্কুলে যেত ওরা। পম্পা প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ঠাকুরের কাছে মানত করতো যেন তাকে মার না খেতে হয়। সে বলতো -- আজ যেন মার না খেতে হয় ঠাকুর। আজ যদি না মার খাই তাহলে তোমায় নকুল দানা দিয়ে পুজো দেব। সে পুজো তো আর দেওয়াই হতো না কারণ রোজ তাকে কিছু না কিছু নিয়ে মার খেতে হতো। শেষমেষ না পেরে সে বলত ঠাকুর তপন মাস্টারমশাই যদি মরে যায় তাহলে আমি তোমায় এক টাকার নকুল দানা কিনে দেবো। সে আশা আজও পূরণ হয়নি তার কারণ আজও মাস্টার মশাই বহাল তবিয়াতে মাস্টারি করে বেড়াচ্ছেন। শুধু তো প্রাইমারি স্কুল নয় হাই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাও হাতে তখন ছড়ি ঘুরতেন।


ওদিকে হবে গোগল ব্ল্যাকমেইল করেই যাচ্ছে তাদের। না জানি কতই না অন্যায় করেছে তারা। এখন শুধু অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য আর তার ফাঁকে নানান রকমের পরিকল্পনা করছে নিজেদের মধ্যে। গোগল তা না শুনতে পেলেও আন্দাজ করতে পেরে বলছে -- কোনো লাভ নেই বুঝলে,শাস্তি তোমাদের পেতেই হবে।


 অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলিংবেলটা উঠলো বেজে। কলিংবেলের আওয়াজ শুনে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে শেলীর। আর বিহান আরো একবার উত্তরগুলো জ্বালিয়ে নিতে নিতে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো সামনে দাঁড়িয়ে শেলীর মা বাবা। গোগল দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল তার দাদু দিদান কে। তার চোখে মুখে হাজারো নালিশের ছাপ। বাবা-মাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো শেলী। কিন্তু পরক্ষণেই গোগলকে বাইরের দিকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে কাউকে খুঁজতে দেখে আবারও দুশ্চিন্তায় ভরে উঠল তার মনটা। সেইসঙ্গে রাগ হতে লাগলো মা-বাবার ওপর। তারা কি আর আসার সময় পেল না? কেন পরে আসা যেত না? এখন এদের থেকেও বকুনি খেতে হবে গোগল কে মারার জন্য। তারপর যদি দেখে পুলিশ এসেছে তাহলে তো আর রক্ষা থাকবে না। বাবা মাকে বসার ঘরে বসিয়ে রেখে এই নিয়ে সে বিহানের সঙ্গে আলোচনা করতে লাগলো অন্য ঘরে গিয়ে। আর মাঝেমধ্যে দেখতে লাগলো গোগলকে। তার চোখে মুখে এখনো অপেক্ষা। দাদু দিদানের সঙ্গে গল্প করার ফাঁকে ফাঁকে ব্যালকনি গিয়ে উঁকি ঝুঁকি মারছে সে। শেলী একবার ভাবছে সব বলে দিই মা বাবাকে। তারা বোঝাক গোগলকে। বাবা-মা তো এমন একটু আধটু মারতেই পারে তাই বলে কি পুলিশ ডাকতে হয়? আর এক মনে ভাবছে না না থাক বাবা বলে লাভ নেই। দোনামোনা করতে করতে অবশেষে মাকে ডেকে বলতে যাবে এমন সময় আবারও বেজে উঠলো কলিং বেল। এবার কি হবে ভেবে থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। বিহান দরজা খুলতে যাওয়ার আগেই দৌড়ে গিয়ে দরজা খোলে গোগল। দুরু দুরু বুক নিয়ে বাইরে চেয়ে দেখে শেলী। সামনে দাঁড়িয়ে বিহানের বাবা-মা। এতক্ষণে ব্যাপার খানা পরিষ্কার হলো তার কাছে। গোগল একেবারে বড় পুলিশ কর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছে তাদের জব্দ করার জন্য। সেই জন্যই বোধ হয় বাবা-মা অন্যদিনের মতো এসেই আগে তাকে জড়িয়ে ধরেনি তাকে। কেমন আছো জিজ্ঞাসা করায় কেমন যেন কাটা কাটা উত্তর দিল। এবার শেলীর মুখমন্ডলের অবস্থা দেখে বিহান ফিঁক করে হেসে ফেলল। আর শেলী যেমনি বাপ তার তেমনি ছেলে -- বলে চলে গেল রান্নাঘরে চা বানাতে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।