কথা - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // পুজোর গল্প ।
কথা
রূপবালা সিংহ রায়
অ্যালার্মটা বাজতেই ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সাত তাড়াতাড়ি বিছানায় উঠে বসল আরশি। আজ পঞ্চমী আজ যদি একবার ওবাড়ি থেকে ঘুরে আসা না যায় তবে বাবা মাকে তাদের জামা কাপড়গুলো কবে দেব! এদিকে কাজের এত চাপ যে আজ যাই কাল যাই করে যাওয়াই হচ্ছে না তার। সারা বছরের মধ্যে পুজোর সময়টাতেই তো জামা কাপড়ের দোকানে কাস্টমার বেশি আসে। যদিও দুজন - হেল্পিং হ্যান্ড রয়েছে তুবও তাদের ওপর পুরো দায়িত্বটা ছাড়তে কেমন যেন একটা হয় তার। এত সাধের দোকান তার, কম তো পরিশ্রম করতে হয়নি এই জায়গায় আসার জন্য। শুধু তো পরিশ্রম নয় কথাও কম শুনতে হয়নি! না পরে শোনায়নি, কথা শুনিয়েছে নিজের লোকেরাই। শ্বশুর শাশুড়ি এমনকি তার স্বামী হেমন্তও। মেয়েদের এই এক জ্বালা! কিছু না করলেও যেমন কথা শুনতে হয় তেমনি কিছু করতে গেলেও শুনতে হয় কথা। তুমি যাই করো না কেন কথা তোমায় শুনতেই হবে! তাই তো সবার থেকে লুকিয়ে শুরু করেছিল ব্যবসাটা। নিজের জমানো কিছু পুঁজি দিয়ে। প্রথমে শুরু করেছিল কয়েকটা নাইটি আর বাচ্চাদের জামা কাপড় দিয়ে। বাড়ি থেকেই করত কাজটা। পরিচিতদের বলত ব্যস। এই পদক্ষেপটা হয়তো কোনদিনই নেওয়া হতো না তার। নিতে বাধ্য হয়েছিল ওই সেই কথারই জন্যই।
সেবার পুজোর সময়, সবার জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েছিল সে হেমন্তর সঙ্গে। শ্বশুর মশাইয়ের ধুতি-পাঞ্জাবি আর শাশুড়ি মায়ের শাড়িটা পছন্দ করার পর যখন আর একটা শাড়ি সে তার মায়ের জন্য পছন্দ করছিল তা শুনে হেমন্ত বলেছিল ওদের জন্য আবার কেন? টাকা ইনকাম করতে বুঝি কষ্ট হয় না ? নিজে তো করো না বুঝবে কি করে! তাছাড়া তোমার দাদা তো আছে সেই দেবে কিনে। মৃদু স্বরে আরশি বলেছিল গতবার যে দিলে...
তা শুনে তার স্বামী বলেছিল -- বিয়ের প্রথম বছর পুজো ছিল বলে দিয়েছিলাম । তাই বলে প্রত্যেক বছর দিতে হবে নাকি? আর কোনো কথা বলেনি আরশি। আর কিই বা বলার থাকতে পারে তার। বারবার মনে হচ্ছিল নিজের যদি টাকা থাকতো তাহলে আজ এতগুলো কথা শুনতে হতো না তাকে।তারপর নেওয়া ব্যবসার সিদ্ধান্তটা। পাড়ার এক বৌদি ওই কাজ করে। তার সাহায্যেই প্রথম ব্যবসায় পা রাখা। কিন্তু তা আর বেশিদিন চাপা থাকেনি। সবটা জানতে পারে সবাই। তবুও ব্যবসাটা ছাড়েনি সে। নিজের জেদ আর দৃঢ়তা দিয়ে ধরে রেখেছিল সে সেটাকে। তার জন্য কম কিছুও তো করতে হয়নি তাকে। আজ সে প্রতিষ্ঠিত। নিজে একটা দোকান কিনেছে। ভালোই বেচাকেনা হয়। ইচ্ছা আছে আসছে বছর একটা বড়ো শোরুম খোলার।
ওদিকে হেমন্ত তাড়া দিচ্ছে তাকে -- কইগো ওঠো, যাবে না ও বাড়ি ? ওখান থেকে ফিরে আবার দোকানে যাবে বললে যে...
হ্যাঁ উঠছি বলে মুচকি হেসে তৈরি হতে গেল সে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন