মানুষ চেনা ভীষণ দায় - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প// নতুন বাংলা গল্প।
মানুষ চেনা ভীষণ দায়
রূপবালা সিংহ রায়
-- কিরে মায়ের শরীর ঠিক হয়নি এখনো?
-- হ্যাঁ হয়েছে কিন্তু এত বাড়ির কাজ একা সব করে উঠতে পারছে না তাই আমাকে পাঠিয়ে দিল।
-- ও অন্য বাড়ি যেতে পারছে আর আমার বাড়ি আসতেই যত অসুবিধা । তা বেশ ভালো! তোর মাকে বলে দিস আমি আর তোদের দিয়ে কাজ করাবো না। কাল এসে যেন টাকা পয়সা যা পায় হিসেব নিকেশ করে নিয়ে যায়।
-- মা পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেলেই চলে আসবে কাকিমা বলতে গিয়েও বলতে পারল না রিংকি। অনামিকার মোটা মোটা চোখ দেখে থেমে গেল সে। থালাবাসন গুলো ধুতে ধুতে চোখ দুটো ছল ছল করে উঠলো তার। মা ঠিকই বলে - বড় লোকেরা এমনই হয়। এদের মায়া-দয়া বলে কিছু নেই। আর এই কাকিমার তো একদমই নেই। মা কি করে আসবে এত দূর? সবেমাত্র জ্বর থেকে উঠল। আমি একা সব বাড়ির কাজগুলো করতে পারি না বলেই না মা কাছাকাছি বাড়ির কাজগুলো করে..
-- কিরে এভাবে কেউ বাসন মাজে। এই বাসনে খাবার খেলে তো পেট খারাপ করবে। তোর মা'টারও বলিহারি বুদ্ধি! বুদ্ধি করে মেয়েকে পাঠিয়ে দিল! সেই যদি আমাকেই ধুতে হয় তাহলে মেয়েকে পাঠালো কেন ? আর পাঠাবেই না কেন মাসের মাইনেটা যে নিতে হবে ! চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে অনামিকা কথাগুলো বলছে আর রিঙ্কিকে সরিয়ে দিয়ে বাসন গুলো ধুচ্ছে।
রিংকি কোন উপায় না দেখে বাথরুম থেকে হাফ বালতি জল নিয়ে এসে ঘরটা মুছতে গেল। তা দেখে অমনি তেলে বেগুনের জ্বলে উঠলো অনামিকা -- হ্যাঁ হ্যাঁ পুরো জলটাই ঢেলে দে। আমি পড়ে মরি! তোরা মা মেয়েতে সেটাই তো চাস। এতগুলো কথা শুনে খুব মন খারাপ রিংকির । অন্য বাড়িগুলোতেও তো যাই কই তারা তো এমন ভাবে বলে না? মাকে বলে দেব এখানে যেন আর কাজ না করতে আসে ভেবে কাকিমা আসছি বলে বছর বারোর রিংকি বাড়ি যেতে উদ্যত হলে, অনামিকা ঘর মুছতে মুছতে চেঁচিয়ে বলে খাবারটা কে খেয়ে যাবে? নাকি সেটাও নষ্ট হবে? খাবার টাকা পয়সা দিয়ে কিনতে হয় না? গুটিসুটি মেরে রিংকি বসে পড়ে খাবার জায়গায়। অনামিকা ঘরটা মুছে খেতে দেয় রিংকিকে। খাবার সামনে নিয়ে তাকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে দেখে আবারও ধমক দেয় অনামিকা। তা শুনে কোনোরকমে খেয়ে রিংকি রওনা দেয় বাড়িতে ।
রিংকির মুখ থেকে সব শুনে এবাড়ির কাজ ছেড়ে দেবে বলেই বাড়ি থেকে ঠিক করে এসেছিল তার মা ঝুমকি। রীতিমতো কাজ করেই খাই। কাজ করি বলেই টাকা দেয়। তাই বলে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বুঝবে না? ঝুমকিকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অনামিকা বলল -- কিরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছিস কেন কাজ করবি না ?
-- না দিদি আমি আর কাজ করবো না। আমার যা হয়েছে তুমি হিসাব বুঝিয়ে দাও। আমি চলে যাই।
-- সে যা কিন্তু রিংকি কে পাঠিয়ে দিস সকালে করে এখানে। ওকে আমার স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি। ও আমার সঙ্গেই যাওয়া আসা করবে। ওইটুকু মেয়েকে পড়াশোনা ছাড়িয়ে লোকের বাড়ি কাজ করতে পাঠাচ্ছিস!
-- সবই তো বোঝো দিদি।
-- বুঝি বলেই বলছি। আর তুই এই চিনলি আমায় এত বছরে! তোর মেয়েকে বকবো না তো কি করবো বল ? প্রথম দিন যখন এলো বললাম বস তোকে কোনো কাজ করতে হবে না। কি বললো জানিস, বললো মা বলে দিয়েছে সব কাজ করে যেতে। তা না হলে তোমার স্কুলের দেরি হয়ে যাবে। বললাম ঠিক আছে কিছু অসুবিধা হবে না! তবুও কথা শুনল না ভারি জলের বালতি তুলতে পারছে না তারপরও টেনে টেনে নিয়ে আসছে ঘর মোছার জন্য! বলতো খারাপ লাগে না ? আমার মামনও তোর বয়সী। কি করে কাজ করাই বলতো ওকে দিয়ে? তাই বকে ছিলাম কদিন, যাতে ওকে কাজ না করতে হয়। এমনিতে তো কথা শুনবে না বকুনি খেয়ে যদি কাজ না করে তাই। নে এখন কাজগুলো কর দেখিনি আমার আবার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর কাল ওকে নিয়ে আসিস সঙ্গে করে। ভুলে যাস না কিন্তু - বলে স্নানে গেল অনামিকা।
ভাবতে থাকে ঝুমকি - সত্যি মানুষ চেনা ভীষণ দায়। একদিন যাকে রাগী দিদিমণি বলে জানতাম, পান থেকে চুন খুঁজলেই চেঁচিয়ে যে উঠতো তারও যে এমন একটা মন আছে জানতেই পারেনি..
সেরা নতুন বাংলা গল্প,নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা বাংলা গল্প ,মন ভালো করার গল্প,মন ভালো করা নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা গল্প ,বাংলা গল্প ,mon valo kora bangla golpo ,romantic bangla golpo ,new bengali story ,মন ভালো করা সেরা বাংলা গল্প ,new bengali stories,সেরা গল্প ,popular bangla story ,bengali story and poetry ,
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন