শিরদাঁড়া - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।
শিরদাঁড়া
রূপবালা সিংহ রায়
হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে বাবা চলে যাবে ভাবতে পারেনি অম্বিকা। বয়স সতেরো-আঠারোর কাছাকাছি। তিন বোন ওরা। তিন মেয়েকে নিয়ে সাধারণ নিম্ন বৃত্ত পরিবারের গৃহবধূ তার মা পড়েন মাঝ দরিয়ায়। চিন্তায় চিন্তায় আর স্বামী হারানোর কষ্টে রুগ্ন শরীরটা আরো রুগ্ন হয়ে পড়ে। এর কাছে কাজ বেড়ান তিনি। শেষমেশ জুটে যায় এক বাড়িতে রান্নার কাজ। মাস খানেক ঠিকঠাকই চলছিল কিন্তু সেদিন দুপুরবেলা মা কাজের বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাথা ঘুরে পড়ে যান রাস্তায়। চেনা জানা একজন বাড়ি দিয়ে যায় তাঁকে। স্কুল থেকে ফিরে কথাখানা শুনে প্রাণটা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার যোগাড় হয় অম্বিকার। বাবাকে হারানোর পর এখন একমাত্র অবলম্বন বলতে মা। মাকে ছাড়া কি করে বাঁচবে তারা। তাই ঠিক করে মাকে আর কাজে না পাঠানোর। কিন্তু সংসারটা চলবে কি করে? বোনদের মধ্যে সবার বড় হওয়ার কারণে সংসারের দায়ভারটা বেশিই পড়ে তার ওপর। তাছাড়া সে নিজেই কোনো কাজ পাচ্ছে না তো ছোট বোনেরাও বা কি করে কাজ পাবে?-- ভাবতে ভাবতে জলভরা আবছা চোখ নিয়ে যায় গ্যারেজে থাকা বাবার গাড়িটার কাছে। বাবার শেষ স্মৃতি বলতে রয়েছে কেবল গাড়ি খানা। বাবা প্রথমে অন্য লোকের গাড়ি চালাতেন। তারপর একটু একটু করে টাকা পয়সা জমিয়ে কেনেন গাড়িখানা। গাড়িটা বেকার বেকার পড়ে আছে গ্যারেজে। গ্যারেজের মালিক আবার এ মাসের ভাড়াটাও চাইছে। কি করবে ভেবে দিশাহীন সে। গাড়িটাকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কান্না করতে শুরু করে সে। আর বলতে থাকে কেন চলে গেলে বাবা? কেন? তুমি ছাড়া আমরা বাঁচবো কিভাবে বাবা? আমি কিভাবে ভালো রাখব মাকে? বোনেদের পড়াবো কিভাবে? তাদের বিয়ে দেবো কিভাবে? কেন এত দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে গেলে আমার কাঁধে বাবা? কি করবো আমি এখন? -- কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল সেই দিদিটার কথা। সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ক্রসিং লেভেলে দাঁড়িয়ে ছিল সে। খানিকক্ষণ বাদে তার পাশে একটা গাড়ি এসে দাঁড়ায়। গাড়ির দিকে তাকাতেই চোখ পড়ে ড্রাইভারের দিকে। একটা মেয়ে চালাচ্ছিল গাড়িটা। চোখাচোখি হতে অম্বিকার দিকে তাকিয়ে একফালি হাসি দিয়ে চলে গিয়েছিল সে।
ওই দিদিটা যদি পারে, আমি কেন পারব না? ছুটে যায় বাড়িতে।
বাড়ি গিয়ে জানায় কথাটা মাকে। মা তো তা মানতে নারাজ। ভীত মা বোঝায় তাকে পথ ঘাটের অবস্থা। আজও মেয়েরা কতটা অসুরক্ষিত সেই কথা। রাত বিরাতে তার সঙ্গে যদি কিছু হয়ে যায়! কেউ বা কারা কোথাও যাওয়ার নাম করে যদি কোথাও নিয়ে গিয়ে যাতা করে তখন! মায়ের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারে না অম্বিকা। আশ্বস্ত করে রাতে গাড়ি না চালানোর জন্য। সেই সঙ্গে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেয় সে। অনেক বোঝানোর পর শেষমেষ মা রাজি হন। তার পর শিখতে শুরু করে গাড়ি চালানো।
আজ থেকে অম্বিকা প্যাসেঞ্জার নিয়ে ছুটে বেড়াবে শহরের এমাথা থেকে ওমাথা। মায়ের বলা কথাগুলো মনে করে একটু একটু ভয়ও পাচ্ছে তার। তবুও নিজেকে শক্ত করে উঠে বসলো গাড়িতে। স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখতে যাবে এমন সময় মা তাকে হাত বাড়াতে বলেন। সে হাতটা বাড়াতেই তার মা তার হাতে তুলে দেন মোটা একটা লোহার রড। রডটা হাতে পেতেই তার বাঁকা শিরদাঁড়ায় বয়ে যাওয়া ঠান্ডা স্রোতটা এক নিমেষে মিলিয়ে গিয়ে সেটা সোজা হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে তার মধ্যে বইতে শুরু করল শত শত সূর্যের কেন্দ্রবিন্দুর ন্যায় উত্তপ্ত জ্বলন্ত লাভার মত রক্ত স্রোত .....
সেরা নতুন বাংলা গল্প,নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা বাংলা গল্প ,মন ভালো করার গল্প,মন ভালো করা নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা গল্প ,বাংলা গল্প ,mon valo kora bangla golpo ,romantic bangla golpo ,new bengali story ,মন ভালো করা সেরা বাংলা গল্প ,new bengali stories,সেরা গল্প ,popular bengali story ,bengali story and poetry ,
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন