বিবাহ বিভ্রাট - রূপবালা সিংহ রায় // বাংলা গল্প // নতুন বাংলা গল্প।

 

বিবাহ বিভ্রাট

রূপবালা সিংহ রায় 


বাড়ি ভর্তি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী । গোধূলি লগ্নে বিয়ে , তাই দুপুর হতে না হতেই লেগেছে সাজগোজের ধুম । সময় মত বরই যদি না পৌঁছায় তাহলে বিয়েটা হবে কি করে ? সেই ভেবে জেঠু সবাইকে তাড়া দিচ্ছে । ছেলের বিয়ে বলে কথা না আছে মন খারাপের ঘন মেঘ , না আছে চাপা কান্না । বরযাত্রীরা সবাই প্রায় তৈরি । কিন্তু বর বেশী অনুপম একরাশ মন খারাপ আর এক বুক চাপা কান্না নিয়ে বসে রয়েছে। তার যেন যেতে ইচ্ছাই করছে না । মাঝেমধ্যে খুব রাগ হচ্ছে মায়ের ওপর । ইচ্ছা করছে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে । কিন্তু অসুস্থ বাবার কথা ভেবে নিশ্চুপ সে । 'বড় অসহায় মনে হচ্ছে নিজেকে । আর এইদিকে তৃণাকে দেখো কখন থেকে ফোন করে যাচ্ছি ফোন তোলারই নাম নেই তার ! দুটো মনের কথা বলে যে একটু হালকা হব তারও উপায় নেই ! এই বাবাটাই যে কেন মাকে বিয়ে করল কে জানে ? তা নাহলে আজ আমায় এই দিনটাই দেখতে হতো না । যত্ত সব সংসারটা আমি করবো নাকি মা করবে , যে তার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করতে হবে । তৃণাকে বললাম চলো যাই কালীঘাট থেকে বিয়ে করে আসি । একবার বিয়ে হয়ে গেলে মা আর কিছু বলতে পারবে না । কিন্তু না ওনার অমন পালিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছে নেই । আর পাঁচটা মেয়ের মতো সামাজিকভাবে হই হুল্লোড় করে বিয়ে করতে চান । বিয়ে নিয়ে নাকি ওনার অনেক আশা ! কর তুই তোর আশা পূরণ ! চললাম আমি বিয়ে করতে '-ভাবতে ভাবতে অনুপম গিয়ে উঠল গাড়িতে । 


দেখতে দেখতে গিয়ে পৌঁছলো কনের বাড়িতে । চারিদিকে আচার-অনুষ্ঠান ,হাসি-ঠাট্টা ,

আনন্দ-উৎফুল্লতা । কোনো কিছুতেই যেন মন বসছে না অনুপমের । টানা পাঁচ বছর একজনকে ভালোবাসার পর অন্য আরেকজনকে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে তার । কাকেই বা বোঝাবে সে ? মায়ের ওই এক কথা আমার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করতে হবে , তা না হলে নয় । আর তৃণার তো এ ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যথাই নেই । আচ্ছা ও কি আমায় সত্যি সত্যি ভালোবাসতো , নাকি টাইম পাস । এমন নানান প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তার । ফোন না হয় ধরতে পারছে না কিন্তু মেসেজগুলোর তো রিপ্লাই দিতে পারে ? দিন পনেরো আগে থেকে তার কোনো খবরই নেই । ওর বান্ধবী মিথিলার থেকে জানতে পেরেছে সে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে । সেদিন নাকি বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকেও গিয়েছিল । 'তাহলে ও কি আমার থেকে দূরে সরে যেতে চাইছে ? সেটা তো সরাসরি বলে দিতে পারে । তাহলে আর বিরক্ত করি না ওকে' - ভাবতে ভাবতে পকেট থেকে মোবাইলটা বার করে শেষবারের মতো ফোন করল তাকে । ফোনের এপারে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তৃণার গলার আওয়াজ শোনার জন্য । হঠাৎই ফোনের ওপার থেকে শুনতে পেল তৃণার কণ্ঠস্বর -'ছাদনা তলায় দাঁড়িয়ে টোপর পরে এখন মনে পড়ছে আমার কথা ? একবারও ভাবলেনা আমার কি হবে ? আমি কেন ফোন রিসিভ করছি না জানার প্রয়োজন মনে করলে না ? মা বলল আর অমনি অন্য একজনকে বিয়ে করতে চলে গেলে '? কথাগুলো শুনে থ হয়ে দাঁড়িয়ে অনুপম । তাহলে তৃণা কি কোনো সমস্যায় আছে ? এখন কি করব আমি ? চলে যাব ? তাহলে এই মেয়েটার কি হবে ? আর বিয়েটা যদি করি তাহলে কি আমরা সুখে থাকতে পারবো ? ওদিকে তৃণার কি হবে ? মাথাটা যেন ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে অনুপমের । চোখ দুটো ঝাপসা । কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না সে ?


ছোটবেলা থেকেই সবকিছুরই সমাধান মা । খেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়া হোক কিংবা পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল অথবা অন্য কোনো সমস্যা বা মন খারাপ । তাই বাধ্য হয়ে সে ফোন করলো তার মাকে । ফোনটা বাজতে দেখে হুইল চেয়ারে বসা অনুপমের বাবা তাঁর মাকে বললেন - ফোনটা তুলছো না কেন বুঝতে পারছি না ? বাবু এতবার করে ফোন করছে নিশ্চয়ই কোন দরকার আছে । অনুপমের মা বেশ মেজাজ দেখিয়ে বললেন - ফোন করছে তো করতে দাও । আমি ফোন তোলার প্রয়োজন বোধ করছি না । এই নাও , ওষুধটা খেয়ে শুয়ে পড়ো ।

- তুমি কি কাজটা ঠিক করছো নীলিমা ?

 - ঠিক ভুল জানিনা । তবে যেটা করছি ভালোর জন্যই করছি ।

- এখানে ভালোর কিছু তো আমি দেখতে পাচ্ছি না ! বাবুটা কত কষ্ট পাচ্ছে , তুমি কি বুঝতে পারছ সেটা ?

- পারছি ।

- কচু বুঝছো ! তাহলে আর ....

- আমি মা , কথাটা ভুলে যেও না ।

- ভুলিনি । তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি , তুমি অন্য আর পাঁচটা মায়ের মতো নও । তুমি হলে ...

- থামলে কেন বল ? বলে ফেলো আমি স্বার্থপর মা । নিজের স্বার্থ দেখি ।

- হ্যাঁ দেখই তো । তা না হলে ছেলেকে দিব্যি দিয়ে তার পছন্দের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য জায়গায় তাকে বিয়ে দিতে না । 

- ঠিক বলেছ তুমি । আমি স্বার্থপরই বটে, স্বার্থ না হলে কি এমন কাজ করতে পারতাম ! তবে বলতে পারো এখানে আমার স্বার্থটা কোথায় ?

- কোথায় আবার ? নিজের পছন্দের মেয়েকে বৌমা করলে আখেরে লাভটা তোমার নয় কি ?

- কেমন শুনি ?

- এখানে শোনা-শুনির কি আছে ? কারন বুঝতে কি কারো অসুবিধা হচ্ছে ?

- আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি !

- অবাক হওয়ার কি আছে ? যেটা সত্যি সেটা বলছি । বৌমা নিজের পছন্দের মেয়ে হলে সে তোমার কথায় উঠবে তোমার কথায় বসবে , যা বলবে তাই চোখ কান বুজে শুনবে তাছাড়া আর কি ? বাবুর পছন্দের মেয়ের শিক্ষিত-স্মার্ট , তুমি তো আর তার ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে না ...

- বলতে পারলে তুমি একথা ? তোমার মুখে একবারও বাধলো না ! তোমার কি মনে হয় যে মেয়ের সাথে বাবুর বিয়ে হচ্ছে সে অশিক্ষিত ? সেও বেশ লেখাপড়া জানা মেয়ে। যেমন মিশুকে তেমনি মিষ্টি আর সেই সঙ্গে লক্ষ্মীমন্ত বটে । আমি জোর দিয়ে বলতে পারি আমার কিছু হয়ে গেলে সে তোমার অনাদার করবে না । আর বাবুও ওকে বিয়ে করে সুখী হবে । 

- সে না হয় ঠিক আছে কিন্তু তুমি কি করে জানলে বাবুর পছন্দের মেয়ে সেসব কিছু করবে না ? 

- করবে নাই তো । তোমার দাদার বৌমাকে দেখোনা, বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কেমন আলাদা হয়ে গেল । নাতিটাকে পর্যন্ত আসতে দেয় না । ওই যে পাশের ডাক্তারদের বাড়ির ছেলেটা ভালোবেসেই তো বিয়ে করেছিল কি হলো টিকলো বিয়েটা ? বলিহারি এখনকার ভালোবাসা !

- এটা যুগের হাওয়া । যে ভালো হওয়ার সে হবে আর যে হবে না সে হবেই না । তুমি কদিন চেনো মেয়েটাকে ? সে যে ভালো মেয়ে তুমি জানলে কি করে ? 

- জানিনা ও ভালো কিনা মন্দ । দুদিন দেখে কি আর কাউকে চেনা যায় ? এই যে তুমি এত বছর দেখছো আমায় চিনেছ আমাকে ? নাকি আমি চিনেছি তোমাকে ?একটা মেয়ে তার বাবা-মা ভাই বোন , নিজের বাড়ি ঘর , আত্মীয়-স্বজন সবকিছু ছেড়ে যখন একটা অচেনা অজানা বাড়িতে আসে সে তো একলাই আসে তাই না । সে তো আর একদিনেই ভিলেন হয়ে যায় না । একটা মানুষের মধ্যে সব কিছু ভালো তো আর থাকে না তাই না ? ভালো মন্দ মিলেই মানুষ । আমরা তাকে মানিয়ে গুছিয়ে নেব । সে খুব ভালো মেয়ে । দেখবে ও ঠিক আমার মত করেই এই সংসারটা সামলে নেবে । তখন আমি একটু বিশ্রাম পাব ।আমি খুব ক্লান্ত জানো তো আর পারছিনা সবকিছু এক হাতে সামলাতে। 

- জানি আমি কিন্তু তাই বলে বাবুর দিকটা একটু ভাববে না ?

- এখানে ভাবা ভাবির কিছু নেই ? আমি অন লাইন শপিংএ বিশ্বাস করিনা । অফলাইনই ভালো । দেখে শুনে তো নিয়েছি খারাপ হলে হবে। তখন ভাববো আমার কপালটাই খারাপ । এ নিয়ে আর কথা বাড়িও না । আমার কথাই শেষ কথা ।

- ফোনটা তো অন্তত ধরো । ছেলেটা কি বলতে চায় শোনো একবার ?

- তোমার ছেলে কি বলবে জানি আমি । তাই আর ফোনে কথা নয় , আমি চললাম সেখানে । নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঘাড় ধরে তাকে বিয়ে দেব ।

 কথাখানা শুনে অনুপমের বাবাকে মুচকি হাসতে দেখে তার মা আবারো বললেন - লগ্ন পেরিয়ে যাবে ভেবে যদি হেসে থাকো তাহলে তুমি এক্কেবারেই ভুল । রাত একটাতেও একটা লগ্ন আছে । সুতরাং ওষুধ-টষুধ রাখো এখন , কারণ তুমিও যাচ্ছ আমার সঙ্গে । 


এদিকে মাকে ফোনে না পেয়ে অনুপম আবারও ফোন করলো তৃণাকে ।

- বারবার ফোন করো না আমায় । কি করব বুঝে উঠতে পারছিনা । ইচ্ছা করছে নিজেকে শেষ করে দিই । বাঁচার ইচ্ছা নেই আমার । তোমার কথা শুনলে হয়তো এই দিনটা আজ আমায় দেখতে হতো না । 

 তৃণাকে এভাবে কাঁদতে শুনে যেন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনুপমের । নিজেকে কিছুটা সামলে জিজ্ঞাসা করল - এমন উল্টোপাল্টা কথা বলো না প্লিজ । 

- বলবো না তো কি করব শুনি ? তুমি জানো তোমার মা সেদিন বাড়ি বয়ে এসে বাবা মাকে যা না তাই বলে গেছে । তাই শুনে বাবা আমার বিয়ে অন্য জায়গা ঠিক করেছে । আজ বিয়ে । তোমায় যে বলব ফোনটা পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছিল ।

'মা এমনটা করতে পারল'- ভেবেই একরাশ রাগ অভিমান আর ঘৃণা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল অনুপমকে।


সামনে মাকে দেখে রাগে সারা শরীর জ্বালা করে উঠলো অনুপমের । মা যে এমন হতে পারে ভেবে চোখে জল চলে এলো তার । এদিকে বিয়ে শুরু হয়ে গেছে । এত লোকের সামনে কিছু বলতে পারছে না সে । তার উপর বাবা বসে রয়েছে সেখানে । এইসব হচ্ছে ওই মায়ের শিক্ষা । রাগ হলেও তা প্রকাশ করতে পারছে না । শুধু চোখ দুটো ছল ছল করছে । বুকের ভেতরটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে । ওদিকে তৃণার কি হচ্ছে কে জানে ? মেয়েটা ঠিক আছে তো ? ও যে বলেছিল ...

না না কি সব উল্টোপাল্টা ভাবছি আমি ! আজ না হয় নাই করলো , কাল-পরশু কিংবা তারপরে যদি.... 

ওফ্! যত্ত সব উল্টোপাল্টা চিন্তা ভাবনা আমার । বিয়েটা হয়ে যাক এই মেয়েটাকে এত জ্বালান জ্বালাবো যে বাধ্য হয়ে চলে যাবে । তখন আসুক না মা কিছু বলতে আমায় । একটা কথা তখন কে শোনাতে পারে দেখব ? - ভাবতে ভাবতে তাকালো বাবার দিকে । বাবারও মন খারাপ । খুব কষ্ট পাচ্ছে সেও । কিন্তু মা'র কি তাতে কিছু আসে যায় ! দেখো কি সুন্দর সবার সঙ্গে গল্প করছে ! এমন কেন হয়ে গেলে মা ? একবারও তুমি আমার কথা ভাবলে না । তুমি তো এমন ছিলে না । 


হঠাৎ করে একটা চেনা কন্ঠস্বর শুনে ঘুরে তাকাতেই বোকা বনে গেল অনুপম । তৃণা না ! হ্যাঁ কনের সাজে তৃণাই তো ! তাহলে ও কি সেই মেয়ে যার সঙ্গে আমার বিয়ে হচ্ছে ? নাকি ও মিথিলার কাছে খবর পেয়ে এখানে পালিয়ে এসেছে ? হতেও পারে , তৃণা যেমন মেয়ে ওর দ্বারা কোনো কিছুই অসম্ভব নয় । বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালো সে । কিছুটা এগিয়ে যেতে শুনতে পেল তৃণা মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করছে -আপনি কেন এসেছেন এখানে ? এত কিছু করেও শান্তি হয়নি ? এখন নিজে চোখে দেখতে এসেছেন আমার অবস্থা ? প্রতিশোধ নিচ্ছেন না ? কি ক্ষতি করে ছিলাম আপনার শুনি ? আপনার ছেলেকে ভালোবাসাটাই আমার ভুল হয়েছে । কোন কু-ক্ষণেই যে আমার ওর সাথে দেখা হয়েছিল কে জানে ? সবই আমার অদৃষ্ট ! আর কেনই বা সেদিন পাকামো করে আপনার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম ? ভগবানই জানে ! 

- এখন বুঝতে পারছো তো সারপ্রাইজ দেওয়ার ফল ।

- সে আর বলতে !

- সারপ্রাইজ দেওয়ার এত শখ যে সোজা হাজির স্কুলে ! একটুও ভয়ডর নেই ! অত বড়ো স্কুলের হেড মিস্ট্রেসকে সারপ্রাইজ দিতে চলে গেলে ! তাও আবার যে সে ব্যাপারে নয় । আচ্ছা হেড মিস্ট্রেসকে না হয় বাদই দিলাম , হবু শাশুড়ির সামনে অমন ভাবে যেতে একটুও বাধলো না ? লোকে বাবা-মাকে বুঝিয়ে পাঠায় , তা না হলে অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করে । আর তুমি কি করলে ? জিন্স টপ পরে সোজা হাজির ! আর কথার কি বাহার ! অচেনা অজানা একজনের সঙ্গে অমন ভাবে কেউ কথা বলে ? কারো সঙ্গে কথা বলার আগে ভালো-মন্দ কিছু জিজ্ঞাসা তো করতে হয় ? কি বলেছিলে মনে আছে ? বলেছিলে - 'দেখুন আমি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলতে পারি না । যা বলতে এসেছি সেটাই বলছি । আপনার ছেলে আপনার ভয়ে পালিয়ে বিয়ে করতে চাইছে । কিন্তু আমি অমন চোরের মত বিয়ে করতে চাই না । আমরা দুজন দুজনকে পাঁচ বছর ধরে চিনি । দুজনের মধ্যে বনডিংও ভালো আছে । তাই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । হ্যাঁ, আমি জানি আমার মধ্যে অনেক কিছু খারাপ আছে । আমি ঘরের কোনো কাজ-বাজ পারি না । আপনি শিখিয়ে পড়িয়ে নেবেন । কোনো কিছু শেখালে আমি শিখে যাই । আর একটা কথা , একদিনে কি কোনোদিনই আমি আপনাকে বা আঙ্কেলকে মানে আপনার স্বামীকে নিজের বাবা-মার জায়গা দিতে পারব না । তবে এমনটা ভাববেন না যে আমি আপনাদের দেখবোই না । এ্যানড ওয়ান মোর থিংস যেটা আমি আমার মা আর বৌদিকে দেখে শিখেছি , শাশুড়ি বৌমার সম্পর্ক হল আদা কাঁচ কলার মতো । কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না , হাতেগোনা দু একজন ছাড়া । তাই বৌমাকে মানে আমাকে মেয়ে বানাতে যাবেন না । তার থেকে ভালো একটা সমঝোতা করা । বিয়ের পর তো বর সংসারী সন্ন্যাসীর মত হয়ে যায় তখন আমি তো প্রায় একাই হয়ে যাব । আর আপনি তো একাই আছেন । দুজন বন্ধু হলে মন্দ হয় না । তাই বলে ভাববেন না ঝগড়াঝাটি হবে না । আমি বন্ধুদের সঙ্গেও কিন্তু ঝগড়া করি । তারপর নিজে ভুল করলে সরি বলি আর বন্ধুর ভুল হলে তার থেকে সরি বলিয়েই ছাড়ি । আরেকটা কথা আপনার আর আমার বয়সের ডিফারেন্সটা অনেকটাই বেশি , তাই বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে । এবার আপনি রাজি থাকলে বলুন । তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই । ছেলের বিয়ে বলে কথা । ভাবনা চিন্তা করুন । আমার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিন । তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন । এই কাগজটা নিন এতে আমার নাম ,এ্যাড্রেস ,ঠিকুজি সব লেখা আছে । চললাম '... কি এখন চুপ কেন ? বলোনি এসব ? অনেক ভাবলাম জানো তো । আর তাছাড়া তোমার কথাগুলো মন্দ লাগেনি । শুনতে কর্কশ হলেও বাস্তব । আমার আর কি ? দিনের অর্ধেকটা সময় তো স্কুলেই বকে কাটিয়ে দিই । বাকি অর্ধেক সময় বাপ ছেলের পেছনে বকরবকর করে কাটাই । আর একজন না হয় দলে ভিড়বে । ভেবেছিলাম সবাইকে আমার মতামতটা জানিয়ে দিই । তারপর ভাবলাম না আমিও যে কম যাই না, সেটা একটু বোঝানো দরকার তাই তোমার মা-বাবার সঙ্গে মিলে এইসব করা .....

মন ভালো করা নতুন বাংলা গল্প ,মন ভালো করা গল্প ,বাংলা গল্প ,mon valo kora bangla golpo ,romantic bangla golpo ,new bengali story ,মন ভালো করা সেরা বাংলা গল্প ,new bengali stories,সেরা গল্প ,popular bengali story ,bengali story and poetry ,



#বিবাহ_বিভ্রাট

#রূপবালা_সিংহ_রায়....🖋️

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।