স্বাধীনতার সুখ - রূপবালা সিংহ রায় // স্বাধীনতার গল্প।
স্বাধীনতার সুখ
রূপবালা সিংহ রায়
রান্নাঘরে রাতে রান্না করছে নীলম। কানে ভেসে আসছে শাশুড়ি মায়ের কণ্ঠস্বর তিনি কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন -- আর বোলো না দিদি। এখনকার মেয়েরা কি আর কথা শোনে! আমার বৌমার কথাই ধরো না , নাচ শেখায় নিজের নাচের স্কুল আছে। তা বাপু সেখানে শেখাও না! আমি তো বারণ করিনি। কি বলছো? শুনতে পাচ্ছি না ...ও কোথায়? সে ওর বাপের বাড়ির ওখানে। এখন চাইছে বাড়িতে মানে আমাদের নিচের তলার বড়ো হল ঘরটাতে স্কুল খুলতে। বলো দেখি এর কোনো মানে হয়? বাড়ির বউ বাড়িতেই ধেই ধেই করে নাচবে! আমাদের সময় হলে না ওসব ঘুচে যেত। অ্যাঁ কি বলছো? বারণ করিনি কেন? বারণ আবার করিনি! শুনলে তো!-- বলে বসার ঘর থেকে নীলমের শাশুড়ি ছন্দা দেবী ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে চলে গেলেন নিজের ঘরে । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথাটা নাড়িয়ে রান্না করতে করতে ভাবতে থাকে নীলম -- বারণ করেননি আবার! যখন দেখলেন শুনছি না খাওয়াটাই বন্ধ করে দিলেন! তারপর আর কি, হলো তো সুগার ফল। মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন! কে দেখল সেই আমি ছাড়া তো দেখার লোক তো নেই। চেঁচিয়ে কথাটা বলতে গিয়েও বলল না সে।
আজ স্বাধীনতা দিবস। সাদা শাড়ি পরে তৈরি নীলম। ইতিমধ্যে দু-চারটে বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েও চলে এসেছে। ছেলে রক্তিমও সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরে পতাকা ঠিক করছে। একটু পরেই পতাকা উত্তোলন হবে । তারপর নাচের স্কুলের সাইনবোর্ডটা টাঙানো হবে। সকালে ছেলে এসে একটা সাদা শাড়ি দিয়ে গেছে ছন্দা দেবীকে। যার মধ্যে গেরুয়া ও সবুজ কাজ করা। যেতে ইচ্ছা করছে না মোটেও তাঁর তবুও ছেলের কথা ফেলতে পারলেন না তিনি। শাড়িটা পরে নামলেন নিচে। যথারীতি পতাকা উত্তোলন শেষ হল ছেলে আর বৌমা মিলে উত্তোলন করলো। এবার স্কুল উদ্বোধনের পালা। বুকের মধ্যেটা যেন চিন চিন করছে ছন্দা দেবীর। সহ্য হচ্ছে না তাঁর, বৌমার এই বাড়াবাড়ি, যশ, খ্যাতি স্বাধীনচেতা মন আর দৃঢ় সংকল্প। তবুও মুখ বুজে দাঁড়িয়ে সে। ছেলে বৌমা ধরাধরি করে সাইনবোর্ডটা নিয়ে এলো। তারপর নীলম গেল তাঁর কাছে। বলল -- সাইনবোর্ডের কভার টা খুলতে। রাগে পায়ের তলা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বালা করছে ছন্দা দেবীর -- ও নিশ্চয়ই এটা করছে আমাকে হেয় করার জন্য। ও এত কিছু করে আমি কিছু করি না, করতে পারি না সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। ইচ্ছা করছে উপরে চলে যেতে কিন্তু আশেপাশের কয়েকজন পাড়া-প্রতিবেশীও সেখানে উপস্থিত তার চলে যাওয়াটা অশোভনীয় হবে তাই বাধ্য হয়ে নীলমের কথা মতো গেল সাইনবোর্ড এর কাছে। সাইনবোর্ডের মোড়কটা খুলতেই দেখল তাতে লেখা আছে "ছন্দা ডান্স একাডেমী" দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল তাঁর। এই নামের একটা নাচের স্কুল খোলার স্বপ্ন ছিল তাঁর। পূরণ হয়নি তা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন নাচটাই ছাড়িয়ে দিল নাচের স্কুল তো দূরের কথা। নাইবা হল নিজের স্কুল নিজের নামের স্কুল তো হল। আর হোক না সেটা বৌমার স্কুল সেও তো আমার নিজের মেয়েরই মতো।
-- কি মা নামটা পছন্দ হয়েছে তো? নীলমের কথায় সম্বিত ফিরে চোখ মুছতে মুছতে তিনি বললেন -- খু...ব। তারপর নীলমের হাত দুটো ধরে বললেন --মা মনে করে সব ভুলে যেও মা। অনেক বড় হোক তোমার এই স্কুল
-- তোমার স্কুল মানে? এটা আপনার স্কুল। আপনি শেখাবেন ওদের নাচ
-- আমি! তোমার কি মাথা খারাপ হল বৌমা!
-- আমার মাথা একদম ঠিক আছে মা
-- কিন্তু আমি কি পারব
-- পারবেন আর তাছাড়া আমি তো আছি সাথে অত ভয় কিসের?
সাইনবোর্ডটাতে হাত বোলাতে বোলাতে ছন্দা দেবী তাকান বাতাসে উড়তে থাকা তেরেঙ্গা টার দিকে
#স্বাধীনতার_সুখ
#রূপবালা_সিংহ_রায়...✍🏻
#bengali_story_and_poetry #sadhinotarkobita #everyone #everyoneシ゚ #independenceday2025 #independencedaystory #banglagolpo #bengalistory
@সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন