নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হয় - রূপবালা সিংহ রায় // Bangla Golpo // Bengali Story ।

 

নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হয় 

রূপবালা সিংহ রায়


মন ভালো করা নতুন বাংলা গল্প // মন ভালো করা গল্প // বাংলা গল্প // mon valo kora bangla golpo // romantic bangla golpo // new bengali story // মন ভালো করা সেরা বাংলা গল্প // new bengali stories// সেরা গল্প // popular bengali story // bengali story and poetry 


কে বলবে এটা শ্রাবণ মাস! বিশ্রী একটা আবহাওয়া! এই কাঠফাটা রৌদ্র আর বীভৎস গরম তো এই এক ফসলা বৃষ্টি! এই করে করে দেবিকার লেগে গেছে সর্দি কাশি। সেই সঙ্গে নতুন উপসর্গ হলো জ্বর। গতকাল সারাদিনই ভালো ছিল যদিও মাঝেমধ্যে একটু কাশি হচ্ছিল আর নাক থেকে হালকা সর্দি বের হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাতের বেলা জ্বর আসায় পড়ল মহাবিপাকে। যদিও মাঝ রাতে একটা প্যারাসিটামল খেয়ে ছিল তাতে যে কাজ হয়নি এখন সকাল সাতটায় তা সে ভালোই টের পাচ্ছে সে । ওদিকে শাশুড়ি মা চেঁচিয়ে যাচ্ছেন এখনো রান্না চাপানো হয়নি বলে। তার ওপর জলখাবার বানাতে হবে সবার জন্য, বিশেষ করে ননদ দিপ্তীর জন্য। সে আবার প্রেগন্যান্ট বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকতে পারবে না। মেয়ে টিয়াকে আবার স্কুলে পাঠাতে হবে, তার টিফিন চাই। এক মনে ভাবল আজ আর স্কুলে পাঠাবো না আর এক মনে ভাবলো না পাঠিয়েই দিই। আগামীকাল আবার স্বাধীনতা দিবস সেই জন্য সে স্কুলে গান করবে। আজ তার ফাইনাল রিহার্সাল আছে। তারপর আবার বিপিনের (দেবিকার স্বামী) তাড়াতাড়ি বেরোনো আছে। সে আবার খেয়ে যাবে। তাই আর শুয়ে থাকতে পারলো না সে । গা টা এখনো গরম সেই সঙ্গে মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। তবুও কোনো রকমে গিয়ে বসিয়ে দিল দুটো আলু সেদ্ধ ভাত। আজ আর বেশি কিছু করবোনা একটু ডাল আর বেগুন ভাজা। আর শুকনো করে সবজি দিয়ে ডালিয়া করব যা টিফিনেও হয়ে যাবে আর সবার জলখাবার ও। সেই মতো কিছুটা গুছিয়ে গেল টিয়াকে ঘুম থেকে তুলতে। আস্তে করে ডেকে তুললো তাকে পাছে ছেলের কানে আওয়াজ না যায়। তার বয়স আবার মাস ছয়েক এখনই যদি উঠে পড়ে তো আর রক্ষে থাকবে না! মেয়েকে ব্রাশ করে পড়তে বসতে বলে সে আবারো গেল রান্নাঘরে। এদিকে পুজোর ঘর থেকে শোনা যাচ্ছে কাঁসর ঘন্টার আওয়াজ। তার মানে শাশুড়ি মায়ের পুজোর শেষ হলো। এবার চায়ের জলটা না বসালেই নয়। তার আবার চা না খেলে মাথা ধরে। নিজের জন্য যে একটু আদা চা করে নেবে একেবারে তারও উপায় নেই, তিনি আবার আদা চা খান না।


 কিছুক্ষণ পরে শুনতে পেল ফ্রিজ খোলার আওয়াজ পেছন ঘুরে তাকাতেই সে দেখলো শাশুড়ি মা ফ্রিজ থেকে মাছ আর মাংস বের করছে। খুব রাগ হলো তার তবুও নিজেকে সংযত করে নিজের কাজ করতে লাগলো। এমন সময় শাশুড়ি মা এসে বললেন -- ডাল বসিয়েছে যে বৌমা আজ যে ইলিশ মাছ আর মাংস হওয়ার কথা ছিল কালই তো দীপ্তি বলে রেখেছিল! তুমি কি আজকাল কানেও কম শুনছো ?


-- মা আমার জ্বর এসেছে আজ থাক কাল বরং করে দিই 


-- আজ থাক মানে তুমি দেখছো মেয়েটা বমি করতে করতে কিছু খেতে পারছে না তার একটু স্বাধ হয়েছে আর তুমি বলছ আজ থাক। তোমাদের নিয়ে বাপু আর আর পারিনা! তোমরা একেবারে ফুলের ঘায়ে মুছরে পড়ো। একটু কিছু হলো কিনা হলো একেবারে এলিয়ে পড়লে।


 ঘুম থেকে উঠে মায়ের গলা শুনে রান্না ঘরে গেল বিপিন। তাকে দেখে আরো পাঁচ সাত রকমের কথা বলতে শুরু করল তার মা। কি করবে ভেবে না পেয়ে সে দেবিকাকে বলল -- আচ্ছা ঠিক আছে এখন করতে হবে না এখন খেয়ে দেয়ে ওষুধ খেয়ে একটু জিরিয়ে নাও পরে দুপুরের দিকে না হয় করে দিও। আমি ডাল ভাত খেয়েই চলে যাচ্ছি। 


এতক্ষণ চুপচাপ কথাগুলো শুনছিলো বছর সাতের টিয়া। সে বইটা বন্ধ করে রেখে দিয়ে এসে বলল -- কেন বাবা, তুমি কেন মাকে রান্না করতে বলছ? তুমি দেখছো না মায়ের শরীর খারাপ! শরীর খারাপ হলে কেউ কাজ করে নাকি? কই তুমি তো কাজে যাও না? আমি তো স্কুলে যাই না, ঠাম্মি পুজোটাও পর্যন্ত দেয় না! তাহলে মা কেন কাজ করবে? আর পিপির যদি খেতে ইচ্ছা করে পিপি রান্না করুক, তা নাহলে ঠাম্মি করে দিক। মা তুমি বলে দাও তুমি করতে পারবে না। কই বল। নিজের অসুবিধা কথা নিজেকেই তো বুঝতে হয় মা। তুমি তো বলো সবসময় নিজেরটা নিজে বুঝে নিবি অন্যে সেটা কখনোই তোকে বুঝে দেবে না। তাহলে কি তুমি ভুল বল ?


বিয়ের পর থেকে এত বছরেও কেউ এমন ভাবে তাকে বলেনি যে নিজেরটা নিজে বুঝে নিবি এমনকি তার নিজের মাও নয় যতবারই কোনো কিছু নিয়ে মাকে বলতে গেছে মা ততবারই বলেছে - সংসারে থাকতে গেলে মা নিজের আগে অন্যের কথা ভাবতে হয়


 সে চায়নি তার মায়ের মত এই ধারণাটা টিয়ার মধ্যে যেতে দিতে। কারন সে এতদিনে খুব ভালোভাবেই বুঝেছে যে মানুষের কাছে সহজ হলে তারা সহজলভ্য ভাবতে শুরু করে। আর তাদের চাহিদা তো কোনদিনই পূরণই হয় না বরঞ্চ বেড়েই চলে। তাই দিনশেষে নিজের লড়াইটা নিজেকেই লড়তে হয় , নিজের ভালো মন্দ নিজেকেই দেখতে হয়।


না না তাকে আজ না বলতেই হবে তা নাহলে টিয়াও তো শিখবে না নিজেরটা নিজেকে বুঝে নিতে। তাই সে বলল --মা আমি দুপুরের জন্য ডাল ভাজা বানিয়ে দিয়েছি আর সকালের জন্য ডালিয়া। এতেও যদি না হয় আমার কিছু করা নেই আর যদি একান্তই ও দিয়ে খেতে না পারে দীপ্তি তাহলে ও নিজে করে নিক তা না হলে আপনি করে দিন বলে সে টিয়ার টিফিন বাক্সে টিফিন ঢোকাতে লাগলো।


-- ঠিক আছে বলে তার শাশুড়ি মা মাছ আর মাংসের বাটিটা তুলে রাখতে গেলেন । তা দেখে এক আলাদা আনন্দ অনুভব করতে লাগলো সে।


#নিজেরটা_নিজেকেই_বুঝে_নিতে_হয়

#রূপবালা_সিংহ_রায়...✍🏻


#banglagolpo #bengalistory #bengali_story_and_poetry #TopFan #golpo #newbengalistory 

@সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।