হ্যাপি মাদার্স ডে - রূপবালা সিংহ রায় //Happy Mother's Day // Bangla Golpo //Bengali Story ।

 

হ্যাপি মাদার্স ডে

রূপবালা সিংহ রায়


আর্মি পরিবারের গৃহবধূ যশোদা। স্বামী ভাসুর সবাই রয়েছে আর্মিতে। শ্বশুরমশাইও ছিলেন। এই জন্য পাড়ায় তাদের বিশেষ খ্যাতিও রয়েছে। তার একমাত্র ছেলে বিহানেরও ইচ্ছে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। বাবা জেঠুর সঙ্গে সীমান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে তা দেখে সবাই তাকে সেলাম ঠুকছে, আর সে ঠুকছে তার দেশমাতৃকা ভারত বর্ষকে - এই স্বপ্ন দিন রাত তাড়া করে বেড়াতো তাকে সেই ছেলেবেলা থেকে। সবার তার সিদ্ধান্তে সম্মতি থাকলেও সম্মতি ছিল না তার মা যশোদার। সে যখনই তার মাকে বলতো সে দেশের সেবা করতে চায় তখনই তার মা বলতো দেশের সেবা করতে গেলে আর্মিতে যেতে হবে তার তো মানে নেই! ডাক্তার হ তুই তারপর বিনামূল্যে চিকিৎসা কর গরীব দুঃখী কে, তাও যদি না পারিস মাস্টার হ ও পড়া ছোট ছোট বাচ্চাদের তাদের মানুষের মত মানুষ করে তোল। আরো কিছু উদাহরণ দিতে গেলে বিহান তাকে থামিয়ে দিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে। তখন চোখ দুটো ছল ছল করে ওঠে তার। সেই বিয়ের পর থেকে এক বুক ভরা উৎকণ্ঠা নিয়ে কাটিয়েছে সে এতটা বছর তার স্বামীর চিন্তায়। তারপর তার জীবনে আসে বিহান। তাকে নিয়েই তার সংসার। সেও যদি চলে যায় তার কি হবে! যদিও বছর খানিকের মধ্যে তার স্বামীর রিটায়ার হয়ে যাবে। তার ইচ্ছা স্বামী ফিরে এলে বাকিটা জীবন স্বামী সন্তান নিয়ে শান্তিতে কাটাবে। কিন্তু মাস ছয়েক পর তার ইচ্ছায় জল ঢেলে দেয় বিহানের নামে আসা একটা চিঠি। মাকে লুকিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল সে। পাস করে গেছে, যেতে হবে ট্রেনিং এ। আকাশ ভেঙে পড়ে যশোদার মাথায়। দুঃখে, কষ্টে, চিন্তায়, অভিমানে, আশঙ্কায় গায়ে জ্বর চলে আসে তার। পুরো চব্বিশ ঘন্টা পর উঠে বসে সে। জ্বরের ঘোরে জ্ঞান না থাকলেও বুঝতে পারে সে দিন রাত্রি এক করে বিহান বসেছিল তার শিয়রে। মুহূর্তে মুহূর্তে মাথায় জলপট্টি ঘুরিয়ে দিচ্ছিল আর বলছিল তুমি ঠিক হয়ে যাবে মা। চিন্তা করো না আমি তো আছি। সত্যি বিহান বড় হয়ে গেল‌। মনে পড়ে গেল সেদিন বলা বিহানের সঙ্গে বলা কথাগুলো -- আমার বয়স হয়ে গেলে বা অসুখ-বিসুখ করলে কে দেখবে আমায়? বিহান বলেছিল -- মা সে দায়িত্ব যেমন আমি অস্বীকার করতে পারি না তেমনি এই দেশমাতার সুরক্ষার দায়িত্বটাও তো অস্বীকার করতে পারি না... তোমরা মায়েরা যদি এভাবে আমাদের আটকে রাখো তাহলে এই দেশ মায়ের কি হবে? আর দেশ মা যদি বিপদে থাকে তাহলে সেখানে মানব মায়েরা কিভাবে নিশ্চিন্তে থাকবে! আর বাধা দেয়নি যশোদা। বিহান আর্মিতে গেছে আজ পাঁচ বছর হল।


 হঠাৎ করে যুদ্ধ বাঁধলো শত্রু দেশের সঙ্গে। বিহানের পোস্টিং সেখানে। গতকাল থেকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। খবরে দেখাচ্ছে হঠাৎ করে রাতের আঁধারে শত্রুরা আক্রমণ করেছে হতাহতের খবর ঠিকঠাকভাবে জানা যাচ্ছে না। বাড়িতে সবাই অস্থির। পায়চারি করছে বিহানের বাবাও। প্রতিবেশীরাও খবর নেওয়ার জন্য বাড়িতে আসা যাওয়া করছে। কিন্তু স্থির যশোদা-- কিছু হতে পারে না আমার বিহানের। তবুও বসে সে ঠাকুর ঘরে। মনে মনে জঁপে যাচ্ছে সবাইকে রক্ষা করো ঠাকুর, সবাইকে রক্ষা করো। আমার দেশবাসী কারো যেন কোনো ক্ষতি না হয়। তুমি দেখো ঠাকুর, তুমি দেখো। হঠাৎ করে দুপুর নাগাদ বিহানের ফোন। তার গলার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে যশোদা। দৌড়ে গিয়ে বলে ---এতক্ষণ বাদে মনে হল মায়ের কথা? কাল থেকে কেন তোর ফোন বন্ধ? ফের আগে কানটা মুলে দিই কেমন করে দেখিস...

 

 -- সে না হয় দিও কিন্তু আগে তো আমার কথা শোনো 


-- বল 


-- হ্যাপি মাদার্স ডে মা ভালো থেকো..


-- তুইও ভালো থাকিস আর ভালো রাখিস, সুরক্ষিত রাখিস আমাদের দেশ মাতাকে। আর হ্যাঁ তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস...


-- আসবো মা আসবো, খুব তাড়াতাড়ি আসবো। জয় হিন্দ...


-- জয় হিন্দ


#হ্যাপি_মাদার্স_ডে

#রূপবালা_সিংহ_রায়...🖋️©️






সাঁঝবাতির রূপকথায় - Rupbala Singha Roy

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ন্যায় বিচার - রূপবালা সিংহ রায় // Nay Bichar by Rupbala Singha Roy // Bengali Poetry // Pujor Kobita // Poetry On Durga Puja.

সবার আমি ছাত্র – সুনির্মল বসু // Sobar Ami Chatro // Teachers day poem

শরৎ - রূপবালা সিংহ রায় // Sorot Kobita // Durga Puja Kobita// পুজোর কবিতা // দুর্গা পূজার কবিতা।